তথ্যগত অসঙ্গতি থাকায় বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় এবং স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের নামে কমিশন থেকে শুনানির নোটিস এসেছে। কমিশনের নিয়মে নিজেই নিজের নোটিস ধরলেন৷ কেতুগ্রাম বিধানসভার ভ্রমরকোল প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতা এই ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন৷
আরও পড়ুন: ৪ বছর পরে একদিনের ক্রিকেট র্যাঙ্কিংয়ে ফের শীর্ষে কিং কোহলি! সরিয়ে দিলেন সতীর্থকেই
advertisement
বিএলও স্বামীকে অন্য ভোটারের মতোই তাঁর স্ত্রী শুনানির কারণ জিজ্ঞাসা করেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী কমিশনের অ্যাপে নোটিস এসেছে৷ শুনানিতে স্ত্রীকে নিয়ে নিজেও শুনানিকেন্দ্র কেতুগ্রাম ২ নম্বর ব্লকে হাজির থাকবেন বলে বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন। কমিশনের আইনে পাঁচজনের মতই বিএলও-কে শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হবে৷
কাটোয়ার মহকুমা শাসক অনির্বান বসু বলেন, “বিএলও হলেও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই তাঁকে কাজ করতে হয়৷ তাই নিজের পরিবারের ক্ষেত্রেও সেই একই নিয়ম পালন করছেন উনি৷” কেতুগ্রাম বিধানসভার ভোমরকোল অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বাড়ি কোড়োলা গ্রামে৷ তিনি কাটোয়া শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরঙ্গি এলাকায় স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে থাকেন৷
আরও পড়ুন: শচীনের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন বিরাট! একমাত্র ভারতীয় ব্যাটার হিসাবে নজির কোহলির
দেবশঙ্কর বাবুর বাবার নাম পুলকেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়৷ কিন্তু লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসিতে পদবির বানান ভুল রয়েছে৷ কিন্তু ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতে ঠিক বানানই রয়েছে৷ তবুও তাঁকে কমিশন শুনানির নোটস পাঠিয়েছে৷ আর তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের বাপের বাড়ি নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়া থানার মাঝেরগ্রামে৷ তাঁর বাবার নাম অনিল চট্টোপাধ্যায়৷ কিন্তু লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি এর জন্য তাঁর ও বাবার বয়সের পার্থক্য ৫০ বছর রয়েছে৷ তাই তাঁকে শুনানির নোটিস ধরিয়েছেন খোদ তাঁরই বিএলও স্বামী৷
বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কেতুগ্রামে আমরা ভোট দিই৷ গ্রামে আমার বুথে ৭১২ জন ভোটার রয়েছেন৷ তারমধ্যে আগে আমার বুথে ৭ জনের শুনানি হয়েছিল৷ আর এখন ৬২ জনের দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানির জন্য নোটিস এসেছে৷ তারমধ্যে আমার নিজের ও স্ত্রীর নোটিশ ধরালাম৷ এটা সবটাই এআই এর জন্য লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি হচ্ছে৷ কিন্তু আমি তো নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে কাজ করতে বাধ্য৷ সেখানে আলাদা করে আমার নিজের পরিবারের কোনও গুরুত্ব নেই৷ পাঁচজনকে নোটিস ধরাতে গেলে আমাকে যেমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় আমার স্ত্রীও একই ভাবে প্রডন করেছে”।
