এদিন চা চক্রের আসর থেকে দিলীপবাবু স্পষ্ট দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তাঁর কথায়, “রাজ্যে এখন আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। বিচারব্যবস্থা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—কেউই নিরাপদ নন।” সম্প্রতি কালিয়াচকে বিচারকদের হেনস্থা এবং হাইকোর্টের এজলাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যেখানে খোদ বিচারকরা আক্রান্ত হচ্ছেন, সেখানে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা কোথায়? হাইকোর্টে বিচারকদের শুনানি করতে দেওয়া হচ্ছে না, এজলাসে ঢুকে তাঁদের ঘেরাও করা হচ্ছে।” এদিনের আলোচনায় বারংবার ফিরে আসে রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গ। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “গুন্ডাবাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ভোট লুট করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রার্থীদের প্রচার করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি অমিত শাহের মতো নেতাকেও কালো পতাকা দেখানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এবং আদালতের এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।” তাঁর সাফ দাবি, কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ বা রাষ্ট্রপতি শাসন ছাড়া বাংলায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
advertisement
এদিন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও রাজ্য সরকারকে পাল্টা আক্রমণ করেন তিনি। কেন্দ্র সরকার শুল্ক কমালেও রাজ্য কেন ট্যাক্স কমাচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। পাশাপাশি, দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “দাগি নেতারা যখন পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরে বেড়ান, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।” শনিবার দিলীপ ঘোষের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার কথা। রাম মন্দির থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে তিনি মনোনয়ন জমা দিতে যাবেন। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের চূড়ান্ত লগ্নে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষের এই ঝাঁঝালো আক্রমণ বঙ্গ রাজনীতির পারদ যে আরও কয়েক ডিগ্রি বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।





