Neel Bhattacharya: 'তৃণা দারুণ কুক, বাড়িতে ওর হাতের রান্না খাচ্ছি চুটিয়ে!' এই সময় মনের জোর রাখতে বললেন নিখিল ওরফে নীল ভট্টাচার্য

নীল-তৃণা

সারাদিন বাড়িতে কেমন কাটছে কৃষ্ণকলির নিখিলের?

  • Share this:

কৃষ্ণকলি ধারাবাহিকের নিখিল (Nikhil in Krishnakoli)৷ অত্যন্ত জনপ্রিয়৷ এ বছর শুরুতেই তৃণার সঙ্গে ধুমধাম করে বিয়ে করেছেন৷ নীল-তৃণা (Neel-Trina) দু’জনেই খুবই পরিচিত মুখ৷ শুধু পরিচিত বললে ভুল বলা হবে, দু’জনে দুটি লিডিং চ্যানেলের প্রধান মুখ৷ সন্ধে হলেই বাঙালির ড্রইং রুমে ঢুকে পড়েন নীল-তৃণা৷ আপাতত শ্যুটিং বন্ধ৷ তাই স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন৷ সেই ফাঁকেই ধরা গেল নীল ভট্টাচার্যকে (Neel Bhattacharya)৷

১) কেমন কাটছে দিন? মোটের উপর গৃহবন্দি হয়ে?

উত্তর-পজিটিভিটি (Positivity) খোঁজার চেষ্টা করি সবসময়৷ চারিদিকে এত খারাপ অবস্থা৷ পরিস্থিতি একেবারেই ভাল নয়৷ তার মধ্যেই কাটাতে হবে৷ আমি চেষ্টা করছি এই সময়ের মধ্যে ভাল দিকগুলো খুঁজতে৷ যেমন বাড়িতে সময় কাটাতে পারছি৷ বাবা-মা এবং তৃণার সঙ্গেও কাটানো সময় উপভোগ করছি৷ না হলে তো শ্যুটিং-এ ব্যস্ত থাকি৷ বাড়ির বাইরে থাকতে হয়৷ এখন এতটা সময় কাটাচ্ছি পরিবারের সঙ্গে, যাতে পরে কখনও নিজের কাছেই কোনও অভিযোগ না থাকে৷

২)আগের লকডাউনের থেকে এবার কার্যত লকডাউনটা আলাদা৷ বাড়িতে তৃণা রয়েছেন৷ তাই কাজও কি কিছুটা ভাগ হচ্ছ?

উত্তর- কিছুটা কাজ তো কমেছে৷ তৃণা সাহায্য করে অনেকটাই৷ তা ছাড়া আরও একটা ব্যাপার৷ এবার আমরা অনেকটা বেশি অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছে এই পরিস্থিতিটার সঙ্গে৷ গতবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগছে৷ তবে এখন তো অনেক কিছুই অর্ডার করতে পারছি৷ বাড়িতে জিনিসও চলে আসছে৷ আরও একটা ব্যাপার, তৃণা দারুণ রান্না করে৷ সেটাও উপভোগ করছি৷

৩)কতটা ব্যস্ততা থাকে? কারণ অভিনেতাদেরও তো ওয়ার্ক ফ্রম হোম হচ্ছে৷

উত্তর- হ্যাঁ, সেটা থাকে৷ চেষ্টা করছি, বাড়ি থেকে যতটা ভাল ভাবে কাজ করা যায়৷ যেমন যেমন স্ক্রিপ্ট পাচ্ছি, তেমন বাড়ি থেকে শ্যুটিং করছি৷ আগের বার তো একা করেছিলাম৷ এবার তৃণা থাকাতে কিছুটা সাহায্য করছে৷ আর শ্যুট করলে সময়টাও ভালভাবে কাটে৷ একটা ব্যস্ততা তো থাকেই৷

৪)আপনিও শ্যুট করছেন, তৃণাও৷ তাহলে তো একই বাড়িতেই TRP যুদ্ধ লেগে যাচ্ছে?

উত্তর- (কিছুটা হেসে) আরে না না৷ আমাদের মধ্যে তেমন সম্পর্কই নয়৷ দু’জনে সবসময় চেষ্টা করি দু’জনকে সাহায্য করতে৷ কার কাজ কতটা ভাল হবে, সেই নিয়ে উৎসাহ দিতে৷ তাই লড়াই নয়, মিলেমিশে উপভোগ করে কাজ করি৷

৫)স্বামী-স্ত্রী দুই লিডিং চ্যানেলের দুই উজ্জ্বল মুখ৷ কখনও কোনভাবেই এই নিয়ে তর্ক হয় না?

উত্তর- না, আমরা চেষ্টা করি একে অপরকে প্রশংসা করতে৷ সমালোচনাও করি একে অপরের৷ এর মাধ্যমে নিজেদের কাজের উন্নতি করার চেষ্টা করি৷ তাই একেবারে সুখে শান্তিতে দু’জনের ধারাবাহিক দু’জনে মন দিয়ে দেখি৷

৬)বাবা চিকিৎসক৷ খুব কাছ থেকে লড়াইটা দেখছেন৷ নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ কী অভিজ্ঞতা হচ্ছে?

উত্তর- হ্যাঁ, দেখছি, নিজের করোনা হয়েছিল৷ তাই বুঝতে পারি শারীরিক ভাবে কতটা দুর্বল করে দেয় করোনা৷ তবে এটাও ঠিক শারীরিক থেকে বেশি মানসিকভাবে প্রভাব ফেলছে করোনা৷ সাধারণ মানুষ মানসিকভাবে বেশি ভেঙে পড়ছেন৷ মানসিকভাবে সুস্থ থাকাটা এই সময় খুব জরুরি৷ কারণ দেখুন করোনা ছাড়াও তো অনেক দুরারোগ্য ব্যাধি থাকে৷ সেগুলোর সঙ্গেও তো আমরা লড়াই করি৷ আর মন যদি ভেঙে যায়, তা হলে সবার আগে কম হয় ইমিউনিটি৷ মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়৷ তাই মেনটালি খুব স্ট্রং থাকতে হবে৷ এটা এখন এই পরিস্থিতিতে খুব জরুরি৷

৭)পজিটিভ কথা বলি, কোথাও কী নতুন সংসারে একটু বেশি সময় দিতে পাচ্ছেন? স্ত্রীর সঙ্গেও, যেটা অন্য সময় হত না৷

উত্তর- একদমই তাই৷ আমি তো আগেও সেটা বললাম৷ আমরা নিজেদের মতো করে সময় ভাগ করে নিচ্ছি৷ আমাদের নির্দিষ্ট টিভি দেখার সময় থাকে৷ শনিবার আমরা চিট-ডে করি৷ মানে, একটু বিশেষভাবে কাটানোর চেষ্টা৷ যেমন ধরুন জন্মদিনে করে থাকি৷ একটা উদযাপন৷ তেমনই এখন সপ্তাহের বিশেষ একটি দিনে বিভিন্ন পদ রান্না হয়, খাওয়া দাওয়া হয় একসঙ্গে৷ তারপর নিয়ম করে একসঙ্গে ভাল ছবি দেখি৷ আর সেদিনই ভেবে রাখি পরের সপ্তাহের কথা৷ তৃণা দারুণ রান্না করে, আমার মা-বাবাও তাই৷ আমি রান্না পারি না৷ তাই বাসন মাজার কাজ আমার দায়িত্বে এসে পড়ে! (হেসে)

৮)ধারাবাহিকের সকলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কী ভিডিও কল হয়?

উত্তর- মাঝেমধ্যে কথা হয়৷ যারা খুব ঘনিষ্ঠ, তাঁদের সঙ্গে ভিডিও কল হয় কখনও৷

৯)নিজেকে সুস্থ রাখতে কী নিয়ম মেনে চলছেন?

উত্তর- মন ভাল রাখতে চেষ্টা করি আর তার সঙ্গে শরীরচর্চা করি নিয়ম করে৷ এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ ইমিউনিটি বৃদ্ধির জন্য শুধু খাওয়া দাওয়া নয়, শরীরচর্চা করা প্রয়োজন৷ আমি আর তৃণা প্রতিদিন ৫ থেকে ৬.৩০ পর্যন্ত এক্সারসাইজ করি৷

১০)পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, বেড়াতে যাবেন? কারণ আপনাদের দার্জিলিং-এর ভিডিও-ছবি তো ভাইরাল৷

উত্তর- (একটু হেসে) এটা তো শুধু আমি নয়, গোটা বিশ্বের মানুষ আশা করছেন৷ তবে হ্যাঁ, সব সুস্থ হয়ে উঠলে ভালভাবে মধুচন্দ্রিমার ইচ্ছে থাকল৷

১১)প্রিয় দর্শকদের জন্য বার্তা৷

উত্তর- পরিস্থিতি খুব খারাপ৷ তাই পজিটিভ থাকটা খুব জরুরি৷ এটাই আমি বারবার করে সবাইকে বলার চেষ্টা করব৷ আমরা আবার আগের মতো সময়ে ফিরে আসব৷ সব কিছু ভাল হবে৷ তাই একটু ধৈর্য ধরতে হবে, আর মনের জোর রাখতে হবে৷

Published by:Pooja Basu
First published: