TRENDING:

স্বামীর মৃত্যুর পর সর্বস্বান্ত! তাও দারিদ্রতার কাছে নতি স্বীকার নয়, জীবনযুদ্ধ টিকে থাকতে চা বিক্রি, ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা সকলের অনুপ্রেরণা

Last Updated:

West Medinipur News: স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে সর্বস্বান্ত। স্বামীর মৃত্যুর পর শুরু একার লড়াই। চা বিক্রি করে জীবনযুদ্ধ টিকে আছেন বাসন্তী চ্যাটার্জী। মেদিনীপুরের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার কাহিনি শুনলে চোখ দিয়ে জল আসবে।

impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: মেদিনীপুর শহরের এক কোণে ছোট্ট একটি ঘরে বাস করেন বাসন্তী চ্যাটার্জী। বয়স ষাটের গণ্ডি পেরিয়েছে অনেক আগেই। তবুও জীবনের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর একাই সংসারের হাল ধরেছেন। নিজের পরিশ্রম আর আত্মসম্মানকে সঙ্গী করে চা বিক্রি করে আজও দু’মুঠো অন্ন জোগাড় করেন এই বৃদ্ধা। তার জীবনের গল্প শুনলে চোখে জল এসে যায় অনেকেরই।
advertisement

মেদিনীপুর শহরের একটি বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত সোসাইটির ছোট্ট একটি ঘরই এখন বাসন্তীদেবীর আশ্রয়। বহু বছর আগে স্বামীকে নিয়ে মোটামুটি স্বাভাবিকভাবেই সংসার চলছিল। আদালত চত্বরের কাছে ছোট দোকান চালিয়ে সংসারের খরচ সামলাতেন তারা। যদিও নিঃসন্তান হওয়ার কষ্ট ছিল মনে। তবুও স্বামী-স্ত্রী মিলেই কাটছিল জীবন। কিন্তু হঠাৎই এক দুর্ঘটনা সবকিছু বদলে দেয়।

advertisement

আরও পড়ুনঃ বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রেমকুমারের স্বপ্নপূরণ! ভাঙাচোরা ঘর ছেড়ে পাকা বাড়িতে পাকাপাকি ঠাঁই, আনন্দে আত্মহারা দরিদ্র দিনমজুর

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তার স্বামী। চিকিৎসার জন্য একের পর এক খরচ বাড়তে থাকে। সংসার চালানো তো দূরের কথা, স্বামীর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াই তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত নিজের সোনার গয়না ও সঞ্চয় বিক্রি করেই স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগাড় করেছিলেন বাসন্তী দেবী। কিন্তু তবুও শেষরক্ষা হয়নি। কয়েক বছর পর স্বামীর মৃত্যু হয়। স্বামীকে হারিয়ে একেবারে একা হয়ে পড়েন তিনি।

advertisement

View More

আরও পড়ুনঃ বাংলার চাষিদের জন্য বিরাট সুখবর! আর দিতে হবে না জলকর, কৃষকদের জন্য রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা দোরগোড়ায়

তবুও থেমে থাকেননি বাসন্তী চ্যাটার্জী। কোভিডের আগেই জীবিকার জন্য শুরু করেন চা বিক্রি। মেদিনীপুর কলেজ মাঠের কাছে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান বসিয়ে চা, বিস্কুট ও ছোটখাটো খাবার বিক্রি করতে শুরু করেন। সেখান থেকেই সামান্য রোজগারে চলত স্বামী-স্ত্রীর সংসার। এখন বয়স বাড়লেও সেই পরিশ্রমের পথই ধরে রেখেছেন তিনি।

advertisement

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

বর্তমানে সোসাইটির একটি ছোট ঘরে থাকেন এবং সেখানকার কেয়ারটেকারের দায়িত্বও পালন করেন। ঘরের সামনে ছোট্ট চায়ের দোকান বসিয়ে সারাদিন চা বিক্রি করেন। কলেজ মাঠে আসা পড়ুয়া ও যুবক-যুবতীরাই এখন তার কাছে যেন সন্তানসম। তারা কেউ চা খেতে আসে, কেউ গল্প করতে বসে। এইভাবেই কাটে তার দিন।

advertisement

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
প্রধান শিক্ষকের বদলে স্কুলে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী! নদিয়ার বিদ্যালয়ের সামনে ধর্না
আরও দেখুন

নিঃসন্তান হওয়ার আক্ষেপ থাকলেও জীবনযুদ্ধের সামনে হার মানেননি বাসন্তী চ্যাটার্জী। কঠোর পরিশ্রম আর আত্মসম্মান নিয়ে তিনি আজও নিজের মতো করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই সংগ্রামী জীবন অনেকের কাছেই এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
স্বামীর মৃত্যুর পর সর্বস্বান্ত! তাও দারিদ্রতার কাছে নতি স্বীকার নয়, জীবনযুদ্ধ টিকে থাকতে চা বিক্রি, ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা সকলের অনুপ্রেরণা
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল