করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের মাঝেই মাটিতে লাল গুঁড়ো নিয়ে চাঞ্চল্য বর্ধমানে !

করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের মাঝেই মাটিতে লাল গুঁড়ো নিয়ে চাঞ্চল্য বর্ধমানে !

করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের মাঝেই মাটিতে লাল গুঁড়ো নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ালো বর্ধমান শহরের বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়ায়।

  • Share this:

#বর্ধমান: বাড়ির সামনে লাল লাল কি জিনিস! যার জেরে হাঁচি কাশি চোখে জল এলাকাবাসীর! করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের মাঝেই মাটিতে লাল গুঁড়ো নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ালো বর্ধমান শহরের বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়ায়। খবর পেয়ে সব কাজ ফেলে এলো বর্ধমান থানার পুলিশও। পুলিশের জেরায় বেরিয়ে এলো লাল রঙের আসল রহস্য।

সদ্য আমেরিকা থেকে ফিরেছেন এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে করোনা মুক্ত প্রমাণ করতে হাসপাতালে যাননি। তাতে মনে মনে ক্ষুন্ন প্রতিবেশীদের অনেকেই। তার ওপর তাঁর ঘরের সামনে ফুটপাতে ছড়িয়ে রয়েছে টকটকে লাল আবিরের মতো কিছু। অনেকটা এলাকাজুড়েই সেই লালের উপস্থিতি। তবে কি আমেরিকা থেকে আসা বিশেষ কিছু!

প্রথমে বিষয়টি তেমন নজরে আসেনি কারও। কিন্তু ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়া শিশু কিশোররা হাঁচি কাশি চোখ জ্বালায় আক্রান্ত হচ্ছিল। অনেকের মধ্যেই কাশি দেখা দেওয়ায় প্রমাদ গোনেন অনেকেই। তারপর জানা যায় রাস্তার পাশে ছড়ানো লাল রঙই হাঁচি কাশির উৎস। কী এমন জিনিস ভেবেই চক্ষু চড়কগাছ সকলের।

এলাকার বাসিন্দারা খবর দেন পুলিশে। জেলা পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছয়। লাল রঙের কি ছড়ানো হয়েছে বাড়ির মালিককে ডেকে জানতে চায় পুলিশ। বাড়ির মালিক জানান, সারা রাত কুকুরের দল চিৎকার করে। তাদের জ্বালাতনে ঘুম হয় না। তাছাড়া কুকুর এলাকা নোংরা করে রাখে। তাদের তাড়াতে ছড়ানো হয়েছে লঙ্কাগুঁড়ো। এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এবার বিষয়টি পরিষ্কার হয়। এই লঙ্কা গুঁড়ো উড়েই হাঁচি কাশি সকলের। তবে প্রতিবেশিদের কিছু না জানিয়ে গোপনে লঙ্কা গুঁড়ো ছড়িয়ে ওই পরিবার ঠিক কাজ করেননি বলেই মত বাসিন্দাদের।

আমেরিকা থেকে আসা ওই ব্যক্তিকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দাবি তোলেন বাসিন্দারা। পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। রিপোর্ট নেগেটিভ হলে পরিবারের সকলকে নিয়ে চোদ্দ দিন হোম কোয়ারান্টিনে থাকার পরামর্শ দেয় পুলিশ। যদিও এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ পশুপ্রেমীরা। পশুপ্রেমী সংগঠনগুলির অভিযোগ, প্রতিদিনই নানা ভাবে পথ পশুদের ওপর নির্যাতন চলছে। লঙ্কা গুঁড়ো ছড়িয়ে রাখা সেই নির্যাতনেরই আর এক রূপ। পথের কুকুররা তবে থাকবে কোথায়। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পদক্ষেপ জরুরি।

SARADINDU GHOSH

First published: March 20, 2020, 4:20 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर