Vaccine: ভ্যাকসিন নেওয়া হয়েছে? নাকি এবার নেবেন? জেনে নিন ভ্যাকসিনে ভুল হলে কী কী সুবিধা পেতে পারেন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভারতের দু'টি ভ্যাকসিন Covishield ও Covaxin-কে নিরাপদ বলে সিলমোহর দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভারতের দু'টি ভ্যাকসিন Covishield ও Covaxin-কে নিরাপদ বলে সিলমোহর দিয়েছে।

  • Share this:

ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ড নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এর পর থেকে অনেকেই ভয়ে রয়েছেন ভ্যাকসিন নিয়ে। চিকিৎকদের দাবি এই ভয় ডেকে আনতে পারে শরীরের নানা বিপত্তি। তবে এত ভয় পেয়ে লাভ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভারতের দু'টি ভ্যাকসিন Covishield ও Covaxin-কে নিরাপদ বলে সিলমোহর দিয়েছে।

অন্য দিকে আমেরিকান ভ্যাকসিন Pfizer কবে থেকে ভারতে পাওয়া যাবে সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। সূত্র বলছে, Pfizer এবং Moderna একটি ইন্ডেমনিটি (Indemnity) শর্ত রেখেছে। সেই শর্তে ভারত সিলমোহর দিলেই দেশের বাজারে উপলব্ধ করা হবে Pfizer ভ্যাকসিন। সেই শর্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে ভ্যাকসিনের কারণে যদি কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তাহলে ভ্যাকসিন সংস্থার কাছে কোনও ক্ষতিপূরণ চাওয়া যাবে না। এর মানে দাঁড়াচ্ছে Pfizer এবং Moderna রক্ষাকবচ চাইছে দেশের কাছে। Pfizer এবং Moderna-র দেখাদেখি পুণের Covishield প্রস্তুতকারী সংস্থা সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়াও (Serum Institute Of India) একই শর্ত রেখেছে। আসলে Pfizer এবং Moderna আমেরিকা, ইউকে সহ একাধিক দেশে এমন শর্ত রেখেছে।

Pfizer ও ভারত সরকারের সঙ্গে হওয়া কথোপকথন এখনও সামনে আসেনি। কারণ বিজনেস সংক্রান্ত বিশেষ কিছু জানানো হয় না। এছাড়াও ভ্যাকসিন সংস্থার সঙ্গে সরকারের চুক্তির গোপনীয়তা রয়েছে। এনআইটিআই-এর সদস্য ড. ভি কে পাল (V.K. Paul) বলেছেন ভ্যাকসিন-এর রক্ষাকবচ নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। কারণ, বিষয়টি গুরুতর।

ইন্ডেমনিটি শর্ত নিয়ে বলে রাখা ভালো, এটা হল ক্ষতিপূরণের আইনি সুরক্ষা। যা কি না ভ্যাকসিন সংস্থাকে একটি রক্ষাকবচ প্রদান করবে। এর ফলে টিকা নেওয়া পরে কারও দেহে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট টিকা সংস্থার এতে কোনও দায় থাকবে না এবং ক্ষতিপূরণও দিতে হবে না। ভারতের ড্রাগ আইন অনুসারে কোনও নতুন ওষুধ বাজারে নিয়ে আসার সময় ইন্ডেমনিটি বা রক্ষাকবচ প্রদান করা হয় না। এটা করা হলে ভারত সরকার জবাবদিহি করতে বাধ্য হয়ে পড়বে। এমন কিছু শর্ত স্বাক্ষরিত হলে সেটাকে উল্লেখ করতে হবে, যে কেন করা হল!

ভারতীয় ড্রাগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখনও পর্যন্ত তিনটি ভ্যাকসিন-কে ছাড়পত্র দিয়েছে। Covishield, Covaxin এবং Sputnik V। এদের কাউকেই ইন্ডেমনিটি দেওয়া হয়নি। ভারতের ড্রাগ আইন বলে ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য কোনও স্বেচ্ছাসেবক মারা গেলে বা গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেলে, তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু যখন ভ্যাকসিন বা ড্রাগ ব্যবসার জন্য অনুমোদন পায়, তখন আইন অনুসারে ক্ষতিপূরণের কোনও ব্যবস্থা নেই। তবে কেউ যদি কোনও সমস্যায় পড়েন তাহলে তাঁকে কনজিউমার ফোরাম (Consumer Forum) অথবা শীর্ষ আদালতের (Supreme Court) দ্বারস্থ হতে হবে। কনজিউমার ফোরাম ও কোর্ট যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই মেনে নিতে হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইন অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেওয়ার পরে যদি কেউ মারা যায় বা কারও গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাহলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। তবে তাতে অনেক ঝুঁকি রয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ১,৩৬০টি মামলা রয়েছে যার মধ্যে মাত্র ২৯টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। যাঁরা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, তাঁরা ১.২০ লক্ষ পাউন্ড পেয়েছেন যা ভারতীয় মুদ্রায় ১.২৩ কোটি টাকা।

সব চেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যদি ভারত Pfizer এবং Moderna-র মত ভ্যাকসিনকে ইন্ডেমনিটি প্রদান না করে তাহলে ভ্যাকসিন সংস্থা বেশি দামে টিকা সরবরাহ করবে। আর যদি ইন্ডেমনিটি দেওয়ার কথা বলে সরকার, তখন বাজারে কম দামে টিকা পাওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে কোনও গুরুতর ঘটনা ঘটলে সরকারকে সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা দায়ী থাকবে না। আবার আরও একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, ইন্ডেমনিটি প্রদান করা হলে করোনার তৃতীয় ঢেউ সামাল দেওয়া যেতে পারে। কারণ Pfizer আমেরিকা সহ কয়েকটি দেশে ১২ বয়স বা তার বেশি বয়সের বাচ্চাদেরও দেওয়া হয়েছে।

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published: