পেশায় তিনি একজন রেলওয়ে কন্ট্রাক্টর। তবে পরিচয়ের সীমা এখানেই শেষ নয়। দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর ধরে নিজের বাবার স্মৃতির উদ্দেশে প্রতিবছর সরস্বতী পুজোর মঞ্চ থেকেই বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হাতে বই তুলে দেন তিনি। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নিজের উদ্যোগেই পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার একাধিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০০ জন পড়ুয়ার হাতে বই তুলে দিয়েছেন সুজিতবাবু। ছোটবেলায় আর্থিক অভাবের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারার যন্ত্রণা আজও তাঁকে তাড়া করে ফেরে।
advertisement
সেই স্মৃতি থেকেই জন্ম নিয়েছে এই মানবিক উদ্যোগ। তিনি বলেন, “আমি যা করতে পারিনি, সেটা যেন অন্যরা করতে পারে, এই ইচ্ছেটুকুই আমার প্রেরণা।” তাই বই দানের পাশাপাশি প্রান্তিক গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষা সামগ্রী কিংবা প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তাও করে থাকেন তিনি। শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, সারা বছর ধরেই বিভিন্ন প্রয়োজনে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ান সুজিত চক্রবর্তী। নিজের উপার্জনের বড় একটি অংশ তিনি সমাজের কল্যাণেই ব্যয় করেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তবে এই কাজকে তিনি কখনও ‘দান’ বলে মনে করেন না। তাঁর কথায়, “এটা আমার দায়িত্ব।” এই উদ্যোগে স্বাভাবিকভাবেই খুশি স্থানীয় মানুষজন ও অভিভাবকরা। অনেকেই মনে করছেন, এমন উদাহরণই সমাজে শিক্ষার প্রকৃত মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রাখে। আর্থিক সীমাবদ্ধতাকে অজুহাত না বানিয়ে যিনি শিক্ষার স্বপ্নকে লালন করে চলেছেন, সুজিত চক্রবর্তীর এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে সমাজের কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।





