দিঘার পথে রামনগর পেরিয়ে ঠিকরা মোড় থেকে ডানদিকে কয়েক কিলোমিটার এগোলেই চন্দনপুর। এটি বাংলার প্রাচীন কাঁসা শিল্পকেন্দ্রগুলির একটি। এখানকার শিল্পীদের উপাধি রাণা বা মহারাণা। এই উপাধি ওড়িশাতেও কাঁসা শিল্পীদের মধ্যে দেখা যায়। ইতিহাস বলছে, বহু প্রজন্ম ধরে এই শিল্পচর্চা চলে আসছে। পরিবারভিত্তিক কারিগররা ছোটবেলা থেকেই কাজ শেখেন। হাতুড়ি, আগুন আর নিখুঁত মাপে গড়ে ওঠে একেকটি তৈজস। শ্রমসাধ্য এই কাজে প্রয়োজন ধৈর্য ও দক্ষতা। সেই ঐতিহ্যই আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন শিল্পীরা।
advertisement
চন্দনপুরের কাঁসার তৈজস নানা ধরনের। থালা, বাটি, লোটার পাশাপাশি রয়েছে পুজোর সামগ্রী। তবে চন্দনপুর অঞ্চলের বিশেষ খ্যাতি দেবতার মুণ্ড মূর্তি তৈরিতে। অনেক পুরনো বাঙালি পরিবারে এখনও দেখা যায় শুধু মুখমণ্ডল বা মুণ্ড রূপে দেব-দেবীর পুজো হয়। যেমন দুর্গা, কালী বা লক্ষ্মীর মুখ। এখন যেমন শোলার সাজে কুলোর উপর দুর্গামুখ বিক্রি হয়, তেমনি কাঁসায় তৈরি মুণ্ডও অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই মূর্তিগুলির সূক্ষ্ম কারুকাজ নজর কেড়ে নেয়। চোখ, অলঙ্কার ও অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলেন শিল্পীরা নিখুঁতভাবে।
আরও পড়ুন- ভয়ঙ্কর শক্তি বাড়ছে…! সূর্যের দৃষ্টিতে কাঁপবে দুনিয়া, ৪ রাশির সোনায় সোহাগা, অঢেল টাকা, উপচে পড়বে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, এই কাঁসার মুণ্ড দেবতাকে একটি ঘটের সঙ্গে যুক্ত করার অভিনব রীতি। এতে তৈরি হয় এক অনন্য শিল্পরূপ। পুজোর ঘরে রাখলে তা বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। ঐতিহ্য ও নান্দনিকতার মেলবন্ধন ঘটেছে এই সৃষ্টিতে। আজও বহু পরিবার এই শিল্পকে সম্মান জানায়। আধুনিকতার ভিড়েও টিকে আজও টিকে আছে চন্দনপুরের কাঁসা-পিতল শিল্প। পর্যটকরাও দিঘা ভ্রমণের ফাঁকে এখানে আসেন। স্থানীয় অর্থনীতির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এই শিল্প। তাই বলা যায়, রামনগরের কাঁসা-পিতল শুধু ব্যবসা নয়, এটি বাংলার এক জীবন্ত ঐতিহ্য।





