পুর বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ডাবগ্রাম মাতৃ সদনের পাশে নিজস্ব জমিতে ৩০ শয্যার একটি হাসপাতাল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ডিপিআর ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরে জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, মাতৃ সদনে ২৪ ঘণ্টার ওষুধের দোকান চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে রাতের বেলায় শহরবাসী সহজে ওষুধ পেতে পারেন। শবদেহ সংরক্ষণের জন্য ‘পিস হেভেন’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পুর নিগমের প্রধান কার্যালয় ও সব বোরো অফিসে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর বিশেষ কক্ষ তৈরির জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
advertisement
পরিকাঠামো উন্নয়নেও বড় ঘোষণা রয়েছে বাজেটে। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের উন্নয়নের পাশাপাশি সেখানে পুর নিগমের নিজস্ব পেট্রোল পাম্প তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার জন্য বরাদ্দ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। ইস্টার্ন বাইপাস এলাকায় তৈরি হবে সাইক্লিং ও জগার্স ট্র্যাক। কলেজপাড়ায় রেডক্রসের পাশের জমিতে গড়ে উঠবে ‘বই পাড়া’। এছাড়াও, শিলিগুড়ি মিউজিয়ামের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং চালু হতে চলেছে অনলাইন ট্যাক্স প্রদান ব্যবস্থা।
সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ৩১৪৪ জন বার্ধক্য, বিধবা ও সহায়সম্বলহীন মানুষকে মাসিক ৫০০ টাকা করে ভাতা দিচ্ছে পুর নিগম। আগামী অর্থবর্ষে আরও ৫০০ জনকে এই ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছট ব্রতীদের জন্য মহানন্দা নদীর ঘাটে ছট পুল ও সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে, যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা।
মেয়র গৌতম দেব বলেন, “ঘাটতি বাজেট হলেও আমরা শহরবাসীর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। স্বাস্থ্য পরিষেবা, নাগরিক সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষাকে সামনে রেখেই এই বাজেট তৈরি হয়েছে।” অন্য এক বক্তব্যে মেয়র গৌতম দেব জানান, “শিলিগুড়িকে আগামী দিনে আরও আধুনিক ও স্বনির্ভর শহর হিসেবে গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ। পরিকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল পরিষেবা ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্প—সব মিলিয়ে শহরকে ঢেলে সাজানোর রূপরেখাই এবারের বাজেটে তুলে ধরা হয়েছে।”
সব মিলিয়ে ঘাটতি সত্ত্বেও উন্নয়নের রূপরেখা স্পষ্ট এবারের পুর বাজেটে। স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষায় জোর দিয়ে শহরকে আরও আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব করে তোলার বার্তাই দিল শিলিগুড়ি পুরনিগম।