পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের পালিশ গ্রামের সাধারণ পরিবারে জন্ম শ্যামাপ্রসন্নর। ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির আবহে বড় হওয়া, মা আশালতা লোহার একাধিকবার জেলা পরিষদের প্রার্থী হয়েছেন, কিন্তু সেই সময়ের রাজনৈতিক সন্ত্রাসে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে তাঁকে। সেই লড়াইয়ের সাক্ষী ছিলেন কিশোর শ্যামাপ্রসন্ন।
advertisement
২০০৩ সালে প্রথম ভোটার হওয়ার পাশাপাশি মায়ের কাউন্টিং এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব সামলান তিনি। পরবর্তীতে পড়াশোনার টানে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় পাড়ি। কলকাতায় যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী ল কলেজে আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতিতে। প্রথম বর্ষেই কলেজ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটে জয়, যা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর একের পর এক জয়, কখনও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, কখনও তীব্র লড়াইয়ে। ছাত্র রাজনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলে ধীরে ধীরে সংগঠনের ভরসাযোগ্য মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।পরে রাজ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। একইসঙ্গে আইন পেশায় যুক্ত হন।
রাজনৈতিক সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করতে করতে উঠে আসেন নেতৃত্বের সারিতে। এসসি, এসটি, ওবিসি সেলের সম্পাদক, যুব সংগঠনের সহ-সভাপতি প্রতিটি ধাপেই নিজের জায়গা তৈরি করেন। তারপর ২০১৮ সালে মায়ের হারানো জমিতেই লড়াই, জেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়লাভ করে যেন অতীতের ক্ষত কিছুটা ভরাট করেন। এরপর বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ থেকে ২০২৩ সালে জেলা পরিষদের সভাধিপতি, দায়িত্ব বাড়তে থাকে, সঙ্গে বাড়ে মানুষের আস্থা। তবে সাফল্যের মাঝেও গ্রামকে ভুলে যাননি শ্যামাপ্রসন্ন।
বর্ধমান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাতেই ফিরতে হয় নিজের গ্রামে। কারণ, তাঁর কথায় “মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকা আমার দায়িত্ব।” নিজের পরিবার, এমনকি ছোট মেয়ের কষ্টের কথা মাথায় রেখেও এই পথেই হেঁটেছেন তিনি। রাজনীতির ময়দানে তাঁর অনুপ্রেরণা বাবার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। একসময় বিধানসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও হেরে যাওয়া বাবা জীবনের শেষ পর্যন্ত সেই আক্ষেপ বয়ে বেড়িয়েছেন। ২০১৬ সালে তাঁর প্রয়াণের পর সেই স্বপ্নই আজ ছেলের লড়াইয়ের মূল শক্তি।
এবার আউশগ্রাম বিধানসভা থেকে প্রার্থী শ্যামা প্রসন্ন লোহার। তাঁর দাবি, উন্নয়ন আর সংগঠনের শক্তিতে জয় অনিবার্য। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিও সম্মান রেখেই তিনি লড়াই করতে চান। অন্যদিক শ্যামা প্রসন্ন লোহার কে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে খুশি ব্লক নেতৃত্বরাও।
আউশগ্রাম ২ ব্লকের সভাপতি আব্দুল লালন শেখ বলেন, “এই প্রার্থীকে পেয়ে আমরা চরম খুশি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনেক ধন্যবাদ। এবারে আমরা অনেক বেশি ভোটেই জিতব। “জঙ্গলমহল ঘেরা আউশগ্রামকে পর্যটনের মানচিত্রে আরও উজ্জ্বল করে তোলার স্বপ্নও দেখাচ্ছেন শ্যামাপ্রসন্ন লোহার। তাঁর বিশ্বাস, পর্যটন বাড়লে বদলাবে এলাকার অর্থনীতি, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান। গ্রামের মাটিতে পা রেখে, সংগ্রামের পথ পেরিয়ে উঠে আসা এক মানুষের গল্প, যেখানে রাজনীতি শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং এক অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের লড়াই।
বনোয়ারীলাল চৌধুরী





