corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনা আবহে দৃষ্টিহীন ছাত্রদের পরীক্ষার জন্য মিলছে না 'রাইটার', সঙ্কটে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ স্কুলের পড়ুয়ারা

করোনা আবহে দৃষ্টিহীন ছাত্রদের পরীক্ষার জন্য মিলছে না 'রাইটার', সঙ্কটে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ স্কুলের পড়ুয়ারা

মূলত করোনা আবহেই যারা ইতিমধ্যেই রাইটার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন তাদের অভিভাবকরা ছাত্রদের পাঠাতে নারাজ। যার জেরে সমস্যায় পড়েছেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমির দশজন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।

  • Share this:

#কলকাতা: উচ্চমাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষার জন্য রাইটার পাচ্ছে না নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমীর উচ্চ মাধ্যমিক এর পড়ুয়ারা। মূলত করোনা আবহেই যারা ইতিমধ্যেই রাইটার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন তাদের অভিভাবকরা ছাত্রদের পাঠাতে নারাজ। যার জেরে সমস্যায় পড়েছেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমির দশজন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।

আগামী ৬ জুলাই এই ১০জন ছাত্রের সংস্কৃত পরীক্ষা রয়েছে। রাইটার না পাওয়ায় কিভাবে এই ছাত্ররা পরীক্ষা দেবেন তার জন্য উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদকে চিঠি পাঠিয়েছে ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমি প্রিন্সিপাল। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমির প্রিন্সিপাল বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন " সাধারণত আমাদের নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রদের রাইটার হিসেবে কাজ করে। তার জন্য উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের অনুমতিও ইতিমধ্যেই নেওয়া ছিল। কিন্তু বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে সেই অভিভাবকরা তাদের ছাত্রদের পাঠাতে চাইছেন না রাইটার হিসেবে কাজের জন্য। বলতো নতুন রাইটার পেতে গেলেও তাকে সংস্কৃত বিষয়ে একটু জ্ঞান থাকতে হবে। তাই আমরা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদকে চিঠি দিয়েছি। আমরা বলেছি যদি আমাদের স্কুলের শিক্ষা কর্মীদের রাইটার হিসেবে ব্যবহার করা যায় বা কলেজের ছাত্রদের সেই বিষয়ে যদি সংসদ অনুমতি দেয়।"

তবে শুধু রাইটার সমস্যাতেই নয় ব্লাইন্ড পরীক্ষার্থীদের কিভাবে এই পরিস্থিতিতে অন্য স্কুলে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন একাডেমির প্রিন্সিপাল। বিশেষত ব্লাইন্ড ছাত্রদের অন্য স্কুলে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যেতে হলে সেখানে তাদেরকে ধরে নিয়ে যেতে হবে। তাই সামাজিক দূরত্ব বিধি মানা সম্ভবপর নয়। ফলত, যাতে ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমীর এই ১০  ছাত্রের হোম সেন্টার অর্থাৎ নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমিতেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যায় সে বিষয়েও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন স্কুলের তরফে। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে স্কুলের প্রিন্সিপাল জানান " আমরা সংসদ কে চিঠি লিখেছি যাতে হোম সেন্টারেই পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। সে ক্ষেত্রে সংসদ থেকেই পরিদর্শক এসে পরীক্ষার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন।"

করোনাভাইরাস এবং লকডাউন এর জন্য মার্চ মাসেই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের সকল ছাত্ররা বাড়ি ফিরে গেছেন। যেহেতু এই পরিস্থিতিতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায় তাই যারা রাইটার হিসাবে এই ছাত্রদের কাজ করছিলেন তারাও বাড়ি ফিরে গেছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অভিভাবকরা আর সেই ছাত্রদের পাঠাতে চাইছেন না অন্তত নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃপক্ষ এমনটাই জানাচ্ছেন। সাধারণত ব্লাইন্ড ছাত্রদের রাইটার হিসেবে কাজ করার জন্য নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমি রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্রদের নাম ফটোগ্রাফ সহ পাঠানো হয় অনুমতির জন্য। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সেই নাম গুলিতে অনুমতি দিলে তবেই মিশনের দশম শ্রেণীর ছাত্ররা এই ব্লাইন্ড ছাত্রদের হয়ে রাইটার হিসাবে পরীক্ষা দিতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে এই ছাত্ররাই এখন না ফিরতে রাজি হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমির ১০ জন ছাত্র।

তাই এখন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমির ১০ জন ছাত্রকে ৬ জুলাই উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা দেওয়ানোটাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মিশন কর্তৃপক্ষের কাছে। যদিও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদকে চিঠি পাঠানোর পর এখনও পর্যন্ত সংসদের তরফে কোনও উত্তর আসেনি বলেই বলছেন ব্লাইন্ড বয়েজ স্কুল একাডেমি কর্তৃপক্ষ। অবশ্য এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সভাপতি মহুয়া দাসের।

সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: Elina Datta
First published: June 15, 2020, 4:37 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर