Corona-Black Fungus: ব্ল্যাক ফাঙ্গাস-করোনার তৃতীয় তরঙ্গে কতটা ঝুঁকির মুখে শিশুরা, জানালেন বিশেষজ্ঞরা!

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ও করোনার তৃতীয় তরঙ্গে কতটা ঝুঁকির মুখে শিশুরা, জানালেন বিশেষজ্ঞরা!

বেশিরভাগ শিশুর হালকা জ্বর, কাশি, বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা, জ্বালা, গলা ব্যথা, শরীরে ব্যথা এবং ক্লান্তির মতো লক্ষণ দেখা যায়।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: টিকা দেওয়ার যোগ্য না হওয়া পর্যন্ত কী ভাবে বাচ্চাদের সুরক্ষিত রাখা যায়?

বর্তমানে আমরা শিশুদের উপর হওয়া ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ফলাফলগুলির জন্য অপেক্ষা করছি। এবং খুব শীঘ্রই এর ফলাফল আমরা পেয়ে যাব বলে আশা করছি। এরই মধ্যে, পরিবারের প্রাপ্তবয়স্কদের উপর রয়েছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাচ্চাদের রক্ষা করার দায়িত্ব। কারণ তারাই বাচ্চাদের সংক্রমণের বাহক হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ২ বছর বয়সের উর্ধ্বে সকল বাচ্চাকে মাস্ক পরা প্রয়োজন। গ্রুপে খেলাধুলো এড়াতে পারে। বাচ্চাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত।

কোভিডের জন্য প্রাথমিক কী লক্ষণ রয়েছে, যা অভিভাবকদের লক্ষ্য করা উচিত?

বেশিরভাগ শিশুর হালকা জ্বর, কাশি, বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা, জ্বালা, গলা ব্যথা, শরীরে ব্যথা এবং ক্লান্তির মতো লক্ষণ দেখা যায়। এগুলি যে কোনও সিজনাল ফ্লু-এর স্বাভাবিক লক্ষণ। এই সমস্ত সমস্যার সমাধানে পারিবারিক চিকিৎসক বা শিশু বিশেষজ্ঞের প্যারাসিটামল বা অন্যান্য সাধারণ ওষুধ দিয়ে থাকেন।

আমরা অভিভাবকদের বাড়িতে একটি সাধারণ উপসর্গ সংক্রান্ত চার্ট বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছি যা আপনার চিকিৎসকদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। এবং ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, এক বা দু'দিনের জন্য কাজ থেকে ছুটি নিন এবং বাড়িতে বাচ্চাদের তদারকি করুন।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (Black Fungus) কী? এটি কি শিশুদের হতে পারে?

ব্যাক ফাঙ্গাস (Black Fungus) বা মিউকরমাইকোসিস (Mucormycosis) সংক্রমণ একটি বিরল ছত্রাকের সংক্রমণ। ছত্রাক সাধারণত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন কোনও সুস্থ ব্যক্তিকে সংক্রামিত করতে পারে না। যাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তারাই এই ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হতে পারে। তাই এদেরকে সুবিধাবাদী অণুজীব বলে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কোভিডে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের সম্ভাবনা একেবারেই কম। তবে ICU-তে থাকাকালীন বাচ্চাদের নজরদারির ক্ষেত্রে আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

যেহেতু ভাইরাসটি বায়ুবাহিত, তবে কি বাচ্চাদের বাড়ির বাইরে যেতে দেওয়া উচিত নয়?

নতুন নির্দেশিকা অনুসারে ড্রপলেটস গুলি ১০ মিটার পর্যন্ত সংক্রমণ ছড়াতে পারে, তাই বাচ্চাদের সাধারণ খেলার মাঠে খেলতে না দেওয়া বাঞ্ছনীয়। বাড়ি থেকে বেরোনো অবশ্যই এড়ানো উচিত। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। ২ বছর বয়সের উর্ধ্বে বাচ্চাদের পাবলিক প্লেস এবং বাড়ির মধ্যে বাইরের লোক থাকলেও মাস্ক পরা উচিত। মাস্কের পাশাপাশি ৬ ফুট দুরত্বও বজায় রাখতে হবে।

যদি পরিবারের কারও (যাদের সঙ্গে ওই বাচ্চা থাকেন) করোনার উপসর্গ বা কোভিড পজেটিভ রিপের্ট আসে তবে সেই বাড়িতে বাচ্চাদের মাস্ক পরা উচিত।

বাচ্চাদের জন্য ভ্যাকসিন কখন পাওয়া যাবে? তাদেরও কি দু'টি ডোজই নিতে হবে?

১২ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য টিকা ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে; এর পরে, ১২ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের ভ্যাকসিন নিতে আরও ছয় থেকে আট মাস সময় লাগবে। তাদের অবশ্যই দু'টি ডোজ নেওয়া দরকার।

জানা গিয়েছে করোনার তৃতীয় তরঙ্গে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিশুরা। কেন?

কোভিড ১৯ ভাইরাসটি শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে, সে বিষয়ে এখনও কোনও প্রমাণ মেলেনি। প্রথম তরঙ্গ বিশেষত প্রবীণ নাগরিকদের এবং দ্বিতীয় তরঙ্গ প্রাপ্তবয়স্কদের উপর বেশি প্রভাব ফেলায় এই গোষ্ঠীর অনেকেরই শরীরে অনাক্রম্যতা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি তারা ভ্যাকসিনেশনের সুবিধাও পেয়েছে। যা ১৮ বছরের কম বয়সীরা পায়নি। তাই তাদের সংক্রমিত হওয়ার একটা ঝুঁকি থেকে যায়। যেহেতু এই বিভাগটি দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ, তাই তৃতীয় তরঙ্গ এলে তা শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদি কোনও শিশু ইতিমধ্যে সংক্রমিত হয়ে সুস্থ হয়ে ওঠে, তবে অনাক্রম্যতা কত দিন স্থায়ী হবে?

কোভিড সংক্রমণের পরে অনাক্রম্যতা ছয় মাস থেকে শুরু করে দশক ধরে চলতে পারে। তবে এই সুরক্ষার সঠিক সময়কাল এখনও জানা যায়নি।

কোন ধরনের খাবার শিশুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে?

ভারসাম্যযুক্ত, পুষ্টিকর, আয়রন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য, মাল্টিভিটামিন এবং অন্যান্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট অনাক্রম্যতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং খেলা-সহ ভালো ঘুম এবং সুষম জীবনযাত্রা ইত্যাদি প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

উত্তর দিয়েছেন ড. সমীর হাসান দালওয়াই (Dr Samir Hasan Dalwai), ন্যাশনাল জয়েন্ট সেক্রেটারি, ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টাল বিহেভায়ারাল পেডিয়াট্রিসিয়ান, নিউ হরাইজন চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, মুম্বই।সঙ্গে রয়েছেন ড. গণেশ কুলকার্নি (Dr Ganesh Kulkarni),সিনিয়র পেডিয়াট্রিসিয়ান, ন্যাশনাল একজিকিউটিভ বোর্ড ফ দ্য ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিকসের প্রাক্তন সদস্য তথা ঔরঙ্গাবাদের সঞ্জীবনী চিলড্রেনস হসপিটালের ডিরেক্টর।

Published by:Raima Chakraborty
First published: