শুভেন্দুর কথায়, ”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজকের মিশন, গত তিনদিনের মিশন ব্যর্থ হয়েছে। উনি মাইক্রো অবজার্ভারের ইস্যু তুলেছিলেন, এতে উনি নিজে ফাঁসবেন। এতে ওঁর সরকার ফাঁসবে। কারণ সরকার প্রয়োজন মতো ইআরও দেয়নি। আধার কার্ড নিয়ে বলতে গিয়েছিলেন, কারণ ওঁর সরকার বাংলাদেশি মুসলিম-রোহিঙ্গাদের আধার কার্ড বানিয়ে দিয়েছেন ভোট ব্যাঙ্ক তৈরির জন্য। যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এটা সেপারেট ইস্যু। আদালত যা রায় দেবে, সেটাই শিরোধার্য। সুপ্রিম কোর্ট কী অর্ডার দেবে, তা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।”
advertisement
শুভেন্দু এহেন দাবি করলেও তৃণমূল অবশ্য ব্যাপক ভাবে উজ্জীবিত। সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল শেষ হওয়ার পরই দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে লেখা হয়, ‘নোটিস দেওয়া হল। এসআইআর-এর আসল চক্রান্ত ফাঁস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরাট জয়। বাংলার মানুষের জন্যও বিরাট জয়।’ হ্যাশট্যাগ দেওয়া হয়, #DidiAtSupremeCourt।
এখানেই শেষ নয়, সুপ্রিম কোর্টের সওয়াল জবাব শেষে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ”আজ সুপ্রিম কোর্টে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে রচিত হল। তিনি আজ ইতিহাস তৈরি করলেন। প্রধান বিচারপতির এজলাসে সওয়াল করেছেন। অগ্নিকন্যা কেন তাঁর নাম ও উপাধি, আজ সুপ্রিম কোর্টের সওয়ালে সারা দেশ দেখল। SIR রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্ত। হেনস্থা হচ্ছে। বারবার ডেকে পাঠানো হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট তাতে আজ হস্তক্ষেপ করল। নোটিস জারি করা হয়েছে।”
কুণালের সংযোজন, ”মাইক্রোঅবজারভারদের নাম করে রুল বর্হিভূত কাজ বন্ধের হস্তক্ষেপ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। আজকের সওয়াল ঐতিহাসিক। মামলা চলবে। কিন্তু নৈতিক জয় ছিনিয়ে আনা হল প্রথম দিন। লিডার হবে এরকম। বাড়ি বাড়ি আমরা যাচ্ছি। প্রতি পাড়ায় যাচ্ছি। সব জায়গায় মনে রাখুন তৃণমূল কংগ্রেস সাহায্য করছে।”
প্রধান বিচারপতির সামনেই এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাই লর্ড, বাংলার মানুষকে রক্ষা করুন।’ এর পরেই তাঁকে প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি যে, ‘মৃত লোকের নাম বা রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়া লোকের নাম রাজ্যের ভোটার তালিকায় থাকুক, এটা নিশ্চয়ই আপনি চান না।’ তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জিকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে বাংলার SIR সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। এভাবে SIR পরিচালনা করা যায় না।’ সব পক্ষকে নোটিস ইস্যু করে সর্বোচ্চ আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি। সে দিনও এজলাসে উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
