Home /News /explained /
EXPLAINED: কোভিড সংক্রমিত হওয়ার কতদিনের মধ্যে অ্যান্টিভাইরাল বড়ি খেতে হবে? পড়ুন

EXPLAINED: কোভিড সংক্রমিত হওয়ার কতদিনের মধ্যে অ্যান্টিভাইরাল বড়ি খেতে হবে? পড়ুন

উচ্চ-ঝুঁকির রোগীদের ক্ষেত্রে দুটি বড়িই হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যুর সম্ভাবনা কমিয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থা দুটি।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: সম্প্রতি কোভিড আক্রান্ত রোগীদের দুটি চিকিৎসা বিকল্প রয়েছে, যা তাঁরা বাড়িতে থেকেই অনুসরণ করতে পারেন। উপসর্গগুলি দেখা দেওয়া মাত্রই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বড়ি (Pills) খাওয়া শুরু করতে হবে। যদিও সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হল টেস্ট করা, প্রেসক্রিপশন পাওয়া এবং কম সময়ের মধ্যেই বড়ি খাওয়া শুরু করা। মার্কিন কোভিড নিয়ন্ত্রকরা গত বছরের শেষের দিকে ফাইজারের (Pfizer) বড়ি প্যাক্সলোভিড (Paxlovid) এবং মার্কের (Merck) ল্যাগেভরিও (Lagevrio) অনুমোদন করেছে। উচ্চ-ঝুঁকির রোগীদের ক্ষেত্রে দুটি বড়িই হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যুর সম্ভাবনা কমিয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থা দুটি।

কাদের বড়ি খাওয়া উচিত?

কোভিড পজিটিভ হলেই অ্যান্টিভাইরাল বড়ি (Antiviral Pills) খাওয়া যায় না। এগুলি হালকা বা মাঝারি সংক্রমিতদের জন্য প্রয়োজনীয়, যাদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এটি বয়স্ক, হৃদরোগ, ক্যানসার বা ডায়াবেটিসের মতো অন্যান্য সমস্যা রয়েছে, এমন লোকজনের জন্য, যাদের গুরুতর কোভিড সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দুটি বড়িই প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত। তবে, প্যাক্সলোভিড ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্যও অনুমোদিত।

কাদের বড়ি খাওয়া উচিত নয়?

মার্কের ল্যাগেভরিও বড়ি শিশুদের জন্য অনুমোদিত নয়। কারণ এটি হাড়ের বৃদ্ধিতে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। জন্মগত ত্রুটির সম্ভাবনার কারণে এটি গর্ভবতী মহিলাদের জন্যও সুপারিশ করা হয় না। গুরুতর কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকা রোগীদের জন্য ফাইজারের বড়ি সুপারিশ করা হয় না। অ্যান্টিভাইরাল বড়িগুলি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কোভিড রোগীদের জন্যও অনুমোদিত নয়।

কখন বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে?

উপসর্গ দেখা দেওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে। কাশি, মাথাব্যথা, জ্বর, স্বাদ বা গন্ধ হারানো, পেশি এবং শরীরের ব্যথা হল কোভিডের সাধারণ কয়েকটি উপসর্গ। উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই টেস্ট করাতে হবে। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ক্যামেরন উলফ বলেছেন, "যদি শ্বাসকষ্ট শুরু না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়, তবে ইতিমধ্যে অনেকাংশে বড়ি খাওয়ার সঠিক সময় পার করে ফেলা হয়। কারণ সঠিক সময়ে খেলেই বড়ি কাজে দেবে।"

বড়ি কোথায় পাওয়া যাবে?

ফার্মেসি, কমিউনিটি হেল্থ সেন্টার, হাসপাতালে অ্যান্টিভাইরাল বড়ি পাওয়া যায়। তবে অবশ্যই একজন ডাক্তার বা অন্য অনুমোদিত স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে আসতে হবে। এখন অনলাইনেও অ্যান্টিভাইরাল বড়ি কিনতে পারা যাবে। অনেক সাইট রয়েছে, যারা টেস্ট ও চিকিৎসা পরিষেবা দিতে পারে। বড়িগুলির সরবরাহ প্রাথমিকভাবে কম ছিল, কিন্তু এখন প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে।

সদ্য আক্রান্ত রোগীদের জন্য কি অন্য বিকল্প আছে?

হ্যাঁ, তবে এটি পাওয়া সহজ নয়। ফেব্রুয়ারিতে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি বেবটেলোভিমাবের (Bebtelovimab) অনুমোদন দিয়েছে। তবে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কোভিড রোগীদের জন্য বা যাদের অক্সিজেনের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের বেবটেলোভিমাব দেওয়া যাবে না। ওষুধটি মার্কিন ফার্মা জয়ান্ট এলি লিলির (Eli Lilly) তৈরি। এটি ওমিক্রন প্রজাতিকে টার্গেট করে। হালকা থেকে মাঝারি সংক্রমণ রয়ছে এমন প্রাপ্তবয়স্ক এবং কিশোরদের ব্যবহারের জন্য এই ওষুধটি অনুমোদিত, যাদের হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

আর অন্যান্য চিকিৎসা কী আসতে পারে?

জাপানি ওষুধ নির্মাতা শিওনোগি (Shionogi) আরেকটি অ্যান্টিভাইরাল বড়ি নিয়ে পরীক্ষা করছে। প্যাক্সলোভিডের ডোজ পাঁচদিন দিনে দু'বার করে খেতে হয়। সেখানে শিওনোগির বড়ি মাত্র পাঁচদিন দিনে একবার করেই নিতে হবে।

সম্প্রতি, কোম্পানিটি তাদের প্রস্তুত করা একটি পিলের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালিয়েছে। শিওনোগি জানিয়েছে যে তাদের ওষুধটি উল্লেখযোগ্যভাবে কোভিডের ভাইরাল লোড কমিয়েছে। পাঁচদিনের চিকিৎসায় রোগীদের উপসর্গগুলি কমিয়েছে। এখন বয়স্ক বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এই বড়ির কার্যকারিতা খতিয়ে দেখার জন্য সংস্থাটি বড় আকারে গবেষণা চালাচ্ছে। গত মার্চে শিওনোগি ঘোষণা করেছিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তারা বিশ্বজুড়ে তাদের ওষুধের তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা শুরু করবে। কোম্পানিটি জানিয়েছে যে তারা এক বছরে এই ওষুধের এক কোটি ডোজ উৎপাদন করতে সক্ষম। তাদের ওষুধের অনুমোদনের জন্য শিওনোগি ইতিমধ্যেই জাপানি ওষুধ নিয়ন্ত্রকের কাছে আবেদন করেছে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের নিয়ন্ত্রকদের কাছেও আবেদন করার পরিকল্পনা করেছে। ২০২২ সালের শেষের দিকে শিওনোগির ওষুধ বাজারে আসতে পারে।

First published:

Tags: COVID-19 Pills

পরবর্তী খবর