মেদিনীপুর শহরের একটি বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত সোসাইটির ছোট্ট একটি ঘরই এখন বাসন্তীদেবীর আশ্রয়। বহু বছর আগে স্বামীকে নিয়ে মোটামুটি স্বাভাবিকভাবেই সংসার চলছিল। আদালত চত্বরের কাছে ছোট দোকান চালিয়ে সংসারের খরচ সামলাতেন তারা। যদিও নিঃসন্তান হওয়ার কষ্ট ছিল মনে। তবুও স্বামী-স্ত্রী মিলেই কাটছিল জীবন। কিন্তু হঠাৎই এক দুর্ঘটনা সবকিছু বদলে দেয়।
advertisement
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তার স্বামী। চিকিৎসার জন্য একের পর এক খরচ বাড়তে থাকে। সংসার চালানো তো দূরের কথা, স্বামীর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াই তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত নিজের সোনার গয়না ও সঞ্চয় বিক্রি করেই স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগাড় করেছিলেন বাসন্তী দেবী। কিন্তু তবুও শেষরক্ষা হয়নি। কয়েক বছর পর স্বামীর মৃত্যু হয়। স্বামীকে হারিয়ে একেবারে একা হয়ে পড়েন তিনি।
তবুও থেমে থাকেননি বাসন্তী চ্যাটার্জী। কোভিডের আগেই জীবিকার জন্য শুরু করেন চা বিক্রি। মেদিনীপুর কলেজ মাঠের কাছে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান বসিয়ে চা, বিস্কুট ও ছোটখাটো খাবার বিক্রি করতে শুরু করেন। সেখান থেকেই সামান্য রোজগারে চলত স্বামী-স্ত্রীর সংসার। এখন বয়স বাড়লেও সেই পরিশ্রমের পথই ধরে রেখেছেন তিনি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বর্তমানে সোসাইটির একটি ছোট ঘরে থাকেন এবং সেখানকার কেয়ারটেকারের দায়িত্বও পালন করেন। ঘরের সামনে ছোট্ট চায়ের দোকান বসিয়ে সারাদিন চা বিক্রি করেন। কলেজ মাঠে আসা পড়ুয়া ও যুবক-যুবতীরাই এখন তার কাছে যেন সন্তানসম। তারা কেউ চা খেতে আসে, কেউ গল্প করতে বসে। এইভাবেই কাটে তার দিন।
নিঃসন্তান হওয়ার আক্ষেপ থাকলেও জীবনযুদ্ধের সামনে হার মানেননি বাসন্তী চ্যাটার্জী। কঠোর পরিশ্রম আর আত্মসম্মান নিয়ে তিনি আজও নিজের মতো করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই সংগ্রামী জীবন অনেকের কাছেই এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।





