মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গতকাল বিজেপি দলের এক খুব বড় নেতা তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রকাশ করেছেন। আমি বলছি, আগে নিজেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রকাশ করুন—দাঙ্গা করে কত মানুষকে মেরেছেন, তার হিসেব দিন। যখন আমেরিকা থেকে শিকল বেঁধে বিমানে করে দিল্লি নিয়ে আসা হল, তখন কোথায় ছিলেন? এটা একটা গর্দভসত্য দল। মানুষের কথা শোনে না, মানুষের নাম কেটে দেওয়াই ওদের কাজ। দাঙ্গাকারী, স্বৈরাচারী, গণতন্ত্র হত্যাকারী—এদের কেউ ভোট দেবেন না। আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আমি একটাই ক্ষমতা চাই—মানুষের ক্ষমতা।”
advertisement
‘দোষ দেবেন না,আমার সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে…’ মুর্শিদাবাদের অশান্তি নিয়ে মুখ খুললেন মমতা
কূটনীতি করে পাকিস্তান পেয়ে গেল ‘পুরস্কার’! হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরানের সঙ্গে বড় চুক্তি, চমকে দিল চাল!
শনিবার নিউ টাউনের একটি হোটেলে বিজেপির পক্ষ থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেন অমিত শাহ। সেই মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গে একসঙ্গে বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে। ওড়িশা ও বিহারের পর এ বার বাংলাতেও বিজেপি সরকার গড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, বহু বছর পর বাংলা, বিহার ও ওড়িশায় একই দলের সরকার হতে চলেছে এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে।
এর পরেই রবিবার মানবাজারের সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, বিজেপির এক বড় নেতা তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রকাশ করেছেন, কিন্তু আগে তাঁদের নিজেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রকাশ করা উচিত। তাঁর অভিযোগ, দাঙ্গা করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মানুষের কথা না শুনে মানুষের নাম কেটে দেওয়াই তাদের কাজ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। বিজেপিকে ‘দাঙ্গাকারী’, ‘স্বৈরাচারী’ এবং ‘গণতন্ত্র হত্যাকারী’ বলেও আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়েও এদিন মন্তব্য করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁকে ব্যান্ডেজ পরে ঘোরার কটাক্ষ করা হচ্ছে উল্লেখ করে মমতা বলেন, চিকিৎসকের রিপোর্ট দেখলেই সত্যিটা স্পষ্ট হবে। গতবারও তাঁকে পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়েই মানুষের কাছে যেতে হয়েছিল বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, তাঁর চরিত্র হননের চেষ্টা চলছে নাকি তাঁকে মারার চক্রান্ত হচ্ছে।
দিল্লির বিজেপি মিথ্যা কথা ছাড়া সত্যি বলে না বলেও অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করে না, বরং মানবিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস থাকলে সারা বছর এই সুবিধা মিলবে, পাঁচ বছর ধরেই তা দেওয়া হচ্ছে এবং আগামীতেও দেওয়া হবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
যুবসাথী প্রকল্প নিয়েও বক্তব্য রাখেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, এটি কোনও ভিক্ষা বা ভাতা নয়, বরং হাতখরচের মতো একটি সহায়তা। ভবিষ্যতে তা জীবিকার পথ তৈরি করবে বলেও দাবি করেন তিনি। যাঁরা এখনও এই সুবিধা পাননি, তাঁদের আশ্বস্ত করে মমতা জানান, কিছু নথিতে গরমিল বা ডুপ্লিকেট সমস্যা রয়েছে, তা ঠিক করে দেওয়া হবে এবং কোনও অসুবিধা হবে না।
খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গ টেনেও বিজেপিকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ, ডিম, মাংস খাওয়ার উপরও বাধা আসতে পারে। বিজেপিকে ‘বক ধার্মিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দাঙ্গা করে এবং মানুষ মেরে তারা ক্ষমতায় এসেছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে আদিবাসী ও মহিলাদের উপর সবচেয়ে বেশি অত্যাচার হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বাংলার মানুষ বাইরে গিয়ে বাংলায় কথা বললে তাঁদের বাংলাদেশি বলা হয় বলেও দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী।
মানবাজারের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক ভাষণ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। বিজেপির ‘চার্জশিট’ রাজনীতির জবাবে তৃণমূলও যে সরাসরি পাল্টা আক্রমণের পথেই হাঁটছে, এদিনের সভা থেকে সেই বার্তাই স্পষ্ট হল।
