পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রামীণ ডাকসেবক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞাপন দেখে বারুইপুর মুখ্য ডাকঘরে কোচবিহার থেকে আবেদন জানাতে আসেন ওই যুবক। নিজেকে স্নাতক বলে দাবি করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন তিনি। কিন্তু নিয়ম মাফিক যাচাই প্রক্রিয়ার সময়ই তার জমা দেওয়া শংসাপত্রগুলি নিয়ে সন্দেহ হয় আধিকারিকদের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নথিগুলি খতিয়ে দেখে বুঝতে পারেন, সেগুলি আসল নয়, জাল।
advertisement
এরপরই বিষয়টি জানানো হয় বারুইপুর থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যুবককে আটক করে এবং পরে গ্রেফতার করে। ধৃতের কাছ থেকে একাধিক ভুয়ো শিক্ষাগত শংসাপত্র উদ্ধার হয়েছে, যা এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সুশান্ত দাস দাবি করেছে, ঝাড়খণ্ডের এক আইনজীবীর কাছ থেকে তিনি এই জাল শংসাপত্রগুলি সংগ্রহ করেছেন। যদিও ওই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ওই আইনজীবীর সঙ্গে আর কারা জড়িত, এর পিছনে কোনও বড় জালিয়াতি চক্র কাজ করছে কি না, সেই দিকেও নজর দিচ্ছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং একটি সুসংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রার্থীদের জাল শংসাপত্র সরবরাহ করে আসছে। চাকরিপ্রার্থী বহু যুবক-যুবতী এই ধরনের প্রতারণার শিকার হতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, মঙ্গলবার ধৃত যুবককে বারুইপুর আদালতে তোলা হয়। আদালতের নির্দেশে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে, যাতে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের হদিশ পাওয়া যায়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই ঘটনা আবারও সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির বিষয়টি সামনে এনেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রুখতে আরও কড়া নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা কোনও প্রলোভনে পড়ে জাল নথিপত্র তৈরি বা ব্যবহার না করেন। বারুইপুরের এই ঘটনা একদিকে যেমন প্রশাসনের জন্য সতর্কবার্তা, তেমনই চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও একটি বড় শিক্ষা।






