#EXCLUSIVE: লজ্জার! ১০ ঘণ্টা পরেও হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীর জুটল না খাবার, মিলল শুধু জল-বিস্কিট

প্রতীকী চিত্র ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, করোনা রোগীদের জন্য বরাদ্দ খাবারের আয়োজনে ঘাটতি পরেছে। তাই ওই রোগীর কাছে খাবার পৌঁছনো সম্ভব হয়নি।

  • Share this:

VENKATESWAR  LAHIRI

#কলকাতা:  বয়স বাষট্টি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধা ভর্তি বোলপুরের একটি বেসরকারি কোভিড হাসপাতলে। না, রাজ্যের শুধু ইনিই আক্রান্ত নন। তাঁর মতো প্রতিদিন এ রাজ্যের হাজার হাজার সহ-নাগরিকরা করোনার ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছেন। মৃত্যুও হচ্ছে অনেকের। তবে বোলপুরের কোভিড হাসপাতলে চিকিৎসাধীন জনৈক রোগীর সঙ্গে যা ঘটল তা এককথায় নজিরবিহীন। অমানবিক। লজ্জার।

করোনায় আক্রান্ত হওয়া রোগীদের যেখানে নিয়মিত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকার পাশাপাশি খাদ্য তালিকায় নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দাওয়ার পরামর্শও দেন চিকিৎসকরা, সেখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এই কোভিড হাসপাতলে করোনা আক্রান্ত হওয়া বৃদ্ধার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটল তা এক কথায় অমানবিক বললেও কম বলা হয়। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় বীরভূম জেলার অন্তর্গত বোলপুরের একটি কোভিড  হাসপাতালে ভর্তি হন ওই বৃদ্ধা। একে করোনায় আক্রান্ত, তার উপর ওই বৃদ্ধা মধুমেয়( সুগার) রোগেও আক্রান্ত।

তাই এক জন সুগার পেশেন্ট যদি দীর্ঘক্ষণ অভুক্ত অবস্থায় থাকেন তা হলে যে কোনও  সময় সেই রোগীর হাইপোগ্লাইসেমিয়া ( hypoglycemia ) বা  'সুগার ফল' করার  আশঙ্কা থাকে। যদি কোনও ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে সুগারের মাত্রা ৭০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের  নীচে নেমে যায় তা হলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এই অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হাইপোগ্লাইসেমিয়া এবং জনসাধারণের ভাষায় ‘সুগার ফল’ করা বলে। এ সময় বুক ধড়ফড়, হাত কাঁপা, মাথা ঝিমঝিম, শরীরে অস্বস্তি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়। সুগার ফল কখন  হয় ? চিকিৎসকদের কথায়,বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী ডায়াবেটিসের পুরনো ওষুধ বা ইনসুলিন। এই ধরনের ওষুধ বা ইনসুলিন ব্যবহারের পর কম খাওয়া, দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা, অতিরিক্ত পরিশ্রম ইত্যাদি কারণে সুগার ফলের  আশঙ্কা বাড়ে। নতুন ওষুধ বা ইনসুলিনে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার আশঙ্কা থাকে অনেকটাই কম। সুগার ফলের আশঙ্কা কখন বেশি হয় ? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, দিনের যে কোনও সময় হতে পারে। তবে মাঝরাতে বা ভোরবেলায় সুগার ফল বেশি হতে দেখা যায়। রাতে ঘুমের মধ্যেও এই সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে।কতটা বিপজ্জনক ? এই প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসক মহলের বক্তব্য, অত্যন্ত বিপজ্জনক। সময়ে ব্যবস্থা না নিলে সমস্যা জটিল হতে পারে। রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই চিকিৎসকরা যেখানে বলছেন, সুগার ফলের অন্যতম কারণ দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা সেখানে চিকিৎসাধীন এক করোনা তথা সুগার রোগে আক্রান্ত রোগীকে দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে রেখে দেওয়ার ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠল এ রাজ্যেরই এক কোভিড হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ, শুক্রবার বিকেল চারটে নাগাদ বোলপুরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন এক বৃদ্ধা। দুপুরে বাড়িতে হালকা খাওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তির সময় থেকে পরবর্তী প্রায় দশ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও খিদেতে ছটফট করা ওই রোগী ও তাঁর পরিবার বারবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের একাধিকবার খেতে দেওয়ার আর্জি  জানালেও বারবার ‘দিচ্ছে দিচ্ছে’ বলে এড়িয়ে যায় সবাই। আরও অভিযোগ, বিকেল চারটে থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত কার্যত 'নির্জলা' রাখা হয় ওই রোগীকে। করোনা রোগীকে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া তো দূরের কথা, মাত্র দু’টি বিস্কিট চাইলেও মেলেনি তা। এরপর অসহায় রোগীর পরিবার যোগাযোগ করে নিউজ এইট্টিন বাংলার প্রতিবেদকের  সঙ্গে। বলা হয় সমস্যার কথা। রোগীর এক নিকট আত্মীয় জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনা রোগীদের জন্য বরাদ্দ খাবারের আয়োজনে ঘাটতি পরেছে। তাই ওই রোগীর কাছে খাবার পৌঁছনো সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের তরফে এই যুক্তির কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা হয় রোগী ও তাঁর পরিবারের। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত সাড়ে বারোটা ছুঁইছুঁই। তড়িঘড়ি হাসপাতালের ফোন নম্বর জোগাড় করে নিউজ এইট্টিন বাংলার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলা হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। হাসপাতালের তরফে  বলা হল, 'ব্যবস্থা করা হচ্ছে'। তখন রাত একটা বেজে দশ মিনিট। রোগীর পরিবারের এক সদস্য মিলন মুখোপাধ্যায় প্রতিবেদককে ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, 'তাঁর রোগীর কাছে খাবার পৌঁছে গিয়েছে । চারটে বিস্কুট আর জল'। প্রশ্ন উঠছে, কেন এই চরম অবহেলা ? অমানবিকতা ? প্রশ্ন আছে। উত্তর দেবে কে ? ''পুষ্টিকর'' বিস্কুট-জল খেয়েই  ডিনার সারতে হল করোনা রুগীকে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন রীতিমতো বেসামাল জনজীবন। তখন স্বাস্থ্যে অস্বাস্থ্যের এই ছবি সত্যিই লজ্জার।

Published by:Simli Raha
First published: