এবারের উৎসবের মূল আকর্ষণ ঐতিহাসিক স্থাপত্যের আদলে নির্মিত একাধিক ভাবনা। তার মধ্যে বিশেষভাবে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে বাবরি মসজিদ এর অনুকৃতি। নিখুঁত নকশা, গম্বুজের গঠন এবং আলোকসজ্জার মেলবন্ধনে কাঠামোটি যেন বাস্তবের আবহ তৈরি করেছে। পাশাপাশি সমানভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে তাজমহল, লালকেল্লা-এর লাহোরি প্রবেশদ্বার এবং ইন্ডিয়া গেট এর আদলে নির্মিত প্রবেশপথ।
advertisement
প্রতিটি স্থাপত্যেই শিল্পীদের সূক্ষ্ম কারুকাজ ও নিষ্ঠার ছাপ স্পষ্ট। আয়োজকদের বক্তব্য, এই ভাবনার মাধ্যমে কেবল সৌন্দর্য উপস্থাপন নয়, বরং ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরাই তাঁদের উদ্দেশ্য। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দক্ষ শিল্পীরা দীর্ঘদিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন। তাঁদের সৃজনশীলতায় উৎসব প্রাঙ্গণ যেন এক শিল্পগ্রামে পরিণত হয়েছে।
উৎসবকে ঘিরে রয়েছে নানা আয়োজন। শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা, বিভিন্ন স্বাদের খাদ্যের দোকান এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। ফলে এটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এক সামাজিক সম্প্রীতির মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় পুরো এলাকা নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে, যাতে সকলেই শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উপভোগ করতে পারেন। সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দে জয়নগরের পদ্মেরহাট আজ ঐতিহ্য, শিল্প ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছে।