Home /News /explained /
Coronavirus | Long Covid: উপসর্গহীন সংক্রমণও কি নিয়ে যেতে পারে লং কোভিডের দিকে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

Coronavirus | Long Covid: উপসর্গহীন সংক্রমণও কি নিয়ে যেতে পারে লং কোভিডের দিকে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

লং কোভিড উপসর্গ

লং কোভিড উপসর্গ

Coronavirus | Long Covid: লং কোভিড বা দীর্ঘস্থায়ী কোভিড হল এমনই এক রোগ যার বিশেষজ্ঞরা এখনও পুরোপুরি হদিস দিতে পারেননি।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: কোভিড থেকে নিরাময় হওয়ার পরেও, অনেক মানুষ এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব (Post Covid-19 Symptoms) নিয়ে চিন্তিত। করোনাভাইরাস (Coronavirus | Long Covid) মহামারীর দু'বছর অতিক্রম করেছি আমরা। ইতিমধ্যে সার্স কোভিড ২ ভাইরাস সম্পর্কে অনেক কিছুই উদঘাটিত হয়েছে। গুরুতর থেকে মৃদু কোভিড ১৯ সংক্রমণের মোকাবিলা করা হয়েছে। বিজ্ঞানী এবং পেশাদার চিকিৎসকরা কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য। বিভিন্ন ওষুধও তৈরি করে চলেছেন তাঁরা। তবুও এই মারাত্মক ভাইরাসের অস্তিত্ব তথা প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা ও সন্দেহের অবকাশ থেকেই যাচ্ছে।

লং কোভিড কী লং কোভিড বা দীর্ঘস্থায়ী কোভিড (Coronavirus | Long Covid)  হল এমনই এক রোগ যার বিশেষজ্ঞরা এখনও পুরোপুরি হদিস দিতে পারেননি। কোভিড-আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরীক্ষা করার পরেও নেগেটিভ থাকছেন। কিন্তু শরীরে অসুস্থতাও থাকছে খুব। রিপোর্ট নেগেটিভ অথচ রোগের সম্পূর্ণ লক্ষণ রয়েছে এমন রোগীর সন্ধান মিলেছে প্রচুর। গুরুতর ভাবে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘ কোভিড লক্ষণগুলির জন্য চলছে দেশ জুড়ে গবেষণা। গবেষণা অনুসারে, প্রায় ৫-১০ শতাংশ রোগী হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে চিকিৎসা করছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগী সহ প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীদের দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ নিয়ে ভুগতে থাকার খবর মিলেছে ইতিমধ্যেই। করোনা সংক্রমনের নতুন এই প্রবণতায় আক্রান্ত হয়েছেন বহু মানুষ। গবেষণায় দেখা গিয়েছে উপসর্গহীন ব্যক্তিরাও দীর্ঘ স্থায়ী কোভিডে আক্রান্ত। কীভাবে? জেনে নেওয়া যাক।

অ্যাসিম্পটমেটিক বা উপসর্গহীন কোভিড রোগীদেরও কি দীর্ঘ কোভিড পারে?

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে অনেকেই তাঁদের কোভিড সংক্রমণের সময় কোনও উপসর্গ অনুভব করেননি, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী জটিলতার শিকার হয়েছেন। একটি অলাভজনক স্বাস্থ্য সংস্থা তাঁদের সমীক্ষায় জানিয়েছে, প্রায় সিংহভাগ অ্যাসিম্পটমেটিক করোনাভাইরাস রোগী তাঁদের প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের এক মাস পরে দীর্ঘ কোভিডের সঙ্গে মিলে যায় এমন অবস্থার শিকার হয়েছেন।একটি সমীক্ষা অনুসারে, নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, "এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ রোগীর পজিটিভ পরীক্ষার দশ দিনের মধ্যে তাঁদের প্রাথমিক করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোনও লক্ষণ ছিল না।"

আরও পড়ুন : কম বয়সী দম্পতিদের মধ্যে বন্ধ্যাত্ব: কারণ এবং সমাধান

লস অ্যাঞ্জেলেসের সিডারস-সিনাই মেডিকেল সেন্টারের গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্ত রোগীরা যাঁরা হালকা সংক্রমণে (Coronavirus | Long Covid)  ভুগছিলেন বা উপসর্গহীন ছিলেন তাঁরাও দীর্ঘ কোভিডের সংক্রমণে আক্রান্ত ছিলেন বা দীর্ঘস্থায়ী লক্ষণে ভুগছিলেন। জেরুজালেম পোস্ট এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

জার্নাল অফ ট্রান্সলেশনাল মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণায় ১৭৭ জন রোগী যাঁরা অতীতে এই রোগে সংক্রমিত হয়েছিলেন, তাঁদের তথ্য বিশ্লেষণ করার পর দেখা যাচ্ছে যাঁরা সার্স কোভ-২ (SARS-CoV-2) সংক্রমণে পূর্বে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের শরীরে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার ছয় মাস পর্যন্ত প্রচুর পরিমাণে অটোঅ্যান্টিবডি থাকে।

অটোঅ্যান্টিবডিগুলি হল পদার্থ বা একটি অ্যান্টিবডি। যা এক ধরনের প্রোটিন। একজন ব্যক্তির নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম দ্বারা তৈরি হয় অর্থাৎ এটি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা। এই অটোঅ্যান্টিবডিগুলি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপাদানগুলিকে ধ্বংস করে এবং ব্যক্তির নিজস্ব প্রোটিনকে আক্রমণ করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে স্ব-আক্রমণকারী অটোঅ্যান্টিবডিগুলি গুরুতর সংক্রমণের দিকে পরিচালিত করতে পারে এবং এমনকী দীর্ঘ কোভিডের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে মানুষের শরীরে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে রিপোর্ট অনুসারে, কোভিড ১৯ (COVID-19)-এ কিছু অটোঅ্যান্টিবডি (Coronavirus | Long Covid)  সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের নিজস্ব অঙ্গ এবং টিস্যুতে বা কোষে আক্রমণ করতে পারে। যা দীর্ঘ কোভিডের দিকে পরিচালিত করে মানবদেহকে।

লং কোভিডের সম্ভাবনা 

সেল জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় চারটি কারণ পাওয়া গিয়েছে। যা আমাদের দীর্ঘ কোভিড হওয়ার সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারেযেমন, রক্তে মিলিত জীবাণুর উপস্থিতি।অটোঅ্যান্টিবডির উপস্থিতি নষ্ট হয়ে যাওয়া।সংক্রমনের নতুন ধাপে ভাইরাসের পুনরায় সক্রিয়করণ জটিল করতে পারে রোগীর শরীরকে। টাইপ ২ ডায়াবেটিস।

টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও ঝুঁকি থাকে লং কোভিডের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও দীর্ঘ সময় পরও কোভিডে আক্রান্ত হতে পারেন। এক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং সংক্রমণ থেকে দূরে থাকার জন্য সমস্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে বিশ্বের সেরা স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি। কোভিড থেকে বাঁচতে নিয়মিত মাস্ক পরিধান করার পাশাপাশি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবিলম্বে টিকা নেওয়া বা বুস্ট করার কাজও করতে হবে। যদিও কোভিড ১৯ ভ্যাকসিনগুলি ভাইরাসের একশো শতাংশ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে না, তবে এটি হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে কার্যকর বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন : বুস্টার ডোজ থেকে পাওয়া সুরক্ষা কতক্ষণ স্থায়ী হয়? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েস্ট অফ স্কটল্যান্ডের (University of the West of Scotland) গবেষকদের করা একটি গবেষণায় কোভিড-পরবর্তী অবস্থার সঙ্গে যুক্ত ১০০টিরও বেশি লক্ষণ পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে একে লং কোভিড (Long COVID) নাম দেওয়া হয়েছে। এই শব্দটিই বর্তমানে রোগীদের অবস্থা বর্ণনা করার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বাক্যাংশে পরিণত হয়েছে। এটি বিস্তৃতভাবে এমন আক্রান্ত ব্যক্তিদের বর্ণনা করে যারা গুরুতর স্তরের কোভিড-১৯ থেকে সেরে উঠেছে, কিন্তু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কোভিড থেকে সেরে ওঠার পরেও তাদের মধ্যে লক্ষণগুলি অনুভূত হচ্ছে বা খুব ধীরে ধীরে রোগীরা সেরে উঠছে।

লং কোভিডের সাধারণ দীর্ঘস্থায়ী লক্ষণগুলি কী কী? গবেষকরা বলছেন, সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী কোভিড লক্ষণগুলি অনেকটাই সংবেদনশীল, যেমন শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, শরীরে ব্যথা এবং শরীরে ক্লান্তির ছাপ ইত্যাদি দেখা যায়। বিভিন্ন দেশের সরকারের তরফে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে তুলনা করলে দেখাও যাচ্ছে যে এই বিবৃতিটি একেবারেই সত্য।। ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (US Centres for Disease Control and Prevention) দ্বারা প্রকাশিত লক্ষণগুলির তালিকাটি বিস্তৃতভাবে চারটি বিভাগ তুলে ধরেছে।

সুতরাং, যারা করোনাভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত বা ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাঁদের বোঝা উচিত দীর্ঘস্থায়ী কোভিড লক্ষণগুলি (Post Covid Symptoms) কী, যাতে তাঁরা এই প্রভাবগুলি হ্রাস করতে পারেন।

কীভাবে এই উপসর্গ চেনা যাবে? ১. চিন্তা করতে হয় এমন কাজের মোকাবিলা করা কঠিন মনে হতে পারে। এটি ব্যক্তির দৈনন্দিন কাজকর্মের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। ব্যক্তি প্রায়শই বিধ্বস্ত অনুভব করবে এবং এমনকী মাঝে মাঝে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা তার পক্ষে কঠিন হবে।

২. শ্বাসকষ্টের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে শ্বাস নিতে অসুবিধা বোধ করা, দীর্ঘস্থায়ী বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসযন্ত্রের ট্র্যাক্টে ভিড় এবং অন্যান্য। শ্বাসকষ্টের সমস্যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। কোভিড থেকে সেরে ওঠার পর রোগীদের মধ্যে স্বাদ ও গন্ধ হারানো, মাথাব্যথা, স্নায়ু ও পেশিতে ব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত, চলাফেরার সমস্যাও পাওয়া গিয়েছে। এই লক্ষণগুলি আমাদের কাছে সাধারণ বলে মনে হতে পারে, তবে একবার যদি কেউ এই রকম লক্ষ্য করেন তবে বাড়তে দেওয়া উচিত নয়। এই রোগের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

আরও পড়ুন : শুধু শ্বাসকষ্টই নয়, কোভিড সংক্রমণের ফলে দেখা দেয় পেট ব্যথার মতো উপসর্গও, জানুন বিশদে!

৩. একটি গবেষণা সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, দীর্ঘস্থায়ী কোভিডের লক্ষণগুলি তীব্র কোভিডের লক্ষণগুলির থেকে আলাদা নয়, শুধু পার্থক্য এটাই এগুলির তীব্রতা প্রাথমিক ভাইরাসে আক্রান্তের সময়কার তীব্র সংক্রমণের থেকে কম। সামান্য শারীরিক বা মানসিক ক্রিয়াকলাপ ছাড়াই যখন ব্যক্তির শরীর সম্পূর্ণভাবে ক্লান্ত বোধ করবে তখন আমাদের বোঝা উচিত যে এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী কোভিড উপসর্গ এবং এর দ্রুত চিকিৎসা হওয়া উচিত।

৪. মস্তিষ্কের আলস্য সবচেয়ে সাধারণ আরও একটি লক্ষণ। গবেষকরা ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করেছেন কর্মহীনতার প্রবৃত্তি বা মস্তিষ্কে ধোঁয়াশার সমস্যাকে। এটি তখনই হয় যখন ব্যক্তি কোনও কিছু সম্পর্কে চিন্তা করার সময় অলস বোধ করে এবং তার যুক্তিবোধ অস্বচ্ছ হয়ে পড়ে।

৫. কোভিড পরবর্তী কিছু লক্ষণের মধ্যে অন্যতম হল থ্রম্বোএমবলিজম। ধমনীতে রক্ত জমাট বেঁধে এর ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হতে পারে। তবে কোভিড থেকে আরোগ্য লাভ করা ৫ শতাংশেরও কম রোগীর মধ্যে এই লক্ষণ দেখা যায়।

৬. পালমোনারি এমবলিজম আর একটি লক্ষণ যেটি কোভিড থেকে সেরা ওঠা মানুষদের মধ্যে দেখা যায়। এখানে ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার ফলে শ্বাসকষ্ট হয় এবং রক্তচাপ কমে যায়। এই ধরনের রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন।

৭. আরও একটি কোভিড পরবর্তী লক্ষণ হল হাই ডি-ডিমার লেভেল। এক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধায় রোগীকে ২-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। অনেক সময় সেরে ওঠার পর শুকনো কাশি হয়। যার ফলে ফুসফুসের ওপর চাপ পড়ে। এক্ষেত্রে জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার মতে ব্যায়ামের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। প্রচন্ড কাশি হলে বুকের ওপর চাপ সৃষ্টি হয় এবং বুকের খাঁচায় ব্যথা করে।

Published by:Sanjukta Sarkar
First published:

Tags: COVID-19, Long Covid

পরবর্তী খবর