২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে জঙ্গলমহলের যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তারই অন্যতম ফল জঙ্গলকন্যা সেতু। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে উদ্বোধন হয় এই সেতুর। গবেষকদের মতে, সুবর্ণরেখা নদী ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাকে প্রাকৃতিকভাবে বিভাজিত করেছিল। বামফ্রন্ট আমলে প্রতিবছর নদীর উপর অস্থায়ী ফেয়ার ওয়েদার ব্রিজ তৈরি করতে হত, যার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় হত এবং বর্ষায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেত।
advertisement
২০১১ সালে ঝাড়গ্রামের খড়িকামাথানিতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই স্থায়ী সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের পর শুরু হয় নির্মাণকাজ। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ, এক লেনের হলেও উভয়মুখী যান চলাচলের উপযোগী এই সেতু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম দীর্ঘ সেতু হিসেবে পরিচিত।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বর্ষায় সুবর্ণরেখার জলস্তর বাড়লেও সেতুর উচ্চতাকে ছুঁতে পারে না জল। ফলে সারা বছর, দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টাই যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। এই সেতু দিয়ে সহজেই পৌঁছনো যায় ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায়। এর ফলে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনে এসেছে গতি। জঙ্গলমহলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জঙ্গলকন্যা সেতু আজ এক ঐতিহাসিক নিদর্শন।






