কোভিড আক্রান্ত হওয়ায় হয়তো অধরাই থেকে যেত বিশ্ব সৌন্দর্যের মঞ্চ, প্রথম না হয়েও নিরাশ নন অ্যাডলিন

অ্যাডলিন ক্যাস্টেলিনো, ছবি-ফেসবুক

  • Share this:

    মুম্বই : যথাসময়ে কোভিড থেকে সুস্থ না হলে হয়তো অংশই নেওয়া হত না বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে ৷ শেষ অবধি সুস্থ হলেন এবং কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিধ্বস্ত দেশ থেকেই অ্যাডলিন ক্যাস্টেলিনো পাড়ি দিলেন আমেরিকার ফ্লোরিডায় ৷ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে চতুর্থ স্থান অধিকার করেন এই কর্নাটকী সুন্দরী ৷

    অ্যাডলিন জানিয়েছেন, তিনি তিন বছর ধরে স্বপ্ন দেখছিলেন মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ৷ কিন্তু কোনওদিন ভাবতেও পারেননি প্রস্তুতি পর্বে এত বড় ধাক্কা খাবেন ৷ তাঁর কথায়, ‘‘ মাঝে মাঝেই মনে হত মিস ইউনিভার্সে অংশ নেওয়া খুব কঠিন ৷ যোগদান যে করতে পারব, সেটাই কখনও মনে হয়নি ৷ কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পরেও এত ক্লান্তি থাকে যে আমার জন্য বহু কাজ বাকি রয়ে গিয়েছিল ৷ সুস্থ হওয়ার জন্য আমি প্রচুর জল খেতাম ৷ চেষ্টা করেছিলাম শরীর, মন ও আত্মা নিয়েই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার৷’’

    তিনি যখন রওনা হয়েছিলেন, তখন ভারতে অতিমারির দ্বিতীয় ঝড় শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ এখনও সেই ঝড়ে দেশ বিপর্যস্ত ৷ ‘‘ আমি শুধু মাথায় রেখেছিলাম, যে আমি দেশের নাম আমি বহন করছি ৷ অতিমারির মধ্যে আমি দেশে কিছু আশার আলো ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম ৷ ’’

    প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সময় তিনি অনুভব করেছেন সেখানে ভারতের জন্য সহানুভূতির অভাব নেই ৷ কিন্তু তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন ভারতও যথেষ্ট শক্তিধর ৷ দেশের অন্তরাত্মার শক্তি তিনি প্রমাণ করতে পেরেছেন, সে বিষয়ে প্রত্যয়ী এই তরুণী ৷

    গত ১৬ মে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান পান অ্যাডলিন ৷ ২০০০ সালে এই প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান পান লরা দত্ত ৷ সেলিনা জেটলি ২০০১ সালে চতুর্থ বিজয়িনী হন ৷ এর পর ২০ বছরের ক্ষরা কাটিয়ে কোনও ভারতীয় এই প্রতিযোগিতায় প্রথম পাঁচজনের মধ্যে স্থান পেলেন ৷

    বিশ্ব সৌন্দর্যের মঞ্চে প্রথম তিন জনের মধ্যে থাকতে না পেরে অ্যাডলিন নিরাশ বা হতাশ নন৷ বলেছেন, ‘‘আমি অনুতপ্ত নই৷ কারণ প্রথম স্থান একজনই পান ৷ প্রতিযোগিতায় কয়েক জন বলিষ্ঠ নারীর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে ৷ সেই অভিজ্ঞতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে৷’’ এই প্রেরণা নিয়েই ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে চান কোভিডজয়ী অ্যাডলিন ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: