দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের অধীনে বাংলা ও ওড়িশা সীমান্তের শেষ রেলস্টেশন এটি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন থানার আঙ্গুয়াতে অবস্থিত এই হল্ট স্টেশন ঘিরেই লুকিয়ে রয়েছে এক ব্যতিক্রমী ইতিহাস। ব্রিটিশ আমলে রেলপথ স্থাপিত হলেও এই অঞ্চলে কোনও স্টেশন ছিল না। দাঁতন ও ওড়িশার লক্ষণনাথ স্টেশনের মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথজুড়ে কোনও রেলস্টপেজ না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হতেন এলাকার ১০-১২টি গ্রামের মানুষ।
advertisement
এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছিলেন এলাকারই এক যুবক—অচিন্ত্য দাস। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন-১ ব্লকের আঙ্গুয়া গ্রামের বাসিন্দা অচিন্ত্য কলেজে পড়াকালীনই ভারতীয় রেলওয়েতে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৫৬ সাল থেকে রেলওয়ে বিভাগে যুক্ত হলেও নিজের দক্ষতা, সততা ও কর্মনিষ্ঠার জোরে ধীরে ধীরে প্রথম শ্রেণীর আধিকারিক পদে উন্নীত হন। রেলবোর্ডের অত্যন্ত প্রিয় ও ভরসার আধিকারিক হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
কর্মজীবনের পাশাপাশি নিজের জন্মভূমির মানুষের দুর্ভোগ তাঁকে নাড়া দেয়। আঙ্গুয়াতে একটি স্টেশন গড়ে তোলার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন অচিন্ত্য দাস। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি পর্যন্ত দরবার করেন। দীর্ঘ চার বছরের আন্দোলনের পর ১৯৮৮ সালে সফলতা আসে। আঙ্গুয়াতে গড়ে ওঠে এই হল্ট স্টেশন।
প্রথমদিকে খুব কম ট্রেন থামলেও বর্তমানে পাঁচ জোড়া আপ-ডাউন লোকাল ট্রেনের পাশাপাশি বাঘাযতীন এক্সপ্রেসও এখানে দাঁড়ায়। স্টেশন চালু হওয়ার ফলে যাতায়াতের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এলাকার আর্থসামাজিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে।
রেলের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার পাশাপাশি আইন নিয়ে পড়াশোনা করায় রেলসংক্রান্ত বহু মামলা বিনা পারিশ্রমিকে লড়তেন অচিন্ত্য দাস। ২০১৪ সালে তাঁর মৃত্যু হলেও আজও গোটা এলাকা মনে রেখেছে তাঁকে। একজন মানুষের একান্ত উদ্যোগে একটি রেলস্টেশন—রেলের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এক অনন্য নজির।





