বাঁকুড়ার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে শিলিগুড়ির সুভাষপল্লীতে বসবাস করেন মনোজ পাইন ও ডলি সিংহ মহাপাত্র। গত কয়েকদিন ধরে শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে আয়োজিত সৃষ্টিশ্রী মেলায় তাঁদের স্টলে সাজানো হয়েছে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী নানা খাবার। এর আগেও শহরের বিভিন্ন ছোট মেলা ও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভাল সাড়া পেলেও, সৃষ্টিশ্রী মেলায় তাঁদের প্রথম বড় পরিসরের মেলা।
advertisement
মেলায় ঢুকলেই দর্শনার্থীদের মুখে মুখে একটাই প্রশ্ন— ‘মহুয়া ফুলের পায়েস কোথায় পাওয়া যাবে?’ ধীরে ধীরে এই পায়েসই হয়ে উঠেছে মেলার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কৌতূহল, স্বাদ আর ঐতিহ্যের টানে ভিড় জমাচ্ছেন নানা বয়সের মানুষ। অনেকেই বলছেন, আগে মহুয়ার নাম শুনলেও এভাবে পায়েসের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ এই প্রথম।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই প্রসঙ্গে মনোজ পাইন জানান, মহুয়া ফুল শুধু স্বাদেই অনন্য নয়, এর শারীরিক গুণও প্রচুর। প্রাচীনকাল থেকেই আদিবাসী সমাজে মহুয়া নানা ভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। সেই প্রাচীন জ্ঞান আর স্বাদকে আধুনিক প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই তাঁদের এই উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, মানুষ যে এতটা আগ্রহ দেখাবেন, তা ভাবতেই পারেননি।
অন্যদিকে ডলি সিংহ মহাপাত্রের কথায় উঠে আসে আবেগের সুর। তাঁর মতে, পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার বহু লোকখাদ্য ও সংস্কৃতি আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতেই উত্তরের মাটিতে তাঁদের এই প্রয়াস। নতুন প্রজন্ম যদি এই স্বাদ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়, সেটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শুধু একটি পায়েস নয়— মহুয়া ফুলের মাধ্যমে বাঁকুড়া-পুরুলিয়ার লোকজ ঐতিহ্যকে শিলিগুড়ির মানুষের সামনে নতুন করে তুলে ধরছেন এই দম্পতি, যা মেলায় আলাদা রকমের উষ্ণতা ও স্বাদের ছোঁয়া এনে দিয়েছে।





