বিনোদন

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘মোটা বলে হিয়া’কে অনেকেই প্রথমে মেনে নেননি, বডি শেমিংও করা হয়েছে’, একান্ত সাক্ষাৎকারে অনামিকা

‘মোটা বলে হিয়া’কে অনেকেই প্রথমে মেনে নেননি, বডি শেমিংও করা হয়েছে’, একান্ত সাক্ষাৎকারে অনামিকা

‘বাস্তবেও যদি উজানের মতো একজন স্বামী পাই তা হলে আমার থেকে বেশি খুশি আর কেউ হবে না ।’ মন খুলে আড্ডা দিলেন ‘এখানে আকাশ নীল’-এর হিয়া ।

  • Share this:

নিজেই স্বীকার করলেন অনামিকা আর হিয়া খুব আলাদা মানুষ নয় । অনামিকাও উচ্ছ্বল, প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর । পরিবার বাধ্য করেছে বলেই মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আজ তিনি অভিনেত্রী । তবে আজ আর কোনও আফশোস নেই । মোটা হওয়ায় কটূক্তিও শুনতে হয়েছে । শেষ পর্যন্ত সব জয় করে দর্শকদের কাছে হিয়া হয়ে উঠেছে ঘরের মেয়ে । অনামিকা চক্রবর্তী-র সঙ্গে একান্ত আড্ডায় সিমলি রাহা ।

প্র: নতুন নাম পেয়েছ, দর্শকদের কাছ থেকে হিয়ান, কেমন এনজয় করছো এই নতুন পরিচয়?

উ: এই যে নতুন নামটা আমরা পেয়েছি #Hiyan.... প্রথমত বলতে চাই, সে জন্য দর্শকদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই । এটা ভগবানের অনেক আশীর্বাদ যে এরকম একটা ট্রেডমার্ক বাংলা ধারাবাহিকের ইতিহাসে তৈরি করতে পেরেছি আমরা । এর জন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি আমরা । আশা করি, হিয়ান বহু বছর মানুষের মনে থেকে যাবে ।

প্র: পর্দার হিয়া আর বাস্তবের অনামিকা কতটা এক?

উ: অনেএএএকটা এক । হিয়া আর অনামিকা একইরকম বলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অনুভূতিগুলো বের করে আনতে আমার অত অসুবিধা হয় না । হিয়ার থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি, আবার অনামিকার থেকেও হিয়া অনেক কিছু নিয়েছে ।

প্র: উজানের সঙ্গে তো এতো লড়াই, সেট- এ কত টা ঝগড়া করো?

উ: (হো হো করে হাসি) ডে-ওয়ান থেকে ক্যামেরার সামনে ঝগড়া করছি আমরা । কিন্তু ‘কাট’ বলার পরেই দারুণ বন্ধুত্ব হয়ে যায় হিয়া আর উজানের । খুব মজা করে কাজ করি আমরা ।

প্র: ওয়েব থেকে আবার মেগায় ফিরলে কেন?

উ: আসলে আমার অনেকদিনের একটা গ্যাপ পড়ে গিয়েছিল । ১ বছর পর্দা থেকে দূরে ছিলাম । ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিজেকে একটু সরিয়ে নিয়েছিলাম । এরপর হঠাৎ করেই ‘এখানে আকাশ নীল’-এর অফারটা পাই । খুব উত্তেজিত হয়েছিলাম । আবার একটু ভয়ও ছিল। যেহেতু এটা আগে একবার হয়েছে...এতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছিল । তাই একটা ভয় কাজ করছিল।

প্র: ঠিকই । ‘এখানে আকাশ নীল’ ভীষণ হিট সিরিয়াল...মানুষের মনে পুরনো হিয়া-উজান এখনও গেঁথে রয়েছে... মনে হয়নি কখনও, মানুষ গ্রহণ করবে কিনা?

উ: ১০০ বার মনে হয়েছে । সে জন্যই ভয় পেয়েছিলাম । কারণ অপরাজিতা দি, ঋষি দা একটা জায়গা তৈরি করে দিয়েছিল হিয়া-উজানের জন্য । সেই জায়গাটা ধরে রাখতে পারব কিনা, মানুষ গ্রহণ করবেন কিনা... এসব নিয়ে খুবই ভীত ছিলাম । ভেবেছিলাম করবই না । তারপর মনস্থির করি হিয়া’কে আমি একটা নতুনভাবে উপস্থাপন করবো । নিজের মতো করে গড়ব । জানতাম মানুষের একটু সময় লাগবে, কিন্তু ঠিকই তাঁরা গ্রহণ করবেন । তবে একটা কথা ঠিক, প্রথমদিকে কিন্তু মানুষ আমাকে মোটেই হিয়ার চরিত্রে মেনে নেননি, কারণ আমি মোটা । আর এ জন্য আমাকে বডি শেমিংও করা হয়েছে ।

প্র: হোলি ফাঁক -এ যথেষ্ট সাহসী দৃশ্যে দেখা গিয়েছে তোমায়, কী ভাবে কমফোর্টেবল হলে?

উ: হ্যাঁ...প্রথম যখন এটা শুনলাম আমাকে একটা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে, তখন আমাকে সবদিক থেকে আমার কমফোর্ট দেওয়া হয়েছিল। সেটে সে সময় ৩-৪ জন শুধু ছিলেন । আর আমার কো-অ্যাক্টর সৌম্য (সৌম্য মুখোপাধ্যায়) সবদিক থেকে আমাকে সাহায্য করেছিল । সবাই ভীষণ সাপোর্টিভ ছিল । বিশেষ করে সৌম্য । আমাকে স্বাভাবিক রাখা, আমার প্রিভেসি রক্ষা করা...সবটা দারুণভাবে সামলেছিল ও ।

প্র: এত ছোট বয়সে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছো, কোথাও কখনও ঠকে যাওয়ার এক্সপেরিয়েন্স হয়েছে?

উ: খুবই ছোট বয়সে এসেছি আমি । যখন ‘রাজযোটক’ করলাম, তখন মাত্র ১৬ বছর আমার । তবে আমি লাকি, সেরকম কোনও ঘটনা আমার সঙ্গে ঘটেনি । আর আমার মনে হয় না আমি কাউকে কখনও সেই জায়গাটা দেব, যাতে আমি ঠকে যেতে পারি । কাউকে অসম্মান করে বলছি না, তবে এখানে যে যাঁর নিজের লড়াইটা লড়তে আসে, কে কীভাবে সেটা লড়বে, তা তাঁকেই ঠিক করতে হয় ।

প্র: ইন্ডাস্ট্রিতে শুরুটা কী করে হল?

উ: শুরুর গল্প বলতে গেলে শেষ হবে না (হাসি) । ২০১৪ সালে ‘রাজযোটক’ দিয়ে শুরু । জীবনে কোনওদিন ভাবিনি এই পেশায় আমি আসব । আর কখনও অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছাও ছিল না । আমার পরিবার আমাকে ‘পুশ’ করে, জোর করে অডিশনে নিয়ে আসে আমাকে । বকাঝকা, দিনরাত এরজন্য Abused-ও হতে হয়েছে আমাকে । তাও শুধু পরিবারের কথা ভেবে সে দিন অডিশনে গিয়েছিলাম আমি। সারাদিন ধরে, মেকআপ করে, ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে অডিশন দিতে হয়েছিল । আমাকে একটা স্ক্রিপ্ট দেওয়া হয়, সেটার মানেও ভাল করে বুঝতে পারছিলাম না । কারণ সে সময় আমার বাংলা মারাত্মক দুর্বল ছিল । তারপরেও আমি সিলেক্ট হলাম । পরের দিন সকালবেলা ফোনটা এসেছিল । আমি জাস্ট আকাশ থেকে পড়েছিলাম । (হাসি)

 ‘রাজযোটক’-এর সেটে অনামিকা।
‘রাজযোটক’-এর সেটে অনামিকা।

প্র: তুমি তো বাঙালি...তাহলে বাংলা খারাপ ছিল কেন বলছো?

উ: হ্যাঁ আমার বাড়ি মুকুন্দপুর । কিন্তু স্কুলে বেশিরভাগ সময় হিন্দি আর ইংরাজিতে কথা বলে বলে বাংলাটা ভাল করে আয়ত্তই করতে পারিনি । বাড়িতে বাংলা কথা হত, কিন্তু বাড়িতে বেশি কথা বলতাম না আমি । চুপচাপ ছিলাম ।

প্র: এরকম একজন রাগী husband রিয়েল লাইফ-এ এলে কী করবে?

উ: উফফ...খুব খুশি হবো । কারণ উজান একজন দারুণ মানুষ । মনের দিক থেকে সে খুব পিওর । আর আমার মনে হয়, আমাকে হ্যান্ডেল করার জন্য একজন এরকম মানুষই দরকার । গম্ভীর স্বামী হলেই একমাত্র আমাকে একটু কন্ট্রোল করতে পারবে । না তাই বলে, তাঁকে পুরোপুরি কন্ট্রোল করতে দেব না । তবে উজানের মতো মানুষ যদি পাই তাহলে আমি কখনও তাঁকে আমাকে ছেড়ে যেতে দেব না । (হাসি)

প্র: হিয়ার এমন কী গোপন কথা আছে যা তোমার দর্শকদের বলতে চাইবে?

উ: হিয়ার কোনও গোপন কথা নেই । হিয়ার সবটা দর্শকরা জানেন । ওঁর মনে কোনও লুকোচুরি নেই । হিয়ার মনে যা, মুখেও তাই । ভীষণ প্রাণবন্ত একজন মানুষ হচ্ছে হিয়া ।

প্র: সিনেমা, ওয়েব, মেগা সবটাই তো হল, কোনটা বেশি পছন্দের?

উ: এখনও পর্যন্ত তিনটে সিনেমা করেছি । ‘আসছে আবার শবর’, ‘আড্ডা’ আর ‘তোর অপেক্ষা’ বলে নর্থ বেঙ্গলের একটা প্রজেক্ট । সবগুলোই খুব কাছের আমার কাছে । আর ওয়েব দুটো । ‘হোলি ফাঁক’-এর সিজন ওয়ান আর সিজন টু । তবে সিনেমা আমার ফেভারিট ।

প্র: ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিং কাউচ নিয়ে অনেক কিছু শোনা যায়... এটা কতটা সত্যি?

উ: এরকম কোনও সিচ্যুয়েশন কখনও ফেস করিনি আমি, তাই বলতে পারব না । তবে আমি মনে করি, আমি একজন স্ট্রং মহিলা । তাই আমার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটবে বলে আমি মনে করি না । আমি কী করতে চাই, কেমন করতে চাই সেটা আমি খুব ভাল করে জানি ।

প্র: অনামিকার জীবনে উজান কে? সুখবরটা কবে পাবো?

উ: এই মুহূর্তে তো অনামিকার জীবনে কোনও উজান নেই । অনামিকা সিঙ্গল। তবে উজান যে দিন আসবে সে দিনই সবাই সুখবরটা পেয়ে যাবে (হো হো করে হাসি) ।

Published by: Simli Raha
First published: September 19, 2020, 7:32 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर