নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল লরি দুমড়ে-মুচড়ে যায়, ভারী সামগ্রী উড়ে ছিটকে পড়ে দূর-দূরান্তে। কয়েক মিনিটের সেই প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় লাল-কাল আকাশের নিচে গ্রামকে গ্রাস করতে শুরু করে। প্রথম ধাক্কায় ভেঙে পড়ে একের পর এক কাঁচা-পাকা বাড়ি। তারপর সামনে পড়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মুহূর্তের মধ্যে পাকা ভবন ভেঙে ধুলোয় মিশে যায়। দেওয়াল চাপা পড়ে প্রাণ হারায় একাধিক স্কুল পড়ুয়া। মৃত্যু হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরও। বিকট শব্দ, ধুলো আর আর্তনাদে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা এলাকা। সেই দিনের কথা বলতে গিয়ে আজও কেঁপে ওঠেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
advertisement
ধীরে ধীরে টর্নেডো এগিয়ে আসে পশ্চিমবঙ্গের দিকে। দাঁতন থানার সোনাকোনিয়া, সারতা, চকইসমাইলপুর-সহ একাধিক গ্রামে চলে ধ্বংসলীলা। ইটভাটা, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি—কিছুই রেহাই পায়নি। সোনাকোনিয়ার একটি ইটভাটায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কয়েক মিনিটের তাণ্ডবে বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আবহাওয়াবিদদের মতে, নদীকেন্দ্রিক এলাকায় গ্রীষ্মকালে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে গরম বাতাস দ্রুত উপরে উঠে যায়। সেই শূন্যস্থান পূরণে পাশ থেকে শীতল বাতাস প্রবেশ করলে সৃষ্টি হয় ঘূর্ণিঝড়। তবে ১৯৯৮ সালের এই টর্নেডো ছিল অস্বাভাবিক শক্তিশালী, যার ধাক্কা সামলাতে পারেনি গ্রামাঞ্চলের পরিকাঠামো।
প্রায় ২৮ বছর পেরিয়ে গেছে। ভাঙা ঘর নতুন করে গড়ে উঠেছে, বদলেছে অনেক কিছু। কিন্তু স্মৃতি মুছে যায়নি। এখনও আকাশ হঠাৎ কালো হয়ে এলে, ঝড়ের পূর্বাভাস মিললেই আতঙ্ক গ্রাস করে মানুষকে। সেই বিকেলের ধুলোঝড়, চাপা পড়া শ্রেণিকক্ষ আর হারিয়ে যাওয়া প্রাণগুলোর স্মৃতি আজও দাঁতন ও জলেশ্বরের মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।





