মাজরামুড়া গ্রাম থেকে প্রথমবার তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, সমগ্র মাজরামুড়া গ্রামের গর্ব। ছোটবেলা থেকেই হরিশচন্দ্র দেখেছেন বাবার নিরন্তর সংগ্রাম। সংসারের একমাত্র ভরসা তাঁর বাবা বাউল চিত্রকর, যিনি ভিক্ষাবৃত্তির সামান্য আয়ে কোনও মতে পরিবার চালান। অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী, কিন্তু সেই অভাব হরিশচন্দ্রের স্বপ্নকে কখনও দমাতে পারেনি।
advertisement
দিনের কাজ সেরে, কুপির ক্ষীণ আলোয় বই খুলে বসতেন তিনি। আবার ভোর হতেই হাতে তুলে নিতেন রং-তুলি। দিনরাত পটচিত্র এঁকে পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। পাশাপাশি, সংসারের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছেন। অবশেষে সেই অসম লড়াইয়ে জয় এসেছে। মাজরামুড়া গ্রাম থেকে প্রথমবারের জন্য গ্র্যাজুয়েশন সম্পূর্ণ করেছেন হরিশচন্দ্র।
আরও পড়ুন : দুর্গম পথে মহাকাল মন্দিরের পাশে গুহায় বিরাজমান দেবী দুর্গার প্রাচীন বিগ্রহ, জয়ন্তী এলে ভুলবেন না দর্শন করতে
হরিশচন্দ্র জানান, তাঁর পথ এখনও দীর্ঘ। তাঁর লক্ষ্য শুধু নিজের সাফল্যে থেমে থাকা নয়। তিনি চান পটচিত্রকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরতে। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এই লোকশিল্পকে প্রযুক্তি, শিক্ষা আর নতুন ভাবনার মাধ্যমে আরও বৃহত্তর মঞ্চে পৌঁছে দিতে।