Home /News /business /
আগেকার সমস্ত প্রযুক্তির তুলনায় শক্তিশালী এবং অনেক বেশি উন্নত 5G! জানুন এর কারণ এবং প্রভাব!

আগেকার সমস্ত প্রযুক্তির তুলনায় শক্তিশালী এবং অনেক বেশি উন্নত 5G! জানুন এর কারণ এবং প্রভাব!

অনেক শিল্পে ইতিমধ্যেই 5G ব্যবহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে এটি আরও অনেক শিল্প ক্ষেত্রে এবং বহু দুর্গম এলাকায় ব্যবহার করা হবে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: উচ্চ গতির পঞ্চম প্রজন্ম বা ৫জি (5G) টেলিকম স্পেকট্রামকে ২০ বছরের জন্য নিলাম করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। গতি, পরিষেবার পরিমাণ, যথাযথতা এবং আরও অনেক বিষয়ে ৪জি (4G) প্রযুক্তির তুলনায় অনেকটাই উন্নত ৫জি (5G) টেলিকম প্রযুক্তি। বলা যায়, আগের সমস্ত প্রযুক্তির তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ৫জি। আর এই কারণেই শিল্পক্ষেত্রে তো বটেই, এমনকী জনসাধারণেরও নজর কেড়েছে 5G প্রযুক্তি। তাই 4G-র তুলনায় 5G প্রযুক্তি কতটা কিংবা কীভাবে আলাদা এবং মানুষের জীবনে এটা কী কী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, সেই বিষয়েই আজ আমরা আলোচনা করে নেব।

আরও পড়ুন: সময় থাকতেই সেরে নিন এই কাজটি, না হলে মিলবে না আগামী কিস্তির টাকা

বিলম্ব বা লেটেন্সি (Latency): 4G ও 5G এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হল বিলম্ব বা লেটেন্সি। অর্থাৎ এভাবে টেলিকম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সময়ের বিলম্বকে বোঝানো হচ্ছে। 4G-র ক্ষেত্রে সময়ের বিলম্ব হয় ৬০ মিলিসেকেন্ড থেকে ৯৮ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে। তবে আরও ৫ মিলিসেকেন্ডের কম সময়ের বিলম্ব হয় 5G-র ক্ষেত্রে। এমনকী কখনও কখনও এই বিলম্ব ১ মিলিসেকেন্ড পর্যন্তও নামতে পারে। এর ফলে প্রায় প্রকৃত সময়ের উপর ভিত্তি করে ডেটা গ্রহণ করা সম্ভব হয়, যা বহুল ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরি করে। আর এর জন্যই 5G ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

গতি ও ক্ষমতা (Speed and Capacity): 5G মানেই গতি এবং শক্তি। রেডিও তরঙ্গে বাহিত হয় ডেটা। কিন্তু এতে একটা সীমা থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতি বছর আনুমানিক বার্ষিক ৬০ শতাংশ হারে ডেটার ব্যবহার বাড়ছে। আর এর অর্থ হল, আরও অনেক মানুষ সমান পরিমাণে রেডিও তরঙ্গ ব্যবহারের জন্য এই ক্ষেত্রে ঢুকে পড়ছেন। আর তাই 5G-র রয়েছে সুবিশাল ক্ষমতা বা শক্তি। যার অর্থ হল, একই সময়ে আরও অনেক বেশি সংখ্যক ব্যবহারকারী আগের তুলনায় বেশি গতিতে ডেটা ব্যবহার করার সুবিধা পাবেন। সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে বোঝাতে গেলে, 5G প্রতি সেকেন্ডে ১০ গিগাবিট (GBPS) থেকে ২০ গিগাবিটের মধ্যে গতি অর্জন করতে সক্ষম। যা 4G-র গতির তুলনায় ১০ গুণ বেশি। প্রযুক্তিগত ভাবে এই গতি সর্বোচ্চ গতি হিসেবেই পরিচিত, তবে এর প্রকৃত অন-গ্রাউন্ড গতি কম হবে।

আরও পড়ুন: মুদ্রাস্ফীতি সত্ত্বেও সোনায় বিনিয়োগ কি লাভজনক হতে পারে? জেনে নিন বিশদে

সামর্থ্য (Capability): ফোন সংযোগ করার জন্যই সাধারণত ডিজাইন করা হয়েছিল 4G অবধি নেটওয়ার্কগুলি। তবে এই বিষয়টাতেই পরিবর্তন এসেছে 5G আসার পরেই। 5G নেটওয়ার্ক আমাদের জীবনের বিভিন্ন দিককে নানা পরিষেবার সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, ইন্টারনেট অফ থিংস বা আইওটি (IoT)-র কথা। যা লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ট্রাফিক লাইট ইত্যাদির মতো বিভিন্ন ডিভাইসকে সংযুক্ত করে৷ এই ভাবে এটি বিভিন্ন নেটওয়ার্কের রূপে কাজ করতে পারে। প্রযুক্তিগত পরিভাষায় এটি ‘নেটওয়ার্ক স্লাইসিং’ (network slicing) নামে পরিচিত। তাই 5G ব্যবহার করে, ফোন চালানোর পাশাপাশি অন্যান্য ডিভাইসের সঙ্গেও আমরা যুক্ত থাকতে পারব।

সংযোগ (Connections): প্রথম থেকে শুরু করে 4G প্রযুক্তি পর্যন্ত আমরা এটাই দেখেছি যে, যখন কোনও একটি স্থানে বেশি পরিমাণ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়, তখন সেখানকার নেটওয়ার্কে কনজেশন বা বাধাবিপত্তি হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে 5G-র ক্ষেত্রে এমনটা হবে না। এই নতুন প্রযুক্তি যে কোনও স্থানে বিপুল সংখ্যক ডিভাইসে দারুণ এবং নিখুঁত ভাবে প্রেরণ করার ক্ষমতা রাখে। এরিকসনের (Ericsson) একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, 5G প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতি বর্গকিলোমিটার ক্ষেত্রে দশ লক্ষ ডিভাইসে কার্যকর ভাবে পরিষেবা দেওয়া যেতে পারে।

5G ব্যবহারের ক্ষেত্র: অনেক শিল্পে ইতিমধ্যেই 5G ব্যবহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে এটি আরও অনেক শিল্প ক্ষেত্রে এবং বহু দুর্গম এলাকায় ব্যবহার করা হবে। যা মানুষের জীবনকে দৈনন্দিন ভিত্তিতে প্রভাবিত করতে সক্ষম হবে। বর্তমানে এটি যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই তালিকার বিষয়েই আলোচনা করে নেওয়া যাক।

আরও পড়ুন: কোভিড পরিস্থিতিতেও ২২০ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন দিয়েছে এই মিড ক্যাপ মিউচুয়াল ফান্ড

ট্রাফিক (Traffic): পরিকাঠামোয় 5G প্রযুক্তির সবচেয়ে দৃশ্যমান ব্যবহারগুলির মধ্যে অন্যতম হল ট্রাফিকের ক্ষেত্রেই। গাড়ি, রেলওয়ে, জাহাজ এবং এয়ারলাইনসের ব্যবহার পরিবহণ ক্ষেত্রে দ্রুত বাড়ছে। আর নিকটবর্তী প্রকৃত সময়ের ভিত্তিতে পরিবহণের এই মাধ্যমগুলিকে ট্রাফিক পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করে 5G প্রযুক্তি। যার ফলে যানবাহনগুলিকে মসৃণ ভাবে চালনা করা যায়। শুধু তা-ই নয়, প্রতিকূল আবহাওয়া, কোথায় মেরামতির কাজ চলছে এবং অন্যান্য বাধাবিপত্তি কোথায় রয়েছে, এই ধরনের সব তথ্যও নিকটবর্তী প্রকৃত সময়ের ভিত্তিতে রাস্তায় নামা যানবাহনের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে এই প্রযুক্তি। যার ফলে যানজট এবং দুর্ঘটনার মতো বিষয় এড়ানো সহজ হয়ে উঠছে।

কৃষি (Agriculture): জমির নিচে স্থাপন করা মাটির সেন্সর 5G প্রযুক্তির মাধ্যমেই ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় জল ও সারের সঠিক পরিমাণ পরিমাপ করার কাজ করে। বীজ বপন করার সঠিক সময়ের কোনটা, তা বিচার করা থেকে শুরু করে সেলফ ড্রাইভিং রোবটের মাধ্যমে করানো খেতের বিভিন্ন কাজকর্ম– এই সবই সম্ভব করেছে 5G। বর্তমানে চাকরির খোঁজে বেশির ভাগ মানুষই কৃষিকাজ ছেড়ে গ্রাম থেকে শহরে চলে আসছেন। তাই উচ্চ উৎপাদনশীলতার স্তরে আরও বেশি পরিমাণে ফসল উৎপাদন এবং সকল সরঞ্জাম আরও ভালো ভাবে ব্যবহার করা দরকার। আর এটা সম্ভব হতে পারে শুধু মাত্র 5G প্রযুক্তির সাহায্যে।

ম্যানুফ্যাকচারিং (Manufacturing): 5G ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো গড়ে তুলতে পারে স্মার্ট কারখানা। 5G ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence / AI), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (Augmented Reality / AR), অটোমেশন (Automation) এবং IoT সহ অন্যান্য প্রযুক্তির সংমিশ্রণে এমনটা করা যেতে পারে। এমন কাজ করার জন্য রোবট তৈরি করা যেতে পারে, যা নির্ভুল ভাবে কাজও করবে এবং ভারী ওজন বহনও করার ক্ষমতা রাখবে। আর এটি সম্ভব করে তুলবে কম লেটেন্সি, উচ্চ ব্যান্ডউইথ-সহ 5G-র দেওয়া সুরক্ষিত সংযোগ।

প্রয়োজন অনুসারে শিল্প থেকে শিল্পে এটি পরিবর্তন করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ ফার্মা শিল্পে, 5G ব্যবহার করে নতুন ফর্মুলেশনের বিকাশ করার জন্য বড় আকারের ডেটা ক্রাঞ্চিং করা যেতে পারে, এর ফলে সার্জন বা শল্যচিকিৎসকেরা দূরবর্তী স্থানে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। আসলে সেক্ষেত্রে দূরে বা শহরে বসে থাকা সার্জনদের দেওয়া নির্দেশ অনুসারে রোবোটিক ডিভাইসগুলিই এমন ধরনের সার্জারি করতে পারবে। আর তা সম্ভব করবে লে-লেটেন্সি সীমা। এর ফলে রোধ করা যেতে পারে রক্তক্ষরণের মতো বিষয়ও।

সমুদ্র বা সাগরে আরও নির্ভরযোগ্য ভাবে এবং দ্রুত 5G কভারেজের বিষয়েও নজর দিচ্ছে শিপিং ইন্ড্রাস্ট্রি৷ 5G নেটওয়ার্ক ও স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কগুলির একীকরণের সঙ্গে পণ্য শিপিং করার সময় বিভিন্ন বন্দরে কয়েক লক্ষ কন্টেনার ট্র্যাক করার জন্য IoT ব্যবহার করা হয়।

গেমিং (Gaming): ভারতে এবং বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের দ্রুত বিস্তারের কারণে অনলাইন গেমিং ইন্ডাস্ট্রি উৎসাহ পেয়েছে। বর্তমানে গেমিং শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, কারও কারও কাছে গেমিং আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে। এই সব অন-দ্য-গো গেমিংয়ের কারণেই সম্ভব হয়েছে। উচ্চ-গতির গেমিং এবং 5G ব্যবহারের মাধ্যমে বাস্তবিক জীবনের গতিতে একাধিক স্থান থেকে একাধিক খেলোয়াড়ের হোস্ট করার ক্ষমতা এটিকে সম্ভব করে তুলেছে। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, অনলাইন গেমিংয়ের ২০২১ সালের বাজার মূল্য প্রায় ১৯৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগামী পাঁচ বছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪০ বিলিয়ন ডলার হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই সব 5G প্রযুক্তির জন্যই সম্ভব হবে। কার্যত জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে 5G ব্যবহারের ঘটনাগুলি প্রসারিত হবে, কারণ পরবর্তী সময়ে নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব হবে। এমনকী বলা যেতে পারে যে, ভবিষ্যতে সংযুক্ত বিশ্বের জন্য ভিত্তি পরিকাঠামো তৈরি করছে 5G।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published:

Tags: 5G, New Technology

পরবর্তী খবর