চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো, শান্তিপুরের কালীপুজো বা নবদ্বীপের রাস উৎসবের মতোই কালনায় সরস্বতী পুজো মানেই চারদিনের বর্ণাঢ্য উৎসব। এই কয়েকটা দিন গোটা কালনা শহর যেন এক আলোকময় নগরীর রূপ নেয়। বিশাল প্রতিমা, অভিনব থিমের মণ্ডপ, চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা আর মেলার আমেজ, সব মিলিয়ে সরস্বতী পুজোই কালনা শহরের সবচেয়ে বড় উৎসব।
আরও পড়ুনঃ স্কুলের পুজোতেও থিমের চমক! পুরুলিয়ার বিদ্যালয়ের নিবেদন ‘সহজ পাঠ’, চারদিন ধরে চলবে বাগদেবীর আরাধনা
advertisement
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে থিম পুজোর জাঁকজমক। মণ্ডপ, আলো ও প্রতিমা নির্মাণে প্রতি বছর নতুনত্ব আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন পুজো কমিটি। এই বছরের পুজোয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে আমলা পুকুর ইয়ং বয়েজ ক্লাব। পুজোর ৩৬ তম বর্ষে পদার্পণ করে তাঁরা পরিবেশবান্ধব ভাবনায় সাজিয়েছে নিজেদের মণ্ডপ। ফেলে দেওয়া বাইক ও সাইকেলের স্পেয়ার পার্টস, পরিত্যক্ত সামগ্রী ব্যবহার করে গড়ে তোলা এই মণ্ডপ দর্শকদের কাছে যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অন্যদিকে রয়্যাল ক্লাব তাঁদের থিমে তুলে ধরেছে এক নস্টালজিক ডাকঘর। কাঠের কারুকার্যে সাজানো এই মণ্ডপে প্রবেশ করলেই যেন ফিরে যাওয়া যায় চিঠি লেখা আর স্মৃতিমাখা পুরনো দিনের জগতে। ওয়ান্টেড বয়েজের থিম ‘পিরামিড টু পয়েন্ট ও’ এর মাধ্যমে আধুনিক ভাবনাকে শিল্পের রূপ দিয়েছে। গোলক সমিতি আবার ইতিহাসের পাতায় ফিরে গিয়ে পুরনো দিনের নানা ভাবনাকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরেছে। ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পুটনিক ৭০ ক্লাব। জাল দিয়ে তৈরি দেবী সরস্বতীর প্রতিমা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল ও আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
রাত নামতেই কালনার সরস্বতী পুজো পায় এক অন্য রূপ। বর্ণিল আলোকসজ্জায় মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে উপচে পড়ে মানুষের ঢল। তারাপীঠ মহাশ্মশানের আদলে সাজানো মণ্ডপ থেকে শুরু করে বেনারসের গঙ্গা আরতির অনুকরণ, শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য ডিজনিল্যান্ড থিম, সব মিলিয়ে রাত যত বাড়ছে, ততই জমজমাট হচ্ছে উৎসব। চারদিনব্যাপী এই সরস্বতী পুজোয় থিম, শিল্পভাবনা আর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, কালনায় সরস্বতী পুজো শুধুই ধর্মীয় আচার নয়, বরং এক মহা সাংস্কৃতিক উৎসব, যা দিনের পাশাপাশি রাতেও রঙিন হয়ে ওঠে।





