এ দিন নাট্যকর্মীদের নিপুণ অভিনয়ে ফুটে ওঠে একাঙ্ক নাটক ‘দেওয়াল’। তবে এই দেওয়াল ইট-পাথরের নয়, বরং মানুষের মনের চারপাশে গড়ে ওঠা সংকীর্ণতার এক অদৃশ্য বেষ্টনী। যা প্রতিনিয়ত মানুষের মুক্ত চিন্তাকে অবদমিত করে এবং প্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করে। কীভাবে সেই অদৃশ্য দেওয়াল ভেঙে পুরোনো জরাজীর্ণ চিন্তাকে দূরে সরিয়ে আলোর দিশা পাওয়া যায়, অত্যন্ত সাবলীলভাবে নাটকের সংলাপে ও অভিনয়ে তা তুলে ধরা হয়। সামান্য আলো, কয়েকটি মাইক আর কংক্রিটের রাস্তাই স্টেজ।
advertisement
খাকুড়দার ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে কলাকুশলীদের এই শৈল্পিক প্রতিবাদ থমকে দিয়েছিল পথচারীদেরও। আয়োজকদের কথায়, নাট্যচর্চার বহমান ধারাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ। নাটকের মাধ্যমে বাস্তবের রূঢ় সত্যগুলো তুলে ধরে মানুষের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই ছিল মূল লক্ষ্য। মেদিনীপুরের এই প্রান্তিক জনপদে দাঁড়িয়ে অভিনীত এই পথনাটিকা আরও একবার মনে করিয়ে দিল যে, সমাজ সংস্কারের অন্যতম প্রধান ধারক ও বাহক আজও নাট্যসংস্কৃতিই।
নাটক কেবল কয়েক মিনিটের অভিনয় নয়, সাংস্কৃতিক ও সচেতনতামূলক চিন্তাও তৈরি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে। সামান্য কয়েক মিনিটের নাটক বদলে দেয় গোটা সমাজের ভাব। পরিবর্তন করে মানসিকতার। ভাবনা দেয় সচেতনতার ও সংস্কারের।