গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে খড়্গপুরে নাইট ডিউটিতে যাচ্ছিলেন সৌম্যদীপ। খড়্গপুর থানার অন্তর্গত আনারকলি এলাকায় ‘চোর’ সন্দেহে তাঁকে একদল লোক আটক করে। চলে বেধরক মারধর।অভিযোগ, সৌম্যদীপ বারবার নিজের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও উত্তেজিত জনতা তা কানে তোলেনি। চলে গণপিটুনি। গণপ্রহারে গুরুতর আহত সৌম্যদীপকে প্রথমে ভর্তি করা হয়েছিল খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে। শারীরিক পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হতে থাকলে তাঁকে দ্রুত ভর্তি করা হয় ভুবনেশ্বরের হাই টেক হাসপাতালে। সেখানেই প্রায় ১০ দিন আইসিউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েন সৌম্যদীপ। কিন্তু শৈষ পর্যন্ত আর লযাই চালিয়ে যেতে পারেননি। শুক্রবার রাত ১০.৩৪ নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। শনিবার রাতে ৩৩-এর সৌম্যদীপের নিথর দেহ আসে গ্রামের বাড়িতে। কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার, প্রতিবেশীরা। যারা এই নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত, যারা কেড়ে নিল সৌম্যদীপের প্রাণ, তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যুবকের পরিবার।
advertisement
সৌম্যদীপের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার রাতে দেহ গ্রামে পৌঁছালে কান্নার রোল ওঠে। একজন উচ্চশিক্ষিত তরুণকে এভাবে অমানবিক গণপিটুনির শিকার হতে হবে, তা মেনে নিতে পারছে না কেউ-ই। সৌম্যদীপের কাকা হরেকৃষ্ণ চন্দ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘সৌম্যদীপ ইঞ্জিনিয়ার ছিল, নিজের কাজে যাচ্ছিল। ও নিজের পরিচয় দিতে চাইলেও কেউ শোনেনি। আমরা এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের কঠোরতম শাস্তি চাই।’
