বিনোদন

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘আমিও চাই আন্নাকালীর কঠিন শাস্তি হোক, কিন্তু লোকে আমাকেই খুনি ভাবছে, অভিশাপও দিচ্ছে’, একান্ত আড্ডায় প্রীতি

‘আমিও চাই আন্নাকালীর কঠিন শাস্তি হোক, কিন্তু লোকে আমাকেই খুনি ভাবছে, অভিশাপও দিচ্ছে’, একান্ত আড্ডায় প্রীতি

‘‘লোকে ‘খুনি’ তকমা দিয়ে দিচ্ছে । এমনকি এও লিখেছে, তোমার ছেলে-মেয়েকে এ ভাবে মরতে হবে । ’’

  • Share this:

প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও কখনও নায়িকার রোলে কাজ পান না । কিন্তু আক্ষেপ থাকলেও বিরক্তি নেই । জমকালো ভিলেনের রোলে তিনি যেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী । বললেন, ভিলেন করতে তাঁর ভাল লাগে । তাঁর তৈরি ডায়লগ চরম জনপ্রিয় । মন খুললে প্রীতি বিশ্বাস যেন একেবারে ঘরের মেয়ে । একান্ত সাক্ষাৎকারে গল্প জমালেন সিমলি রাহার সঙ্গে ।

প্র: রাস্তায় বেরোলে কি লোকে গালমন্দ করে ?

উ: না, ঠিক ওরকম করে না । আজকাল দর্শকরা খুব স্মার্ট হয়ে গিয়েছেন । আগের মতো ব্যাপারটা নেই । তবে হ্যাঁ, কেউ যে কিছুই বলে না তা নয় । হয়তো কেউ কাছে এসে আলাপ করল, সেলফি তুলল । আবার না থাকতে পেরে কেউ কেউ বলেই ফেলেন, ‘এই তুমি এত বদমায়শি কেন করছো গো ? একটা মেয়ে’কে তুমি মেরেই ফেললে ?

প্র: বিয়ের দিনেও নাকি এ রকম অভিজ্ঞতা হয়েছিল ?

উ: হ্যাঁ গো, শ্বশুরমশাই’কে লোকে ডেকে বলেছে ন, কেমন বৌমা ঘরে আনলেন । যা ঝগড়ুটে । আবার হয়তো আমার শাশুড়ি মা, ননদ বিয়ের নেমন্তন্ন করতে গিয়েছেন । তখনও কেউ কেউ বলেছেন, তোমার বৌ’তো খুব ঝগড়ুটে । একজন’কে খুনও করেছে । আরে এটা তো বুঝতে হবে, ওটা অভিনয় । তাছাড়া সিরিয়ালে আমার বড়, বড় ছেলে-মেয়ে, বরও অনেক বড়...লোকে সেটাই বিশ্বাস করে নেয় । রাহুলকে এসে লোকে বলেছে, ‘শেষে জেঠিমা’কে বিয়ে করলি ?’

প্র: এতো জবরদস্ত ভিলেন কী করে হলে?

উ: সত্যি বলতে কী আন্নাকালী ভিলেন হলেও তার কোনও আলাদা সাজপোশাক, উগ্র মেকআপ নেই । সাধারণ গ্রামের বৌয়ের সাজেই সে ভিলেন । এ বার সেটা করাটা হয়তো একটু টাফ ছিল । নিজেকে ভিলেন রূপে প্রতিষ্ঠা করা... একটু সময় তো লাগেই । কিন্তু এটাই তো অভিনয়, এটা তো আমাকে করতেই হবে ।

প্র: আন্নাকালীর চরিত্রটার মধ্যে নিজের কতটা ইনপুট রয়েছে?

উ: কী বলতো, আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার চরিত্রের মধ্যে কিছু একটা নিজস্ব ছাপ রাখতে । যখন ‘রমণীর গুণে’ করছিলাম, সাহানাদি সবার সামনে আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছিল । বলেছিল, কীভাবে এরকম ভাবে করতে পারলি । ওখানেও চরিত্রটা নিজের মতো করেই গড়েছিলাম । এগুলো সবই আমার নিজের ইনপুট । ‘সুহানী’তে যেমন ‘সৌরভ’ কথাটা । ওটাও নিজেই তৈরি করেছিলাম । গ্রামে শো করতে গেলেই সবাই অনুরোধ করত ‘সৌরভ’ বলে ডাকার জন্য । যেমন জাদুকরী’র চরিত্রে ‘তমশা’ কথাটা এমন করে বললাম যে সেটাই হিট করে গেল । আন্নাকালীও তেমন অনেকটাই নিজের মতো করে তৈরি ।

প্র: আর আন্নাকালীর জনপ্রিয় কথাটা কার তৈরী?

উ: ‘ও মা রে’ কথাটাও পুরোপুরি আমার নিজের তৈরি । পরিচালকের থেকে অনুমতি নিয়েই এই কথাটা আমার চরিত্রের মুখে আমি বসিয়েছিলাম । সেটাই তারপর তুমুল জনপ্রিয় হয়ে গেল।

প্র: আন্নাকালী’র মধ্যে কী X-Factor দেখলে ?

উ: আন্নাকালীর মধ্যে সত্যিই অনেক X-Factor রয়েছে । ওঁর এই যে মিষ্টি মিষ্টি কথার ছুরি, চালচলন...সবটা মিলিয়েই অন্যদের চেয়ে আলাদা আন্নাকালী ।

প্র: তোমাকে নায়িকার রোলে দেখতে পাই না কেন ?

উ: আমার প্রোফাইলে এসে অনেকেই এরকম বলেন, আগেও অনেক জায়গায় এ প্রশ্নটা করা হয়েছে । লোকে বলে, তোমার মধ্যে তো সবরকম গুণ রয়েছে, তাহলে তুমি নায়িকার চরিত্রে নেই কেন ? সত্যি কথা বলতে, এর উত্তরটা আমিও জানি না । এত বছর ধরে আমি কাজ করছি, কিন্তু সব সময় সেকেন্ড লিড বা পার্শ্ব চরিত্র । আমি তো অনেক ছবিও করেছি । মিঠুন দা’র সঙ্গে করেছি । ‘রং রুটে’ হিরোইন ছিলাম । সেখান থেকেই রাহুলের সঙ্গে আমার আলাপ । ভোজপুরী ছবিতেও আমার নিজস্ব একটা বড় জায়গা রয়েছে । সেখানেও আমি হিরোইন । কিন্তু সিরিয়ালে লিড পাই না বলে প্রথমে এটা নিয়ে খুব দুঃখ করতাম । তারপর দেখলাম সেটা যখন হওয়ার নয়, তখন আমার কাছে যে চরিত্র আসছে সেটাই মন-প্রাণ লাগিয়ে করব । আর একটা সিরিয়ালে হিরো-হিরোইন আর ভিলেনই প্রধান । তখন ভাবলাম তা হলে ভিলেনটাই আমি নিজের মতো করে করব ।

প্র: শুরুর গল্পটা একটু বলো? অনেক ছোটবেলা থেকে তো শুরু...

উ: আমি নাচ শিখতাম । সেখান থেকেই আমাদের পরিচিত এক কাকু আমাকে স্নেহাশিস চক্রবর্তীর কাছে নিয়ে আসেন । তারপর থেকে ছোটখাট কয়েকটা চরিত্র করেছিলাম । সেই হিসাবে প্রথম ব্রেক পাই ‘বেহুলা’তে । সেখানে চাঁদ সদাগরের বিধবা পুত্রবধূ হয়েছিলাম । তখন আমার ১৭-১৮ বছর বয়স । তারপর এটাই যে কখন পেশা আর নেশা হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না । একে একে অনেক কাজই করলাম এত বছরে ।

প্র: সৌদামিনীর সংসার একটু অন্য ধাঁচের সিরিয়াল। দর্শকরা কেমন ভাবে নিচ্ছেন?

উ: খুবই ভাল ভাবে নিচ্ছেন । দেড় বছর অতিক্রম করে ফেললাম আমরা । আসলে সৌদামিনীর নিজস্ব একটা জায়গা রয়েছে । গ্রামে যখন শো করতে গিয়েছি, এটা খুব ভালভাবে বুঝতে পেরেছি । দর্শকরা রাত ১১টা পর্যন্ত জেগে থাকেন সৌদামিনী দেখার জন্য । বাচ্চাদের কাছে তো সদু দিদি ভীষণ প্রিয় । আর আমি ততটাই অপ্রিয় (হাসি) ।

প্র: আন্নাকালী আর প্রীতির মধ্যে কতটা মিল?

উ: (হো হো হো) একদমই মিল নেই । একটুও না । ঝগড়া করতে আমি একটুও ভালবাসি না । প্রীতি’কে যাঁরা চেনেন, তাঁরা জানেন । কোথাও কারও এতটুকু উপকারে লাগলে সেটা করতে আমি ঝাঁপিয়ে পড়ি । কিন্তু কারও ক্ষতি আমি চাই না । তবে আমি অন্যায় দেখলে চুপ করে থাকতে পারি না । যেচে কারও উপকার করতে গিয়ে অনেক সময় গাড্ডায় পড়েছি। তবু শিক্ষা নেই আমার । তবে আমিও আন্নাকালী’র মতো ভীষণ টকেটিভ । এটুকুই মিল । আর আমি নিজেই চাই আন্নাকালী’র কঠিন শাস্তি হোক । (হাসি)

প্র: রাহুলের মধ্যে কী এমন দেখলে যা অন্য কারোর মধ্যে নেই?

উ: কিচ্ছু না । এই প্রশ্নটার গুরুত্ব আমার জীবনে নেই । শুধু একজন ভাল মানুষকে খুঁজে পেয়েছিলাম আমি রাহুলের মধ্যে । ওঁর মূল্যবোধ, ওঁর স্বভাব, ওঁর মেয়েদের প্রতি সম্মান, ডাউন টু আর্থ মানসিকতা... সবটা মিলিয়ে ওঁকে ভালবেসেছি । অনেকেই বলেছে, তুই এতদিন ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছিস, রাহুল তো নতুন । এসবে আমার কিছুই এসে যায় না । দেখতে সুন্দর, মাচো ফিগার, পয়সাওয়ালা..এসব দেখে ভালবাসা হয় না । ‘রং রুট’-এর সময় আমাদের পরিচয় হল। আউটডোরে গিয়ে বন্ধুত্বটা গাঢ় হল আরও । দু’জনেই ঠিক করলাম সেটেলড করব । কোনওদিন লুকোছাপা করিনি । আর আমাদের দুই বাড়ির মানুষরাও এত ভাল, যে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নিয়েছিলেন ।

প্র: নতুন বাড়ি কেমন? সংসার সামলে কাজ করতে কোনও সমস্যা হচ্ছে না?

উ: আমি ব্লেসড । অনেক ভাগ্য করলে মানুষ এমন শ্বশুর-শাশুড়ি-স্বামী পায় । আমার মনেই হয় না বিয়ের পর আমার জীবনের কিছু পাল্টেছে । মা-বাবা তাঁদের মেয়ের মতো করে ভালবাসেন আমাকে । সংসারের কোনওদিকে খেয়াল রাখতে হয় না । কাজে বেরনোর সময় পারলে শাশুড়ি মা আমাকে মেখে খাইয়ে দেন । আর রাহুলের মতো সত্যিই ছেলে হয় না । ওঁর মধ্যে দায়িত্ববোধ এতটাই যে, ও যা যা আমাকে বলেছিল সব কথা রেখেছে । প্রথমেই বলেছিল, প্রেম করবো বিয়ে করার জন্যই । এক বছর প্রেম করেছি আমরা, ৩৬৫ দিনই রাহুল আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে নর্থ থেকে সাউথে । বলেছিল একটা প্রজেক্ট শেষ করেই বিযে করবে । ‘দেবী চৌধুরানি’ শেষ করার পরেই বিয়ে হল আমাদের । সত্যি, আমার দুই বাড়ির তুলনা হয় না ।

প্র: ট্রোল নিয়ে বিব্রত হলে কী ভাবে সামাল দাও সেটা ?

উ: ট্রোলটা খুব খারাপ ভাবে ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলে । সিরিয়ালে সৌদামিনী’কে মারার পর নোংরা ভাষায় আমাকে আক্রমণ করা হয়েছে । লোকে ‘খুনি’ তকমা দিয়ে দিচ্ছে । এমনকি এও লিখেছে, তোমার ছেলে-মেয়েকে এ ভাবে মরতে হবে । যাঁরা হয়তো সিরিয়ালটা দেখেন না, তাঁরা আমার প্রোফাইলে এসে দেখছেন এই সব লেখা । ভোজপুরী ইন্ডাস্ট্রিতে আমি খুব জনপ্রিয় । সেখানকার মানুষরা দেখলে তো সত্যিই আমাকে এইসব ভেবে নেবে । এসব দেখলে খুব রেগে যাই । তবে হেল্দি ট্রোল নিয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই । হোক না । সেটাও তো পাবলিসিটি ।

প্র: ভোজপুরী’তে এত জনপ্রিয়তা এল কী করে ?

উ: ‘রং রুট’-এর সময় আমাদের ক্যামেরা অ্যাসিস্ট্যান্ট কিশোর দা আমাকে ভোজপুরী ছবি করার জন্য বলেন । এরপর আমি করলাম ‘রাজা রানি’ । ভীষণ হিট হয় সেই ছবি । আমাকে ১ মাস সময় দিয়ে বলেছিল ওয়েট পুট অন করতে হবে । ওই এক মাসে আমি এমন মোটা হলাম যে, পরিচালক আমাকে দেখে বলছেন এতটাও বলিনি (হাসি) । তারপর তো ওখানে পরপর পাঁচটা ছবি করলাম । ‘রাজা রানি’র পর দু’বছর গ্যাপ পড়ে যায় আমার । সে সময় ইউটিউবে তো ভিডিও বেরিয়ে গেল, আমি মরে গিয়েছি । ভোজপুরী ছবি করে প্রচুর অ্যাওয়ার্ড পেলাম । কিন্তু তারপর ওখানের কাজে, পেমেন্টের ব্যাপারে এত সমস্যা হতে শুরু করল যে, আর কন্টিনিউ করলাম না । তবে এখনও কয়েকটা হাউজ আছে, ওঁরা এত ভাল যে আবার কাজ করতে ডাকলে আবার যাব । এখনও ডাকছে । কিন্তু এখন তো সিরিয়ালের কাজ নিয়ে নিয়েছি ।

প্র: আন্নাকালী কি অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে প্রীতিকে?

উ: সেটা তো অবশ্যই । আমার কাছে আমার সব চরিত্ররাই কিন্তু সমান ভালবাসার । তবে শুধুই ট্রোল নয়, আন্নাকালী করে দর্শকদের ভালবাসাও আমি কম পাইনি । সে দিক থেকে তো অবশ্যই আমি লাকি এরকম একটা চরিত্র পেয়েছি বলে ।

Published by: Simli Raha
First published: September 26, 2020, 7:29 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर