বান্ধবী সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল? বচসা তৃতীয়জনকে নিয়ে? আত্মঘাতী বাংলা সিরিয়ালের মহিলা অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর

কস্টিউম ডিরেক্টর পূজা গায়েন। ছবি সৌজন্যেঃ ফেসবুক।

তিন বান্ধবী মিলে গভীর রাত পর্যন্ত চলে আকণ্ঠ মদ্যপান। আড্ডা খাওয়া-দাওয়াও চলছিল তাল মিলিয়ে। কিন্তু আচমকা দুই বান্ধবীর মধ্যে শুরু হয় বচসা। তারপরেই আত্মঘাতী হন টলিউডের সহকারী পরিচালক পূজা গায়েন।

  • Share this:

    #কলকাতাঃ তিন বান্ধবী মিলে গভীর রাত পর্যন্ত চলে আকণ্ঠ মদ্যপান। আড্ডা খাওয়া-দাওয়াও চলছিল তাল মিলিয়ে। কিন্তু আচমকা দুই বান্ধবীর মধ্যে শুরু হয় বচসা। অশ্রাব্য ভাষায় একে ওপরকে গালিগালাজ শুরু করেন। মাত্র কিছুক্ষনের মধ্যেই দরজা বন্ধ করে গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন বাংলা সিরিয়ালের থার্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর বা কস্টিউম ডিরেক্টর পূজা গায়েন (২৬)। আদপে পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা পূজা গায়েন বর্তমানে নেতাজিনগরে তাঁর দিদির ফ্ল্যাটে থাকতেন। বিবাহবিচ্ছিন্না পূজা বাংলা সিরিয়ালের কস্টিউম ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করতেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পূজা জিনা সরকার নামে এক বান্ধবীকে ফোন করে নেতাজিনগরের ওই ফ্ল্যাটে আসতে বলেন। জিনা যখন সেখানে পৌঁছয় তখন সেখানে আগে থেকেই তাঁদের আর এক বান্ধবী টুম্পা রায় উপস্থিত ছিল। এরপর তিন বান্ধবী একসঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা দেন, খাওয়া দাওয়া হয়, মদ্যপান করেন। এরপর আচমকাই শুরু হয় তাঁদের মধ্যে অশান্তি। যার পরিণতি হয় মর্মান্তিক। স্থানীয়দের অনেকের দাবি, দুই বান্ধবীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। একে ওপরের বহুদিনের পরিচিত। অনেক সময় তাঁদের একসঙ্গে দেখা যেত। ফলে সেই সম্পর্কের মধ্যে তৃতীয় বান্ধবীর প্রবেশই অশান্তির সূত্রপাত কিনা, তা নিশ্চিত নয়। তবে পুলিশ এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানায়নি।

    এ দিকে জিনা জানিয়েছেন, এ দিন আচমকাই পূজার সঙ্গে ফ্ল্যাটে উপস্থিত বান্ধবী টুম্পার বচসা শুরু হয়। একে ওপরকে উদ্দেশ্য করে নানা কুরুচিকর মন্তব্য করছিল। অশান্তি ছরমে উঠলে পূজা ঘুমের ঔষুধ খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। সেইসময় টুম্পা তাঁর মুখেচোখে জল ছিটিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু তাতে সে কোনও কথা শুনতেই রাজি হয়নি। বরং তাঁদের ঘর থেকে বের করে দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দেয়। মিনিট পাঁচেক পরে ফের তাঁরা পূজাকে ডাকাডাকি শুরু করেন। সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজায় বার বার ধাক্কা দেন। কিন্তু তাতেও কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। এরপর দু'জনে মিলে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পূজাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

    এরপর কোনও সময় নষ্ট না করেই গামছা কেটে তাঁকে নিচে নামিয়ে বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান দুজনে। খব্র দেওয়া হয় পুলিশেও। যদিও চিকিৎসকের পূজাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহ ইতিমধ্যেই ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। এ দিন টলিউডের এই সহকারী পরিচালকের মৃত্যুতে অনেকেই হতবাক। আচমকা কেন পূজা এমন সিদ্ধান্ত নিলেন ভেবেই পাচ্ছেন না সহকর্মীরা।

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: