করোনা যোদ্ধা, মহিলা অ্যাম্বুলেন্স চালক সেরিনার হাতে ৫০ হাজার টাকা চেক তুলে দিলেন বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যানী

সেলিনার মতো লড়াকু মানসিকতা এই সমাজে আরও প্রয়োজন, মনে করেন বিধায়ক৷

সেলিনার মতো লড়াকু মানসিকতা এই সমাজে আরও প্রয়োজন, মনে করেন বিধায়ক৷

  • Share this:

#হেমতাবাদ: করোনা যোদ্ধা স্বীকৃতি হিসেবে হেমতাবাদের মহিলা অ্যাম্বুলেন্স চালকের হাতে দ্বিতীয় কিস্তির ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দিলেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যানী। বিধায়কের এই উপহার হাতে পেয়ে উজ্জীবিত সেলিনা। হেমতাবাদ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক জানান, সেলিনা করোনা রোগীদের জন্য যেভাবে কাজ করছে তা দেশের মধ্যে দৃষ্টান্ত। ভ্যাকসিন নিয়েও আজ বহু মানুষ করোনায় আক্রান্ত হলেও সেলিনা ভ্যাকসিন না নিয়েও এই সেবা একই ভাবে করে যাচ্ছেন। সেলিনা জানিয়েছেন,  এই টাকা দিয়ে মা এবং বাবার চিকিৎসা করাবেন।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করতে হেমতাবাদে এসেছিলেন। সেই বৈঠকে তৎকালীন জেলা আয়েষা রানী মহিলা অ্যাম্বুলেন্স চালকদের হাতে মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি তুলে দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন দক্ষিণ হেমতাবাদের বাসিন্দা সেলিনা পারভিন। বাড়িতে বাবা, মা, দিদি এবং ভাইপো নিয়ে তাদের সংসার। বাবা কৃষি কাজ করে কোনও রকমভাবে সংসার চালান। সেলিনা অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হাতে পাওয়ায় বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। হেমতাবাদ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে রোগীদের রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং সেখান থেকে নিয়ে আসতেন। মাসে সাত থেকে আট হাজার টাকা উপার্জন হত।

এভাবেই দিন কাটছিল সেলিনার। ২০২০ সালে আচমকা বিশ্বজুড়ে করোনা মত মারণ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। সেলিনা পারভিন হেমতাবাদের অ্যাম্বুলেন্স চালক সবাইকে অবাক করে দিয়ে করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ালেন। হেমিতাবাদে তখন এই রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু হয়নি। হেমতাবাদে কোনও ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলেই ডাক পড়ত সেলিনার। ডাক পেলেই নির্ভয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাজির হতেন সেলিনা পারভিন। পরিবারের সদস্যরা এই মারণ রোগে আক্রান্ত না হয়ে পড়েন তার জন্য তিনি পরিবারকে ছেড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছোট্ট ঘরে বাসা বাঁধেন। এভাবেই তিনি সংবাদের শিরোনামে চলে আসেন। সংবাদমাধ্যমেই সেলিনার কথা জানতে পারেন রায়গঞ্জের বিশিষ্ট শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যানী। তাঁর নজরে আসার পরই করোনা যোদ্ধা স্বীকৃতি হিসেবে কোম্পানীর অনারিয়াম এক্সিকিউটিভ হিসেবে মনোনীত করেন। কৃষ্ণবাবু ঘোষণা করেছিলেন করোনা যোদ্ধা স্বীকৃতি স্বরূপ আগামী তিন বছর তাঁর হাতে ৫০ হাজার টাকা করে তুলে দেবেন। সেই ঘোষণার পরই তাঁর হাতে ৫০ হাজার টাকা চেক তুলে দিয়েছিলেন। এবার তিনি রায়গঞ্জের বিধায়ক।

করোনা আক্রান্ত মানুষ আজ কী অসহয়ায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তা তিনি খুব কাছ থেকে দেখছেন৷ ফলে সেলিনার মতো লড়াকু মানসিকতা এই সমাজে আরও প্রয়োজন। তাই এবারে দ্বিতীয় কিস্তির ৫০ হাজার টাকা সেলিনার হাতে তুলে দিলেন। হেমতাবাদ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে বিশিষ্ট শিল্পপতি বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যানী এই চেক তুলে দিলেন। চেক প্রদানের পর কৃষ্ণবাবু জানান, "সেলিনা বুক চিতিয়ে করোনার বিরুদ্ধে মানুষকে যেভাবে পরিষেবা দিচ্ছেন তা এককথা অতুলনীয়। সেলিনার মত আরও কিছু মানুষ এগিয়ে এলে তবেই আমরা একে জয় করতে পারব। করোনা যোদ্ধা স্বীকৃতি স্বরূপ দ্বিতীয় কিস্তির ৫০ হাজার টাকার চেক তাকে তুলে দেওয়া হয়েছে।"

হেমতাবাদ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক রাহুল বিশ্বাস জানান, "সেলিনা রাজ্যের মধ্যে প্রথম মহিলা অ্যাম্বুলেন্স চালক। এধরনের মানুষ বা মহিলাদের উৎসাহিত করতে কৃষ্ণবাবুর মত মানুষ এগিয়ে আসায় তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা নেই। কারণ করোনা সংক্রামণ ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মানুষ ভয়ে এই কাজ করতে পিছিয়ে পড়েছিল। সেখানে সেলিনা করোনা রোগীদের যেভাবে পরিষেবা দিয়েছেন তা বলে শেষ করা যাবে না। এধরনে যোদ্ধারা স্বীকৃতি পেলে অন্যরা উৎসাহিত হবেন" বলে রাহুলবাবু মনে করেন। সেলিনা হাতে চেক পাবার পর জানান, গতবছর ৫০ হাজার টাকা চেক পাবার পর বাবা এবং মায়ের চিকিৎসা করাতে সমর্থ হয়েছেন। এই টাকা না পেলে হয়ত তাদের চিকিৎসা করাতেই পারতেন না। এবারেও বাবা এবং দুইজনই অসুস্থ। টাকা হাতে পেলেই তাদের চিকিৎসা শুরু করতে পারবেন।কৃষ্ণবাবু এই আর্থিক সহায়তা তাঁকে ভীষনভাবে উপকৃত করেছে।

Published by:Pooja Basu
First published: