হোম /খবর /ব্যবসা-বাণিজ্য /
ভারতের মাটিতে সম্পত্তি কেনাবেচা! কী হারে কর দিতে হবে, বাঁচানোর পথই বা কী, জানুন

Property: ভারতের মাটিতে সম্পত্তি কেনাবেচা! কী হারে কর দিতে হবে, বাঁচানোর পথই বা কী, জানুন

অবশ্যই জানুন

অবশ্যই জানুন

Property: ভারতে বিক্রয় করা সম্পত্তিতে একজন এনআরআই-এর মূলধন লাভের উপর কর দিতে হয়।

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: অনেকেই সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন। সে ক্ষেত্রে সেই সম্পত্তি বিক্রি করলে একটা অংশ কর দিতে হয় ভারত সরকারকে। পাশাপাশি যাঁরা বিদেশে থাকেন বা এনআরআই, তাঁরাও অনেক সময় এ দেশে থাকা পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। সে সব ক্ষেত্রে তাঁরা কতটা কর দেবেন বা কতটা টিডিএস কাটা হবে, তা নিয়ে একটা বিভ্রান্তি থেকেই যায়।

    ভারতে বিক্রয় করা সম্পত্তিতে একজন এনআরআই-এর মূলধন লাভের উপর কর দিতে হয়। কী ভাবে, কতটা, সে সব বিষয় নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ওঠে। কী করা উচিত তা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত—

    যখন একটি স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করা হয়, তার মালিকানার তারিখ থেকে দু’বছর পর্যন্ত (২০১৭ সালের বাজেটে তিন বছর থেকে কমিয়ে দু’বছর করা হয়েছে) একটি দীর্ঘমেয়াদি মূলধন লাভ ধরা হয়৷ তবে যদি এটি ২ বছর বা তার কম সময়ের জন্য রাখা হয় তা হলে স্বল্পমেয়াদি মূলধন লাভ ধরা হয়। উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে এনআরআইদের জন্য কর দিতে হয়।

    যদি সম্পত্তিটি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি বা স্বল্পমেয়াদি মূলধন লাভ কি না তা গণনা করতে আসল মালিকের ক্রয়ের তারিখ বিবেচনা করতে হবে। এই ধরনের ক্ষেত্রে, সম্পত্তির মূল্য পূর্ববর্তী মালিকের খরচের উপর নির্ভর করবে।

    আরও পড়ুন: বীরভূমে এসে 'নবান্ন' খেলেন সুকান্ত মজুমদার, সঙ্গে ভুরিভোজ! কী ছিল তালিকায়?

    করের পরিমাণ—

    দীর্ঘমেয়াদি মূলধন লাভে ২০ শতাংশ হারে কর ধার্য করা হয়, এবং স্বল্পমেয়াদি লাভগুলি এনআরআই-দের জন্য প্রযোজ্য আয়কর স্ল্যাব হারে হয়ে থাকে। এনআরআই-এর জন্য ভারতে মোট করযোগ্য আয়ের উপর ভিত্তি করে কর দিতে হয়।

    টিডিএস ছাড়—

    যখন কোনও এনআরআই এই দেশে তাঁর সম্পত্তি বিক্রি করেন, তখন ক্রেতাকে ২০ শতাংশ টিডিএস কাটাতে হয়। যদি সম্পত্তিটি দু’বছরের আগে বিক্রি করা হয় (ক্রয়ের তারিখ থেকে) তবে ৩০ শতাংশ টিডিএস প্রযোজ্য হবে।

    মূলধন লাভের উপর কর বাঁচানোর উপায়—

    এনআরআই-দের ক্ষেত্রে ভারতে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন লাভের উপর আয়কর আইনের ৫৪ এবং ৫৪ইসি ধারার অধীনে ছাড় দাবি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    আরও পড়ুন: রেলের পাওয়ার হাউসে থেঁতলে যাওয়া মুখ, কী মারাত্মক দৃশ্য! মগরাহাট জুড়ে আতঙ্ক

    ধারা ৫৪-র অধীনে কর ছাড়—

    কোনও এনআরআই-এর স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন লাভ হলে এই ছাড় পাওয়া যেতে পারে। বাসগৃহটি স্ব-অধিকৃত হতে পারে বা ভাড়া দেওয়া হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে সম্পূর্ণ বিক্রয় রসিদ বিনিয়োগ করা যাবে না। শুধু মূলধন লাভের পরিমাণই দেখাতে হবে। সে ক্ষেত্রে নতুন সম্পত্তির ক্রয় মূল্য মূলধন লাভের পরিমাণের চেয়ে বেশি হতে পারে। যাই হোক, কর ছাড় বিক্রয়ের মোট মূলধন লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।

    এ ছাড়াও, এই সম্পত্তি বিক্রয়ের এক বছর আগে বা সম্পত্তি বিক্রির দু’বছর পরে নতুন সম্পত্তি কেনা যেতে পারে। তাতে একটি সম্পত্তি নির্মাণে লাভ বিনিয়োগ করা যেতে পারে। কিন্তু বিক্রয়ের তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে নির্মাণ শেষ করতে হবে।

    ধারা ৫৪ ইসি-র অধীনে ছাড়—

    নির্দিষ্ট বন্ডে বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন লাভের উপর কর ছাড় পাওয়া যেতে পারে। ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এনএইচএআই) বা রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন কর্পোরেশন (আরইসি) দ্বারা জারি করা বন্ডগুলি এ জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে৷ এগুলি পাঁচ বছর পরে তুলে নেওয়া যায় (আগে এই মেয়াদ তিন বছরের ছিল, ২০১৮ সালের পরে তা পাঁচ বছরের করা হয়েছে)। স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির তারিখ থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত তা বিক্রি করা উচিত নয়।

    মনে রাখতে হবে যে, অন্য কোনও ছাড়ের অধীনে এই বিনিয়োগ দাবি করা যাবে না। এই বন্ডগুলিতে বিনিয়োগ করার জন্য ছ’মাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও এই ছাড় দাবি করতে গেলে রিটার্ন ফাইলিংয়ের তারিখের আগে বিনিয়োগ করতে হবে।

    ২০১৪ সালের বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে যে কোনও ব্যক্তি এই বন্ডগুলিতে একটি আর্থিক বছরে সর্বাধিক ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন৷ এনআরআই-দের ক্ষেত্রে অবশ্যই এই বিনিয়োগগুলি করতে হবে এবং মূলধন লাভ থেকে টিডিএস কেটে না নেওয়ার জন্য ক্রেতাকে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ দেখাতে হবে। কোনও এনআরআই রিটার্ন ফাইলিংয়ের সময় কেটে নেওয়া অতিরিক্ত টিডিএস দাবি করতে পারে এবং ফেরত পেতেও পারেন।

    First published:

    Tags: Property, Tax