এই কেন্দ্রে এবার লড়াইয়ের ময়দানে এক পক্ষ যেমন ‘পুরনো চাল ভাতে বাড়ে’ নীতিতে বিশ্বাস রাখছে, অন্য পক্ষ তেমনই ভরসা রাখছে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ নতুন মুখে। বিগত ২০২১-এর নির্বাচনে নারায়ণগড়ে লড়াই ছিল অত্যন্ত সেয়ানে সেয়ানে। তৃণমূলের সূর্যকান্ত অট্টের কাছে মাত্র ২৪০০ ভোটের ব্যবধানে হার মানতে হয়েছিল বিজেপি প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরিকে। হারের ব্যবধান সামান্য হওয়ায় এবারও পদ্ম শিবির সেই রমাপ্রসাদের উপরেই আস্থা রেখেছে।
advertisement
গতবারের আক্ষেপ মিটিয়ে এবার জয়ের মালা পরতে আত্মবিশ্বাসী গেরুয়া শিবিরের এই প্রার্থী। দলীয় কর্মীদের নিয়ে এলাকা চষে ফেলার পাশাপাশি মানুষের আবেগকে পুঁজি করেই বৈতরণী পার হতে চাইছেন তিনি।
অন্যদিকে, জেতা আসন ধরে রাখতে কৌশলী চাল চেলেছে শাসক দল। সূর্যকান্তের পরিবর্তে এবার তৃণমূলের বাজি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং জেলার রাজনীতির নাড়িনক্ষত্র জানা প্রতিভাদেবীকে প্রার্থী করে তৃণমূল নেত্রী কার্যত মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
আরও পড়ুন: ‘শুধু নাম বাদের ভয় নয়, নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র’! মোথাবাড়ি কাণ্ডে বিস্ফোরক দাবি এনআইএ-র
চায়ের দোকান থেকে মাঠের আল— আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন সেই ২৪০০ ভোটের ব্যবধান। বিজেপি প্রার্থীর দাবি, গত পাঁচ বছরে মানুষের আশীর্বাদ তাঁর সঙ্গেই ছিল, তাই এবার জয়ের ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হবে। অন্যদিকে, প্রতিভা মাইতির নিশানায় এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন। সভাধিপতি হিসেবে যে উন্নয়নের জোয়ার তিনি জেলায় এনেছেন, বিধায়ক হয়ে নারায়ণগড়ের মানুষের জন্য সেই ধারা অব্যাহত রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
দলবদল, প্রার্থী বদল আর পুরনো লড়াইয়ের প্রতিশোধ— সব মিলিয়ে নারায়ণগড়ের নির্বাচনী ময়দান এখন ফুটছে। শেষ পর্যন্ত মানুষ কার গলায় জয়ের মালা দেবে, তা জানা যাবে ভোটের ফলাফলে। তবে দুই প্রার্থীর সৌজন্যের লড়াই আর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আপাতত নজর কাড়ছে মেদিনীপুরবাসীর।