দক্ষিণ ২৪ পরগনা,সোনারপুর, সুমন সাহা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহামায়াতলা এলাকায় তীব্র গ্যাস সঙ্কটকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন অটোচালকরা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মহামায়াতলা গ্যাস পাম্পে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে অটো পরিষেবা। এর প্রতিবাদে বুধবার গড়িয়া বারুইপুর এবং গড়িয়া সোনারপুর রুটে অটোচালকরা পরিষেবা বন্ধ রেখে রাস্তায়। এর জেরে সকাল থেকেই ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হন নিত্যযাত্রীরা। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া সকলেই চরম দুর্ভোগের শিকার হন। হঠাৎ করে অটো পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেককেই বিকল্প পরিবহণের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অন্য যানবাহনে গন্তব্যে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। পুলিশ এসে আন্দোলনরত অটোচালকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। যদিও চালকরা তাঁদের দাবিতে অনড় থাকেন। তাঁদের সাফ বক্তব্য, অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে, না হলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে। আন্দোলনরত অটোচালকদের দাবি, প্রায় ২০ দিন ধরে পাম্পে গ্যাসের জোগান নেই। ফলে প্রতিদিনই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এই প্রসঙ্গে অটোচালক অলোক নস্কর জানান, “টানা ২০ দিন হয়ে গেল পাম্পে গ্যাস নেই। আমরা খুব সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছি। আমাদের রুজি-রুটি বন্ধ হওয়ার মুখে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে আমরা অসহায় হয়ে পড়ব।” চালকদের আরও অভিযোগ, গ্যাস না পাওয়ায় তাঁদের অনেক দূরের পাম্পে যেতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ এবং খরচসাপেক্ষ। এতে করে দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে এবং পরিবার চালানো কঠিন হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, পাম্প কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে স্থানীয়দের একাংশের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থার গাফিলতির কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন অটোচালকরা। তাঁদের হুঁশিয়ারি, সমস্যা মেটানো না হলে পাম্পের সামনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। মহামায়াতলার এই গ্যাস সঙ্কট এখন শুধুমাত্র অটোচালকদের সমস্যা নয়, তা প্রভাব ফেলছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। ফলে প্রশাসন ও পাম্প কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে, সেদিকেই তাকিয়ে সকলেই।