রাজ্যের বাজেট অধিবেশনে হবে রাজ্যপালের ভাষণ। আজ, ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটেয় বাজেট পেশ করবেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। চলতি মাসের ২ তারিখে হয় বিএ কমিটি ও সর্বদলীয় বৈঠক। ৩ তারিখ থেকে শুরু হয় অধিবেশন। অধিবেশনে থাকছে না প্রশ্নোত্তর ও মেনশন পর্ব। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যা পরিস্থিতি, বিশেষত SIR ও নানা সাম্প্রতিক বিষয়ে আলোচনা হোক, চাইছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। সেই অনুযায়ী আগামিকাল, শুক্রবার SIR নিয়ে হবে আলোচনা।
advertisement
আরও পড়ুন– আজ DA মামলার রায় সুপ্রিম কোর্টে, মহার্ঘভাতা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে শীর্ষ আদালত
বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে খবর, ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবারের অধিনাবেশন চলতে পারে। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক-বিরোধী বাকযুদ্ধের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে ৷ ঘটনাচক্রে এসআইআর আবহেই বসছে বিধানসভার অধিবেশন। ফলে এ সংক্রান্ত বিষয়েও বিধানসভার অধিবেশন তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন– শুক্রবার থেকে রাজ্যে ফের নামবে পারদ ! বিদায়ের আগে শীতের শেষ কামড়
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃতীয় তৃণমূল সরকারের এটিই শেষ বাজেট। ফলে সংক্ষিপ্ত বাজেটে কী কী চমক থাকবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রশাসন সূত্রে খবর, অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে বাজেট পেশ করার জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। ২০২১ সালে অন্তবর্তীকালীন বাজেট পেশ না করে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছিল রাজ্য সরকার। সেই বাজেট বক্তৃতা পাঠ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। কিন্তু এ বার তেমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বিধানসভা ভোটের আগে এটাই যেহেতু শেষ বাজেট, তাই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জনপ্রিয় প্রকল্পের ঘোষণা অথবা এমন চলতি প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়কদের পর্যবেক্ষণ। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে উপভোক্তাদের প্রাপ্য বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন শাসক নেতারা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের বাজেটে বাংলার জন্য বড় ঘোষণা না–থাকায় তৃণমূল নেতৃত্ব নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে। রাজ্য বাজেট নিয়ে গেরুয়া শিবিরকে প্রশ্ন তোলার সুযোগ মুখ্যমন্ত্রী দেবেন না বলে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের দৃঢ় বিশ্বাস।
আগ্রহ রয়েছে, এবারের বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে। রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে রাস্তাঘাটের কাজ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে এবারের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে। এবারের বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিতেও। সামাজিক সুরক্ষা প্রদানের সঙ্গে জড়িত অস্থায়ী কর্মীদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা দেওয়ার কথা এবারের বাজেটে ঘোষণা করা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আগ্রহ রয়েছে আশা কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি, সিভিক ভলেন্টিয়ারদের জন্য বিশেষ কোনও ঘোষণাও। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের আগে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছিল রাজ্য সরকার।
