হলুদ রঙের ওই পোস্টারগুলিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করে ভোট গণনার মাঝপথেই কেন্দ্র ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তিনি। পোস্টারের নীচে সৌজন্যে লেখা রয়েছে ‘নারায়ণগড়ের সাধারণ বিজেপি ভোটাররা’। তবে ঠিক যে দিনে নারায়ণগড়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং এবং শুভেন্দু অধিকারীর সভা হওয়ার কথা, তার আগেই এই পোস্টার সামনে আসায় ঘটনার পিছনে পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে।
advertisement
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নারায়ণগড় কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী সূর্যকান্ত অট্টের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন রমাপ্রসাদ গিরি। পোস্টারের মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, সেই পরাজয়ের নেপথ্যে তৃণমূলের সঙ্গে গোপন সমঝোতা ছিল।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আসন্ন নির্বাচনে আবারও রমাপ্রসাদ গিরিকে প্রার্থী করা হতে পারে—এমন জল্পনা শুরু হতেই দলের ভিতরে বিরোধ প্রকট হয়েছে। জনসভার আগে এই পোস্টার বিতর্ক বিজেপির আদি ও নব্য নেতৃত্বের দ্বন্দ্বকেই সামনে এনে দিয়েছে বলেও মত অনেকের।
এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। মকরামপুর অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সৌমেন করণ বলেন, প্রার্থী নির্বাচন বিজেপির নিজেদের দলের বিষয় এবং তা নিয়ে তাঁদের মধ্যেই এই গণ্ডগোল চলছে।
অন্যদিকে, পোস্টারে ওঠা অভিযোগ নিয়ে বিজেপি নেতা রমাপ্রসাদ গিরির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিজেপির জেলা সভাপতি সমিত মন্ডল জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনও বিস্তারিত জানেন না। বর্তমানে তিনি জনসভা আয়োজন নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, এই পোস্টার বিতর্কের কোনও প্রভাব আজকের সভায় পড়বে না।
শুভেন্দু অধিকারীর সভার আগে এই বিতর্ক বিজেপির ভাবমূর্তিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
