অভয়ার মা পানিহাটি থেকে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি সিপিআইএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত কীভাবে দেখছেন? নিউজ ১৮ বাংলাকে দেওয়া টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে কলতান বলেন,”আমরা যখন গাড়ি আটকেছিলাম, তখন আমরা তৃণমূল-বিজেপি হিসেব করে গাড়ি আটকায়নি। গোটা বাংলা-ভারত-বিশ্বের মানুষ যখন রাত দখল করেছিল, তখন বিজেপি বা তৃণমূল দেখে হয়নি। দুটো পক্ষ ছিল, এক নির্যাতনকারী ও যিনি নির্যাতিতা হলেন। আমরা নির্যাতিতার পক্ষে ছিলাম, তার পক্ষেই আছি, তার পক্ষেই থাকব। আমরা দ্রুত বিচার চাই। নির্যাতিতার মা সিবিআইয়ের কাছে যে ৫০টি প্রশ্ন করেছিলেন, সেই প্রশ্নের দ্রুত উত্তর চাই। সিবিআই কার নির্দেশে হলফনামা বদলে দিয়েছিল সেই প্রশ্নের দ্রুত উত্তর চাই। অভয়ার-অভয়াদের বিচারের দাবিতে লড়ে যাব। আর কাওকে যাতে অভয়া না হতে হয় তারজন্য লড়ে যাবো।”
advertisement
এদিকে আইনজীবীদের তরফে জানা গিয়েছে, ২০১৮-র নিপুণ সাক্সেনা মামলায়, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুর পরিচয় মিডিয়ায় প্রকাশ নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরবর্তী সময়ে ২০২৪-এর ২১ অগাস্টে আরজিকর নির্যাতিতার নাম-পরিচয় প্রকাশ বন্ধের জন্য একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, ধর্ষণের শিকার কোনও মেয়ের পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়, ওই তরুণীর পরিচয় প্রকাশ্যে আসে, এমন সব ছবি–ভিডিও ইত্যাদি সোশ্যাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিতে হবে। আর সেক্ষেত্রে নির্যাতিতার মা প্রার্থী হলে তাঁর নামে দেওয়াল লিখন বা ব্যানার পোস্টারে ছবি ছাপা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন, তার কারণেই এই জটিলতা। এদিকে অভয়ার মায়ের অভিযোগ, মেয়ের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা হয়েছে এবং তিনি তা মেনে নেবেন না। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মেয়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে নিজেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই পানিহাটি এলাকায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
