সুন্দরবন বিষয়ক গবেষক অনিমেষ মণ্ডলের মতে, বনবিবির পুজোর পেছনে রয়েছে এক জনপ্রিয় কাহিনি। কথিত, এক প্রত্যন্ত গ্রামে এক দরিদ্র বিধবা ও তার ছোট ছেলে দুখে বাস করত। পাশের গ্রামের দুই জঙ্গলজীবী ধনা ও মনা মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনের কেঁদোখালির জঙ্গলে যাওয়ার সময় দুখেকে সঙ্গে নিয়ে যায়। জঙ্গলে পাঠানোর আগে মা ছেলেকে বলে দেন—বিপদে পড়লে যেন ‘বনের আর এক মাকে’ ডাকে। জঙ্গলে এক রাতে দক্ষিণরায় ধনা ও মনাকে স্বপ্নে আদেশ দেন দুখেকে তাঁর কাছে উৎসর্গ করতে। লোভে পড়ে দুই ভাই দুখেকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। অসহায় দুখে তখন মায়ের শেখানো মতে বনবিবিকে স্মরণ করে। বিশ্বাস করা হয়, বনবিবি এসে তাকে বাঘরূপী দক্ষিণ রায় -এর হাত থেকে রক্ষা করেন এবং নিরাপদে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন।
advertisement
আরও পড়ুন : অন্তঃসত্ত্বা মায়ের ফোটোশ্যুটের সময় জলাশয়ে পড়ে মৃত্যু ৩ বছরের প্রথম সন্তানের
এই কাহিনির মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে সুন্দরবনের মানুষের জীবনসংগ্রাম, বিশ্বাস ও ভরসার প্রতিচ্ছবি। বনবিবি তাই কেবল লৌকিক দেবী নন, তিনি জঙ্গলজীবী মানুষের সাহস ও আশ্রয়ের প্রতীক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেই বিশ্বাস আজও অটুট—সুন্দরবনের জলা-জঙ্গলে পা রাখার আগে বনবিবির নামই উচ্চারিত হয় প্রথমে।