পরিবার সূত্রে খবর, মমতাজ খান ও টোটন খানের সঙ্গে অনেকদিন ধরে নিজেদের জমি সংক্রান্ত বিবাদ ছিল। কয়েকদিন আগে টোটনের পরিবারের সদস্যদেরকে মারধর করে মমতাজ খানের পরিবার। মমতাজ খানের পরিবারের কয়েকজনকে পুলিশ আটকও করেছিল। কিন্তু টোটন খানের পরিবারের তরফে অভিযোগের অভাবে পুলিশ তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
advertisement
শনিবার সকাল অর্থাৎ ইদ উপলক্ষে ওই দিন সকালবেলা থেকেই টোটন খানের পরিবারের ওপর অত্যাচার চালায় মমতাজ খানের পরিবার। সেই অত্যাচারের পরিমান রাতে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে। মমতাজ খানের স্ত্রী বেবি খান,জামাই ভিকি ঘোষ,পাশের বাড়ির বাসিন্দা ইয়ারলি খান সহ ছয় জনের একটি দল হঠাৎ টোটন খানের উপর দা,শাবল,লোহার রড নিয়ে চড়াও হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির কাছে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় মানুষ প্রথমে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়।কিন্তু সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় টোটন খানকে রাতেই কলকাতায় চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে দেয় চিকিৎসকরা।
তবে এই ঘটনার পরই গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে মমতাজ খান ও তার পরিবার ঘরের মধ্যে লুকিয়ে পড়ে। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা তাদেরকে বাইরে থেকে আটকে রাখে।রাতে বারইপুর থানার আই সি বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে গিয়ে অভিযুক্ত মমতাজ খানের পরিবারের সদস্যদেরকে থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলে পুলিশের হাত থেকে গ্রামবাসীরা অভিযুক্তদেরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। তা নিয়ে গ্রামবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে গ্রামবাসীদেরকে ছত্রখান করে দেয়। এরপর অভিযুক্তদেরকে থানায় নিয়ে আসা হয়। আক্রান্ত টোটন খানের পরিবার রাতে বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।পুলিশ এই ঘটনায় এক নাবালক সহ ছয় জনকে আটক করেছে।একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
অর্পন মণ্ডল
