বেতন আসার সঙ্গে সঙ্গেই খরচ হয়ে যায়? ৫০-৩০-২০ নিয়ম ব্যবহার করে অর্থ সাশ্রয় করুন, দেখে নিন কী করতে হবে
- Written by:Trending Desk
- news18 bangla
- Published by:Dolon Chattopadhyay
Last Updated:
50-30-20 Rule: বেতন আসার সঙ্গে সঙ্গেই খরচ হয়ে যায়? ৫০-৩০-২০ নিয়ম ব্যবহার করে সহজেই খরচ কমিয়ে সঞ্চয় বাড়ানোর উপায় জেনে নিন।
advertisement
1/13

বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ তাঁদের অ্যাকাউন্টে বেতন পৌঁছানোর ১০ দিনের মধ্যে খরচ করে ফেলেন। বাড়ি ভাড়া, ইএমআই, বাচ্চাদের ফি, মুদিখানা, বিদ্যুৎ, জল এবং পরিবহন খরচ করার পরে প্রতি মাসে একই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়- আমি কীভাবে সঞ্চয় করব? অনেকেই এর জন্য অনেকেই কম আয়কে দায়ী করেন, কিন্তু আসল সমস্যা কম আয় নয়, বরং পরিকল্পনার অভাব।
advertisement
2/13
অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে কারও আয় বেশি হোক বা কম, যদি সুপরিকল্পিত ব্যয় পরিকল্পনা না থাকে, কখনও সঞ্চয় করা যাবে না। অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ জিতেন্দ্র সোলাঙ্কি ৫০-৩০-২০ নিয়মটি ব্যাখ্যা করেছেন। এটি এমন একটি পদ্ধতি যা আগে থেকে অর্থ পরিচালনা করতে সাহায্য করতে পারে।
advertisement
3/13
৫০-৩০-২০ নিয়ম কী৫০-৩০-২০ নিয়মের অর্থ হল নিজের আয়কে তিন ভাগে ভাগ করা।৫০% - অনিবার্য চাহিদা - এমন খরচ যা এড়ানো যায় না- বাড়ি ভাড়া বা গৃহঋণ- শিশুদের স্কুল ফি- রেশন, দুধ, শাকসবজি- বিদ্যুৎ, জল এবং গ্যাস- কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের খরচ- প্রয়োজনীয় বিমা এবং EMI
advertisement
4/13
৩০% - বিলাসের চাহিদা - এমন খরচ যা জীবনকে সহজ বা আরও উপভোগ্য করে তোলে, কিন্তু অপরিহার্য নয়- রেস্তোরাঁয় খাওয়া- অনলাইন কেনাকাটা- OTT সাবস্ক্রিপশন- ভ্রমণ- ব্যয়বহুল গ্যাজেট
advertisement
5/13
২০% - সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ - এই অংশটি ভবিষ্যত সুরক্ষিত করার জন্য- SIP- RD- PPF- জরুরি তহবিল
advertisement
6/13
সর্বদা একই শতাংশ মেনে চলা জরুরি নয়। মূল বিষয় হল বেতন আসার আগে কত টাকা ব্যয় করা হবে এবং কোথায় বিনিয়োগ করা হবে তা নির্ধারণ করা উচিত। যদি কেউ বেশি সঞ্চয় করতে পারে, তাহলে আরও বিনিয়োগ করতে হবে, কিন্তু আয়ের কমপক্ষে ২০% বিনিয়োগ করতে ভোলা উচিত নয়।
advertisement
7/13
কম বেতনে কীভাবে সঞ্চয় করা সম্ভবসবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হল কম বেতনে সঞ্চয় করা সম্ভব নয়। মানুষ বেতন বৃদ্ধির জন্য অপেক্ষা করে সঞ্চয় করে এবং তার সঙ্গে সঙ্গে তাদের খরচও বৃদ্ধি পায়। অতএব, যেদিন বেতন সঞ্চয়ের যোগ্য হবে সেই দিনটি কখনও আসে না। সঞ্চয় সবসময় অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু হয়। যদি কারও আয় সীমিত হয়:- প্রতি মাসে ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করতে হবে।- তারপর প্রতি মাসে ১০০০ টাকা আলাদা করে রাখতে হবে।- ক্রমাগত এভাবে নিজের সঞ্চয় বাড়াতে হবে।প্রথম বেতন থেকেই ২০% সঞ্চয় করার প্রয়োজন নেই। প্রাথমিক লক্ষ্য হল প্রতি মাসে কিছু সঞ্চয় করা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আয় বৃদ্ধি পায়, কিন্তু যদি সঠিক পরিকল্পনা অভ্যাস না হয়, তাহলে খরচও একই গতিতে বৃদ্ধি পায়।
advertisement
8/13
৫০-৩০-২০ নিয়ম কি প্রতিটি আয়ের গোষ্ঠীর জন্য প্রযোজ্যএই নিয়মটি সবার জন্য প্রযোজ্য, তবে নমনীয়।যদি আয় কম হয়:প্রয়োজন ৬০-৭০% পর্যন্ত হতে পারে, তাই ২০%-এর পরিবর্তে ৫-১০% থেকে সঞ্চয় শুরু করতে হবে। যদি পরিবার এবং অনেক দায়িত্ব থাকে, তাহলে চাহিদার জন্য বাজেট সীমিত করতে হবে। প্রথমে চাহিদা এবং সঞ্চয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
advertisement
9/13
যদি আয় ভাল হয়:চাহিদার জন্য বাজেট বাড়ানোর পরিবর্তে সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে সুবিধা অনুযায়ী শতাংশ ঠিক করা যেতে পারে, তবে সঞ্চয়ের অভ্যাস পরিবর্তন করা উচিত নয়।ভাড়া, ইএমআই এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পূরণের পরে যদি কোনও সঞ্চয় অবশিষ্ট না থাকে তাহলে কী করা উচিতপারিবারিক বাজেটে এই পরিস্থিতি খুবই সাধারণ। এর অর্থ এই নয় যে সঞ্চয় সম্ভব নয়। এর অর্থ হল ব্যয় অপরিকল্পিত। প্রথমে, এটি করা যেতে পারে -- সমস্ত মাসিক ব্যয় লিখতে হবে।- কোনও ব্যয় স্থির এবং বন্ধ করা যাবে না।
advertisement
10/13
কোন ব্যয় বন্ধ করা যেতে পারেশখের জন্য ব্যয় বন্ধ করা সবচেয়ে সহজ। প্রায়শই ঘন ঘন রেস্তোরাঁয় খাবার, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের সাবস্ক্রিপশন এবং অপরিকল্পিত কেনাকাটার মতো ছোটখাটো খরচ নিজের সঞ্চয়কে গ্রাস করতে পারে।৫০-৩০-২০ নিয়মটি কি সব সময়েই অনুসরণযোগ্যযদি বাচ্চাদের ফি বেশি হয়, চিকিৎসা ব্যয় থাকে অথবা কেউ একটি নতুন ঋণ নিয়ে থাকে, তাহলে সঞ্চয় কিছু সময়ের জন্য হ্রাস পেতে পারে। কিন্তু খরচ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অর্থ সঞ্চয়ে বিনিয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ। একেই আর্থিক শৃঙ্খলা বলা হয়।
advertisement
11/13
ক্রেডিট কার্ডের বিল বকেয়া থাকলে এবং ঋণের ইএমআই থাকলেও কীভাবে সঞ্চয় করা যেতে পারেক্রেডিট কার্ডের বিল বকেয়া থাকলেও এবং ঋণের ইএমআই থাকলেও সঞ্চয় করা যেতে পারে। প্রথমে ক্রেডিট কার্ডের ব্যালেন্স পরিশোধ করার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে, কারণ এতে উচ্চ সুদ রয়েছে। ইএমআইকে একটি প্রয়োজনীয় মাসিক ব্যয় হিসাবে বিবেচনা করতে হবে এবং সময়মতো পরিশোধ করতে হবে।৫-১০% বা ১,০০০-২,০০০ টাকার মতো ছোট পরিমাণ দিয়ে সঞ্চয় শুরু করতে হবে। নিজের শখ কমিয়ে দিতে হবে এবং ক্রেডিট কার্ড দিয়ে নতুন কেনাকাটা এড়িয়ে চলতে হবে। যদি অতিরিক্ত আয় থাকে, তাহলে প্রথমে নিজের ঋণ পরিশোধের জন্য এটি ব্যবহার করতে হবে। ঋণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর সঞ্চয় ধীরে ধীরে বাড়ানো যেতে পারে।
advertisement
12/13
২০% সঞ্চয়ের জন্য কোন বিনিয়োগের বিকল্পগুলি সর্বোত্তম বলে বিবেচিত হয়২০% সঞ্চয়কে বুদ্ধিমানের সঙ্গে তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে:জরুরি তহবিল৩ থেকে ৬ মাসের খরচ বা বেতনের সমান পরিমাণ সঞ্চয় করতে হবে। এই অর্থ একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা তরল তহবিলে রাখতে হবে যাতে প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে তা ব্যবহার করা যায়।স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্যআরডি বা ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) মোবাইল, বাইক, ভ্রমণ ইত্যাদির মতো ছোট লক্ষ্যের জন্য আদর্শ। এগুলি কম ঝুঁকি বহন করে।দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগএসআইপি, মিউচুয়াল ফান্ড, পিপিএফ এবং এনপিএস ভবিষ্যতের জন্য আরও ভাল বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। এগুলি দীর্ঘমেয়াদে ভাল রিটার্ন এবং কর-সঞ্চয় সুবিধা উভয়ই প্রদান করে।
advertisement
13/13
কাজের শুরুতেই বাজেট পরিকল্পনা শুরু করা উচিতচাকরির শুরু থেকেই বাজেট পরিকল্পনা শুরু করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যত তাড়াতাড়ি কেউ অর্থ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে শিখবে, তত তাড়াতাড়ি আর্থিক সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে। এতে স্থিতিশীলতা অর্জন করা যায়। প্রথম বেতন থেকে খরচের হিসাব রাখতে হবে এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এটি পরবর্তী জীবনে ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা রোধ করে।এই নিয়ম কি দম্পতি এবং পারিবারিক বাজেটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যহ্যাঁ, এই নিয়ম দম্পতি এবং পরিবার উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আয় এবং ব্যয় উভয় বিবেচনা করে একটি বাজেট তৈরি করতে হবে। একসঙ্গে একটি সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। পারিবারিক বাজেটে শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা এবং বিমার মতো খরচ অন্তর্ভুক্ত করতে ভোলা উচিত নয়। এটি অর্থ নিয়ে চাপ হ্রাস করে।
বাংলা খবর/ছবি/ব্যবসা-বাণিজ্য/
বেতন আসার সঙ্গে সঙ্গেই খরচ হয়ে যায়? ৫০-৩০-২০ নিয়ম ব্যবহার করে অর্থ সাশ্রয় করুন, দেখে নিন কী করতে হবে