corona virus btn
corona virus btn
Loading

Bulbbul Review: ‘ডাইনি’র আড়ালে এক ‘নারী’র প্রতিবাদের গল্প, ভুলেও এ ছবি একা দেখবেন না !

Bulbbul Review: ‘ডাইনি’র আড়ালে এক ‘নারী’র প্রতিবাদের গল্প, ভুলেও এ ছবি একা দেখবেন না !

তা কীসের প্রতিবাদ? আসলে কেমন ছবি ‘বুলবুল’?

  • Share this:

#মুম্বই: ছবি প্রযোজনায় নেমে যেন একের পর এক ছক্কা হাঁকাচ্ছেন অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা ৷ বড়পর্দায় প্রথমে এনএইচ টেন, তারপর ফিল্লোরি এবং তারপরে পরী ! ওয়েব প্ল্যাটফর্মে অনুষ্কা এলেন প্রথমে পাতাললোক আর এবার বুলবুল নিয়ে ৷ অনুষ্কার প্রযোজনায় তৈরি প্রত্যেকটি ছবির প্যাটার্ন লক্ষ্য করুন ৷ হিসেব মেলালে প্রত্যেকটি ছবিই, গতে বাঁধা বা বলিউডে তৈরি হওয়া ছবি থেকে অনেকাংশেই ডার্ক ৷ তা এনএইচ টেন হোক কিংবা পরী ৷ অথবা ওয়েব প্ল্যাটফর্মে পাতাললোক ও এবারের বুলবুল ৷ অবশ্য ফিল্লোরি এগুলোর থেকেই একটু আলাদা ৷ অনুষ্কা প্রত্যেক প্রযোজনাতেই ‘নারী’ বা ‘অভিনেত্রী’ এই দুটো হিসেবকে সবার ওপরে রেখেছেন ৷ চিত্রনাট্য বাছার ক্ষেত্রেও সে ব্যাপারটা মাথায় রাখতে ভোলেননি তিনি ৷ হ্যাঁ, এই প্রত্যেকটি ছবি দেখলেই বোঝা যায়, অনুষ্কার এই বেছে নেওয়াটা একেবারেই সচেতনভাবে বা সুচিন্তিত উপায়ে ৷

এতো না হয় গেল প্রযোজক অনু্ষ্কার ট্র্যাক রেকর্ডের কথা ৷ আসলে নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘বুলবুল’ অনুষ্কার এই ভাবনা থেকে একেবারেই আলাদা নয় ৷ আর তাই হয়তো আগের সব ছবি চিত্রনাট্যের প্রাথমিক ভাবনার সঙ্গে এর মিল পাওয়ার কারণেই এই ছবির প্রযোজনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন অনুষ্কা ৷ প্রাথমিক ভাবনা বলতে অবশ্যই ‘নারী প্রধান গল্প’ বা ‘উইম্যান এমপাওয়ারমেন্ট’, যা কিনা ‘বুলবুল’-এ এসে প্রতিবাদ হয়ে উঠল ৷

তা কীসের প্রতিবাদ? আসলে কেমন ছবি ‘বুলবুল’?

১৮৮১-এর বাংলাকে প্রেক্ষাপট তৈরি করে বাল্যবিবাহ, জমিদার প্রথা ও রাজবাড়ির অন্দরমহলের গল্পকে সামনে নিয়ে আসলেন ছবির পরিচালক অনভিতা দত্ত ৷ সহজ কথায় ‘পুরুষতান্ত্রিক’ সমাজের গল্প৷  সেই সমাজে যে গল্প তৈরি হত জমিদার বাড়ির অন্দরে ও সেখানেই শেষ হয়ে যেত ৷ আর পুরনো বাড়ির দেওয়ালে ছাপ পড়ে থাকত বহু আতর্নাদ ও অত্যাচারের ৷ পরিচালক সেই সব কটা বিষয়কেই এক সুতোতে বাঁধলেন ৷ আর সেই সুতোর ওঠা-নামার দায়িত্ব দিলেন ‘ডাইনি’র হাতে৷ যে ডাইনি রাত হলেই মানুষের ঘাড়ে কামড় দিয়ে রক্ত চুষে নেয় ৷ আর পড়ে থাকে ‘অত্যাচারী’র নিথর দেহ ! অর্থাৎ পড়ে থাকে রক্তহীন পুরুষতান্ত্রিক এক সমাজ !

ছবি শুরু হয়, ছোট্ট বুলবুলের বিয়ে থেকেই ৷ যে বুলবুল (তৃপ্তি দিমরি) বোঝার আগেই হয়ে যায় এক জমিদার বাড়ির বড় গিন্নি ৷ যে জমিদার বাড়িতে রয়েছেন তাঁর স্বামী বড় ঠাকুর (রাহুল বসু), তথাকতিত ‘পাগল’ মেজো ঠাকুর মহেন্দ্র (দ্বৈত চরিত্রে রাহুল বসু), মহেন্দ্রের স্ত্রী বিনোদিনী (পাওলি দাম) ও বুলবুলের দেওর সত্য (অবিনাশ তিওয়ারি) ৷ স্বামী, দেওর, ভাসুর এবং জা বিনোদিনীকেই নিয়ে গল্প এগিয়ে চলে বুলবুলের ৷ যার মধ্যে ঢুকে পড়ে দেওর সত্য-র প্রতি প্রেম, বিনোদিনীর অর্থ-যৌন লিপ্সা ৷ আর সঙ্গে ছোট্টবেলায় শোনা এক ডাইনির গল্প, যে কিনা ঘাড় কামড়ে রক্ত চুষে নিত !

দেওরের সঙ্গে ‘প্রেম’ মেনে নিতে পারে না বুলবুলের স্বামী ৷ বিনোদিনীর কান ভাঙানোয় বুলবুলকে ক্ষত-বিক্ষত হতে হয় ‘জমিদার স্বামী’র হাতে ৷ সুযোগ পেয়ে পাগল ভাসুর ‘ধর্ষণ’ও করে বুলবুলকে ৷ অন্যদিকে গ্রামের ডাক্তারের  (পরমব্রত) সঙ্গে বন্ধুত্বকেও ‘খারাপ’ চোখে দেখতে শুরু করে বুলবুলের প্রেম ‘সত্য’ ৷ সব ‘পুরুষ’কেই যেন একই সীমারেখায় দেখতে পায় বুলবুল ৷ অত্যাচারের রাতে তার ভিতরই জেগে ওঠে ‘ডাইনি’ ! ব্যস, এখান থেকেই শুরু বদলার গল্প ৷ প্রতিবাদের গল্প ৷ ছোটবেলার শোনা ডাইনি-র গল্পকে সঙ্গে নিয়ে একের পর এক ‘বদলা’ নিতে শুরু করে বুলবুল ৷

বুলবুল এমনই এক ছবি যেখানে প্রথম ফ্রেম থেকে শুরু করে, শেষ ফ্রেম পর্যন্ত আপনার চোখের পলক পড়তে দেবে না ৷ প্রত্যেক দৃশ্যেই দারুণ বুনোট৷ যা ধরে ধরে এগোতে থাকে ‘বুলবুল’ ৷ আর শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভয়ের গল্প হঠাৎ করে বদলে যায় এক নারীর প্রতিবাদের গল্পে ৷

অভিনয়ের দিক থেকে এই ছবির প্রত্যেকেই অসাধারণ ৷ ‘লয়লা-মজনু’র তৃপ্তি দিমরি এই ছবিতে পরিণত ৷ তাঁর প্রত্যেকটি অভিব্যক্তিতেই গল্প আরও ভালো রূপ পেয়েছে ৷ অবিনাশও তাই ৷ রাহুল বসুও নিজের জায়গায় একেবারে পারফেক্ট ৷  খলনায়িকার চরিত্রে পাওলি দাম নজর কেড়েছেন আলাদা করে ৷ অল্প সংলাপে শুধু চাউনি দিয়েও যে অভিনয় করা যায় তা তিনি দেখিয়েছেন ৷ পরমব্রতও বেশ স্ট্রং ৷ আসলে, প্রত্যেকেই এই ছবির চিত্রনাট্যকে আঁকড়ে ধরেছিলেন ৷ আর তাই হয়তো ছবি একবারের জন্যও পিছলে যায়নি ৷ বরং দর্শককে ধরে রাখার জন্য সব রসদই ঠিকঠাক রেখেছেন পরিচালক অনভিতা৷

এই ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফি ছবির মেজাজকে ধরে রাখতে যথাযথ সাহায্য করেছে ৷ বিশেষ করে ‘রক্ত’ বা প্রতিহিংসাকে বোঝাতে ছবিতে লাল রঙের ব্যবহার এবং গা ছমছমে ভাব আনতে নীল রঙের ব্যবহার অসাধারণ ৷ অবশ্যই এ ব্যাপারে বাহবা দিতে হয়, সিধান্ত দিওয়ান ও মীনাল আগরওয়ালকে৷ ছবিতে লোকগাঁথার স্টাইল বেশ স্পষ্ট ৷ যা কিনা ছবিকে এক ‘ক্লাসিক’ লুক এনে দিয়েছে ৷

সবশেষে বলা ভালো, এই ছবির অন্তরে নারীর প্রতিবাদের গল্প থাকলেও, বুকে চাপ ধরানোর জন্য এই ছবির বেশ কিছু দৃশ্য যথেষ্ট ৷ বিশেষ করে তা অমিত ত্রিবেদী-র আবহসঙ্গীতের জন্য আরও বেশি থমথমে ৷ তাই একটাই সাজেশন... একা ভুলেও দেখবেন না এই ছবি !

Published by: Akash Misra
First published: June 28, 2020, 4:21 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर