রাজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হল নন্দীগ্রাম। প্রতিবার বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের লড়াই দেখতে মুখিয়ে থাকে রাজ্যের সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল। কারণ শেষ কয়েকটি নির্বাচনে এই নন্দীগ্রাম কার্যত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় হয়ে উঠেছে।
advertisement
এবার সেই নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই আরেক শুভেন্দু অধিকারীর। নন্দীগ্রাম মানেই তৃণমূল ও বিজেপির প্রেস্টিজ ফাইট। ২০২১ সাল থেকেই নন্দীগ্রামে বিধানসভা নির্বাচন মানেই টানটান উত্তেজনা। এবার সেই উত্তেজনার পারদ আরও একজন বাড়ল। কারণ এক অদ্ভুত সমাপতন এক অদ্ভুত সমাপতন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের লড়াই এবার শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলির আদর্শের লড়াই নয়।
তবে এর পাশাপাশি এই বিধানসভা আসনে ভোট হয়ে দাঁড়াল নামের লড়াই। কারণ একদিকে রাজ্য রাজনীতির হেভিওয়েট মুখ, বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী অন্যদিকে লড়াইয়ের ময়দানে সবাইকে চমকে দিয়ে হাজির একই নামের এক নির্দল প্রার্থী। ফলে ২৩ এপ্রিল ভোট গ্রহণের দিন এবার লড়াই হতে চলেছে শুভেন্দু বনাম শুভেন্দুর।
রাজ্যে প্রথম দফা বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ৬ এপ্রিল সোমবার। এই ৬ এপ্রিল শুভেন্দু অধিকারী নামে এক নির্দল প্রার্থী নন্দীগ্রামের জন্য মনোনয়নপত্র জমা করেন। ওই নির্দল প্রার্থীর ঠিকানা থেকে জানা যায় তিনি বর্তমানে কলকাতার গড়ফা থানা এলাকার বাসিন্দা। বাবার নাম দুলাল অধিকারী। তাঁর মনোনয়নপত্র সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে জানা যায় বর্তমানে কলকাতার বাসিন্দা হলেও তিনি আদতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নার বাসিন্দা।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে দুই শুভেন্দু অধিকারীর নামের লড়াই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির তমলুক সংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত চৌধুরী বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস ও তার সহযোগী সংস্থা আইপ্যাক সাধারণ ভোটারকে অশিক্ষিত ভেবেছে। নন্দীগ্রামে আমাদের দলের নেতা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে একই নামের ব্যক্তিকে নির্দল প্রার্থী হিসাবে মনোনায়ন পত্র জমা করিয়েছে। সাধারণ ভোটারকে বিভ্রান্তির চেষ্টা। তবে কিছু লাভ হবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পদ্ম ফুল প্রতীকেই মানুষ ভোট দেবে।”
এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের ফোন করা হলে ফোনে পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট সূত্রে আরও জানা যায় শুধু নন্দীগ্রাম নয়। তমলুকেও বিজেপি প্রার্থী হরেকৃষ্ণ বেরার নামেই আরও একজন নির্দল প্রার্থী রয়েছে।






