প্রায় সাত মাস ধরে চলা এই গবেষণায় আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ওয়ার্ডের প্রতিটি অলিগলি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আব্দুর রৌশান আলম, জুলজিস্ট আমিরুল হাসান-সহ একটি বিশেষজ্ঞ দল এই কাজ পরিচালনা করেন। ০.৩৬ স্কয়ার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই সমীক্ষায় ২৭১৬টি বাড়ি ও প্রায় ১০,৮০০ মানুষের বসবাসের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া গেছে বিস্ময়কর জীববৈচিত্র্য।
advertisement
রিপোর্ট বলছে, এই ছোট্ট এলাকাতেই রয়েছে ৪৭ প্রজাতির পাখি, ১০ ধরনের সরীসৃপ, ৭ প্রজাতির ব্যাঙ, ৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং ৩২ প্রজাতির গাছ। এমনকি ২৮ ধরনের প্রজাপতিরও দেখা মিলেছে, যদিও তাদের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। ফুলেশ্বরী নদীতেও পাওয়া গেছে আট প্রজাতির মাছ। তবে উদ্বেগের বিষয়—নদীর জলে অক্সিজেনের ঘাটতি এবং দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, যা জলজ প্রাণীদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
স্থানীয় কাউন্সিলর তথা মেয়র পরিষদের সদস্য অভয়া বসু জানান, এই সমীক্ষা শহরের পরিবেশ সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। তাঁর কথায়, “এই উদ্যোগ আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সমীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, শহরের মধ্যেও প্রকৃতি এখনও টিকে আছে। তবে ফুলেশ্বরী নদী সংরক্ষণ, গাছ লাগানো—এই বিষয়গুলিতে আরও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে, আমরা সেই দিকেই এগোব।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
অন্যদিকে সংস্থার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর কৌস্তুভ চৌধুরী বলেন, এই সমীক্ষা শুধুমাত্র তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির একটি প্রচেষ্টা। তাঁর মতে, “শহরের মানুষ যদি একটু সচেতন হন, তাহলে এই জীববৈচিত্র্য আরও ভালোভাবে রক্ষা করা সম্ভব। আমরা চাই এই মডেল পুরো শিলিগুড়ি জুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে এমন সমীক্ষা হোক।”
সব মিলিয়ে, এই রিপোর্ট যেন এক স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—নগরায়নের চাপে প্রকৃতি হারিয়ে যায়নি, বরং মানুষের সামান্য সচেতনতায় সে এখনও বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। শিলিগুড়ির মতো দ্রুত বর্ধনশীল শহরে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের পথ দেখাতে পারে, যদি আমরা এখনই পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসি।





