বছরের পর বছর ধরে প্রভাতী শালপাতা সেলাই করে সংসারের হাল ধরেছেন। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত সংসারের খুঁটিনাটি সামলে অবসরের ফাঁকে ফাঁকেই চলে তার কাজ। প্রতিদিনের পরিশ্রমে মাসে প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার টাকা রোজগার হয়। অঙ্কে হয়ত বড় নয়, কিন্তু এই অর্থই সংসারের ভরসা, সন্তানের প্রয়োজন মেটানোর সাহস, আর ভবিষ্যতের সামান্য সঞ্চয়ের আশ্বাস।
advertisement
শুধু শালপাতাই নয়, পুজোর মরশুম এলেই প্রভাতীর আর এক পরিচয় সামনে আসে। প্রতিমাশিল্পী স্বামীর পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাঠামো বাঁধা থেকে শুরু করে মাটি দেওয়া, এমনকি রঙের কাজেও হাত লাগান তিনি। মাটির প্রতিমায় যেমন ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে দেবীর রূপ, তেমনই প্রতিদিনের ঘাম আর পরিশ্রমে গড়ে ওঠে তাদের স্বপ্ন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
প্রত্যন্ত গ্রামে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও প্রভাতী দেখিয়েছেন, ইচ্ছাশক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। সংসারের অভাব তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি, বরং দায়িত্ববোধই তাকে এগিয়ে যেতে শিখিয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর কষ্টার্জিত আয়ে চলে সংসার, আর সেই আয়ের প্রতিটি টাকায় লেগে থাকে শ্রমের গন্ধ ও আত্মমর্যাদার ছাপ।
নারমার এই ‘রক্তমাংসের দুর্গা’ আমাদের মনে করিয়ে দেন—দেবত্ব শুধু মন্দিরে নয়, লুকিয়ে থাকে সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রামে। প্রভাতী মাইতির জীবনকথা তাই কেবল দারিদ্র্যের গল্প নয়, এটি সাহস, সম্মান ও আত্মনির্ভরতার এক অনুপ্রেরণার নাম।





