Home /News /entertainment /
Swagatalakshmi Dasgupta: ‘কে স্বাগতালক্ষ্মী? গেট আউট ফ্রম হিয়ার!’ বিয়েবাড়িতে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার শিল্পী স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত

Swagatalakshmi Dasgupta: ‘কে স্বাগতালক্ষ্মী? গেট আউট ফ্রম হিয়ার!’ বিয়েবাড়িতে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার শিল্পী স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত

Swagatalakshmi Dasgupta

Swagatalakshmi Dasgupta

Swagatalakshmi Dasgupta: তাঁর ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে ‘আকাশ’ বলে ডাকেন৷ বিয়েবাড়িতে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়ে তাঁদের ‘আকাশ’-এর এই হেনস্থা তাঁরা কোনওমতেই মানতে পারছেন না৷

  • Share this:

    কলকাতা : বিয়েবাড়িতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার শিল্পী স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত ৷ সম্প্রতি তিনি আমন্ত্রিত ছিলেন তাঁর ছাত্রসম এক ভক্তর বিয়েতে ৷ কিন্তু দমদমের প্রাইভেট রোডে সেই বিয়েবাড়িতে গিয়ে হেনস্থার মুখে পড়তে হয় শিল্পীকে ৷ বিয়ের কনের মায়ের মুখে শুনতে হয় ‘কে স্বাগতালক্ষ্মী?’ তাঁর মতো শিল্পীর এহেন অভিজ্ঞতায় ক্ষোভে ও প্রতিবাদে সোচ্চার তাঁর ছাত্রছাত্রীরা ৷

    স্বাগতালক্ষ্মী জানালেন, ‘‘আমি তো এখন বিয়েবাড়িতে যাই-ই না ৷ অনেক দিন পর এই আমন্ত্রণে গিয়েছিলাম ৷ যার বিয়ে সে আমার ছাত্রসম ভক্ত ৷ সে এবং তার মা অনেক বার করে আমাকে যেতে বলেছিলেন বিয়েতে৷ তাই না গিয়ে পারিনি৷’’ কিন্তু বিয়েবাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কী হল? জানালেন সে কথাও৷ তিনি সবে বিয়েবাড়িতে গিয়ে কনের হাতে তুলে দিয়েছেন উপহার৷ স্বভাবতই তিনি কোনও জায়গায় গেলে তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে আগ্রহী হন উপস্থিত সকলেই৷ এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷ বিয়ের বরকনে ও অন্যান্যদের সঙ্গে তিনি গ্রুপ ছবি তোলেন৷

    এর পর শিল্পীকে বরের মা এক পেয়ালা কফি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন৷ তার পরই হঠাৎ চিৎকার ভেসে আসে ‘কে, কে স্বাগতালক্ষ্মী?’ চিৎকার করেছিলেন কনের মা৷ এখানেই শেষ নয় ৷ শিল্পীর অভিযোগ, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে সরাসরি তাঁকে বিয়েবাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন ওই মহিলা৷ চেঁচিয়ে বলে ওঠেন, ‘‘কে স্বাগতালক্ষ্মী? আই অ্যাম রাখী রায়৷’’ জানা গিয়েছে কসবাবাসী ওই মহিলা নিজেও একজন শিল্পী৷ তাঁর মতো একজন সুবেশা নারীর মধ্যে মহিষাসুরের রূপ দেখে হতবাক হয়ে যান স্বাগতালক্ষ্মী৷

    আরও পড়ুন : ‘পাশে থাকা মানে কী, চৈতালি দি’?’ ফেসবুকে কবিতার পর প্রশ্ন রূপঙ্করের স্ত্রীকে

    তবে তিনি ওই পরিস্থিতি আর জটিল করে তুলতে চাননি৷ তাঁর এই হেনস্থায় ভেঙে পড়েন এক ছাত্রী৷ শুরু করেন কান্নাকাটি৷ কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধেও স্বাগতালক্ষ্মী পুলিশে অভিযোগ জানাতে যাননি৷ তবে তাঁর ছাত্রছাত্রীরা সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদে সোচ্চার৷ সেখানে তাঁদের তিনি বাধা দেননি৷ তাঁর ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে ‘আকাশ’ বলে ডাকেন৷ বিয়েবাড়িতে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়ে তাঁদের ‘আকাশ’-এর এই হেনস্থা তাঁরা কোনওমতেই মানতে পারছেন না৷

    প্রসঙ্গত অভিযুক্ত রাখী রায় পরিচিত ঝর্না বন্দ্যোপাধ্যায় নামেও৷ তিনি কি মানসিক রোগী? নাকি তিনি নিজেও শিল্পী বলে অসূয়াবশত এই আচরণ করেছেন স্থানকালপাত্র ভুলে গিয়ে? এর উত্তর খুঁজছেন স্বাগতালক্ষ্মী নিজেও৷

    আরও পড়ুন : ‘কাগজ পড়ে দুঃখপ্রকাশ? কে স্ক্রিপ্ট লিখল? কেকে-বিতর্কে ফের তীব্র নিন্দিত রূপঙ্কর

    তাঁর নিজের বউভাতের অনুষ্ঠানে ‘আকাশ’-এর অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতার পর অনেক বার ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন স্বাগতালক্ষ্মীর ওই ছাত্রসম ভক্ত ও তাঁর পরিবার৷ শিল্পী নিজেও নিজেকে অপমানিত বলে মনে করছেন না৷ চাননি, কোথাও এই খবর প্রকাশিত হোক৷ কিন্তু তাঁর ছাত্রছাত্রীদের ফেসবুক পোস্ট থেকে ছড়িয়ে পড়ে খবরটি৷ ব্যথিত কণ্ঠে শুধু বললেন ‘‘অন্যকে আঘাত করলে ভগবান কিন্তু ক্ষমা করেন না৷’’

    আরও পড়ুন : লাজুক ছিলেন প্রেমপর্বে, স্ত্রীর সঙ্গে কেকে-এর আশৈশব সম্পর্ক ভেঙে গেল খর জ্যৈষ্ঠে

    সেদিন কসবাবাসী ওই মহিলার মুখে ‘গেট আউট ফ্রম হিয়ার’ শুনে তিনি বিয়েবাড়ি থেকে নীরবেই চলে গিয়েছেন৷ কিন্তু এত কিছুর পরও মানহানির মামলা বা অভিযোগ কিছুই করতে চান না তিনি৷ কারণ তাঁর বক্তব্য, এর ফলে তাঁর মান বা সম্মানের কোনওভাবেই হানি হয়নি৷ গায়ে না মাখলে আবার অপমান কীসের? প্রশ্ন স্বাগতালক্ষ্মীর৷ তাঁর কথায়, ‘‘রাস্তায় তো কত কিছুই হয়৷ কত দুর্ঘটনা হয়৷ সে সব কি আমরা মনে রাখি? আমি কিন্তু একে নিজের অপমান বলে মনে করিনি৷ তবে পুরনো দিনের মানুষ তো আমি৷ আমার কাছে ন্যায় মানে ন্যায়৷ অন্যায় মানে অন্যায়৷’’

    এই ভাবেই স্পষ্টভাষায় তিনি প্রতিবাদ জানালেন কেকে-এর প্রতি রূপঙ্করের বক্তব্যেরও৷ বললেন, বিয়েবাড়িতে ওই মহিলার মুখে ‘কে স্বাগতালক্ষ্মী?’ শোনার পর মনে হয়েছিল যেন অবিকল রূপঙ্করে মুখে ‘হু ইজ কেকে, ম্যান?’ শুনতে পাচ্ছেন৷ রূপঙ্করের মতো একজন জনপ্রিয় ও সফল গায়কের কাছ থেকে তিনি এটা আশা করেননি৷ স্পষ্ট জানালেন যশস্বী স্বাগতালক্ষ্মী৷ বললেন, ‘‘এটা মানুষের নীতির ব্যাপার৷ আমরা অনেক কিছু চাই৷ কিন্তু শব্দ হল বাণ৷ এক বার বেরিয়ে গেলে আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না৷ আমাদের না পাওয়া থেকে এই অসহিষ্ণুতা বেরিয়ে আসে৷ একজন শিল্পীর কাছ থেকে এই ধরনের শিশুসুলভ অপরিণত আচরণ কাম্য নয়৷’’

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published:

    Tags: Swagatalakshmi Dasgupta

    পরবর্তী খবর