শহরের বিভিন্ন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর অফিসের সামনে এখন লম্বা লাইন। বুকিং করা থাকলেও সময়মতো গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। ফলে শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, সাধারণ গৃহস্থ বাড়িতেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা— আগামী দিনে উনুন জ্বলবে কিনা তা নিয়েও চিন্তায় পড়েছেন অনেকেই।
advertisement
দক্ষিণ এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায় তার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। গৃহস্থালীর রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক লাফে বেড়েছে প্রায় ৬০ টাকা। অন্য দিকে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম আরও অনেকটাই বেড়েছে। তার সঙ্গে নতুন নিয়ম অনুযায়ী ২৫ দিনের আগে পরবর্তী গ্যাস বুক করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে, যা হোটেল ও রেস্তোরার ব্যবসায়ীদের জন্য আরও বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হোটেল ব্যবসায়ী বাপ্পা সরকার জানান, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাঁর কথায়, “অনেক হোটেলেই এখন মাছ, মাংস বা ডিম রান্না বন্ধ করে ডাল-ভাত আর সাধারণ সবজি দেওয়া হচ্ছে। গ্যাস না পেলে বা দাম আরও বাড়লে অনেককেই বাধ্য হয়ে হোটেল বন্ধ রাখতে হতে পারে।” রাস্তায় ফাস্টফুডের দোকান চালানো সবিতা ঘোষেরও একই উদ্বেগ। তিনি বলেন, “গ্যাস না পেলে বাড়ির উনুনও জ্বলবে না, দোকানও চলবে না। এত দামে গ্যাস কিনে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কত দিন দোকান খোলা রাখতে পারব, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।”
অন্য দিকে গ্যাস সরবরাহকারী কাঞ্চনজঙ্ঘা গ্যাস পরিষেবার ম্যানেজার সুদীপ্ত বিশ্বাস জানান, গ্রাহকদের সহায়তা করতে তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। তিনি সকলকে আতঙ্কিত না হয়ে কোনও সমস্যা হলে সরাসরি অফিসে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেছেন। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে শিলিগুড়ির খাবারের ব্যবসায় বড় প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।





