Covid Vaccine for Child: Covaxin-Covishield নাকি নেজাল স্প্রে? আপনার বাচ্চার জন্য কোনটা সঠিক? এখনই জানুন...

তৃতীয় তরঙ্গ এলে সম্ভবত বাকি অনাক্রম্য ব্যক্তিরা সংক্রামিত হতে পারেন- যার মধ্যে শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তৃতীয় তরঙ্গ এলে সম্ভবত বাকি অনাক্রম্য ব্যক্তিরা সংক্রামিত হতে পারেন- যার মধ্যে শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ভারত একটি বিস্তৃত ও জনবহুল দেশ, যার আনুমানিক জনসংখ্যা ১.৩ বিলিয়নেরও (১৩০ কোটি) বেশি। এই বিপুল জনসংখ্যার প্রায় ৩৫.২০ শতাংশই ২০ বছরের কম বয়সী। এক বিলিয়নেরও বেশি মানুষকে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া বর্তমানে দেশের জন্য যেন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে গোটা দেশ। সংক্রমণ ও মৃত্যুমিছিল যেন বারে বারে উঠে আসছে খবরের শিরোনামে। সেই সঙ্গে আরও একটি ভবিষ্যদ্বাণী আমাদের চিন্তায় ফেলেছে। শোনা যাচ্ছে, কোভিড ১৯ -এর তৃতীয় তরঙ্গে না কি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিশুরা। এবার সে বিষয়ে নিজেদের মতামত জানাল ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স (IAP)। IAP-র কথায়, করোনার তৃতীয় তরঙ্গ শিশুদের জন্য বেশি সংক্রামক ও ভয়ঙ্কর হবে, এই বিষয়টি এখনও পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। তবে IAP অবশ্য সতর্ক করে দিয়েছে, “দ্বিতীয় তরঙ্গ শেষ হওয়ার পর, আমরা যদি কোভিড-উপযুক্ত বিধি-নিষেধ অনুসরণ না করি, সেক্ষেত্রে তৃতীয় তরঙ্গ এলে সম্ভবত বাকি অনাক্রম্য ব্যক্তিরা সংক্রামিত হতে পারেন- যার মধ্যে শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।"

UNICEF-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ১০০টি দেশের কোভিড ১৯ তথ্য বিবেচনা করে দেখা গিয়েছে, এই সময় জুড়ে মোট ৮০ মিলিয়ন করোনা কেসের মধ্যে ১১ মিলিয়ন (১৩ শতাংশ) শিশুরা ছিল। সেই সঙ্গে ৭৮টি দেশে কোভিড ১৯-এর কারণে ৬,৮০০ এরও বেশি শিশু ও কিশোর মারা গিয়েছে।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছোট বাচ্চারা SARS-CoV-2-র সুপার স্প্রেডার হয়ে থাকে, এই তত্ত্বটিও অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হয়নি। কিন্তু টিকাকরণ SARS-CoV-2 সংক্রমণে বাধা সৃষ্টি করে। তাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের বিভিন্ন রূপের উত্থানের বিষয়টি বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞরা কোভিড ১৯ সংক্রমণ রুখতে টিকা নেওয়ার পক্ষেই মত প্রকাশ করেছেন। অতএব, যদি আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ উপগোষ্ঠীকে টিকা দিয়ে সংক্রমণের পথ অবরুদ্ধ না করি তবে অদূর ভবিষ্যতে এই শিশু এবং কিশোর-কিশোরীরা কোভিড ১৯ সংক্রমণে বিশেষ অবদান রাখতে পারে।

শিশুদের জন্য কোভিড ভ্যাকসিন: বর্তমান পরিস্থিতি

ফাইজার-বায়োএনটেক (Pfizer-BioNTech) কোভিড ১৯ ভ্যাকসিনটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রথম এবং একমাত্র ভ্যাকসিন, যা ১২-১৫ বছর বয়সীদের জন্য অনুমোদিত। এক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু উভয়ের ক্ষেত্রেই ডোজের বিষয়টি একইরকম। দুটি ডোজের মধ্যে তিন সপ্তাহের (২১ দিন) ব্যবধান থাকবে। ফাইজার-বায়োএনটেকের তরফে ৩১ মার্চ জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তৃতীয় পর্যায়ের গবেষণায় দেখা গিয়েছে এই ভ্যাকসিনটি ১২-১৫ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য ১০০ শতাংশ কার্যকর হবে।

বর্তমানে, সংস্থাটি ৬ মাস থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষের দিকে এই ভ্যাকসিনের জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া যাবে। বিশ্বের মধ্যে কানাডাই প্রথম দেশ, যা ৫ মে ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী বাচ্চাদের ফাইজার ভ্যাকসিন প্রদানে অনুমোদন দেয়।

২৫ মে, কোভিড ১৯ ভ্যাকসিনের মার্কিন (US) নির্মাতা Moderna ৩,৭২৩ জন শিশুদের নিয়ে পরিচালিত TeenCOVE সমীক্ষার দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুসারে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সের বাচ্চাদের জন্য Moderna কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন ১০০ শতাংশ নিরাপদ এবং কার্যকর হিসাবে বিবেচিত হয়েছে।

শিশুদের জন্য কোভিড ভ্যাকসিন: ভারতের অবস্থান

বর্তমানে ভারতে ব্যবহারের জন্য কেবলমাত্র তিনটি করোনা ভ্যাকসিন অনুমোদিত হয়েছে, Covaxin (ভারতের মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের সহযোগিতায় একটি হায়দরাবাদ ভিত্তিক সংস্থা, ভারত বায়োটেক দেশীয় কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন তৈরি করেছে), Covishield (ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া কর্তৃক স্থানীয়ভাবে নির্মিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ভারতীয় রূপ), এবং Sputnik V (মস্কোর গামালিয়া ইনস্টিটিউট দ্বারা বিকাশিত)। ফাইজার ভ্যাকসিনটি এখনও পর্যন্ত ভারত সরকারের তরফে অনুমোদন পায়নি।

তবে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আহমেদাবাদ (Ahmedabad)-ভিত্তিক জাইডাস ক্যাডিলা (Zydus Cadila) ৫ থেকে ১২ বছর বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে তাদের তৈরি কোভিড ভ্যাকসিনের (ZyCoV-D) পেডিট্রিক ট্রায়ালের জন্য শিশু বিশেষজ্ঞেরও পরিকল্পনা করছে।

Published by:Shubhagata Dey
First published: