এক সময় পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরের বেশ কিছু শিল্পী কয়েক দশক ধরে যুক্ত ছিলেন দেওয়াল লিখন আর সাইনবোর্ড তৈরির শিল্পের সঙ্গে, এর উপর নির্ভর করেই চলত সংসার। অনেক নতুন নতুন শিল্পী এগিয়ে আসছেন এই কাজ শিখতে। দোকানের নাম, বিভিন্ন বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে সিনেমার পোস্টার সবই ছিল হাতের কারুকাজ। এক এক সময় নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত কাজ করতেন শিল্পীরা। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে বদলাচ্ছে সেই চেনা ছবি, সব কিছু যেন বন্দি মাউসের ক্লিকে। হাতে আঁকা বিজ্ঞাপনের পরিবর্তে জায়গা করে নিয়েছে ফ্লেক্স আর সাইনবোর্ডের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ডিজিটাল বোর্ড ও স্টিকার ফলে অস্তিত্ব সংকটে ধুঁকছে সাইনবোর্ড ও দেওয়াল লিখন শিল্প।
advertisement
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে সংসার চালাতে রং তুলি ছেড়ে শিল্পীদের কেউ চালাচ্ছেন টোটো কেউ বা করছেন অন্য কাজ।তবে সাধারণ সময়ে কাজ না থাকলেও, নির্বাচনের মরসুম এলেই কিছুটা বাড়ে এই শিল্পীদের কদর। ডাক পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়াল লিখনের জন্য। তাই সারা বছর এই মানুষগুলি চেয়ে থাকেন ভোটের নির্ঘণ্টের দিকে। তাঁদের আক্ষেপ যদি সারাবছরই নির্বাচনের মত ব্যস্ততা থাকত, তবে হয়ত এই শিল্পকলাটুকু প্রাণ ফিরে পেত।
শিল্পী অসীম কংসবনিক বলেন, ৩০ বছর ধরে কাজ করছি কিন্তু আগের মত আর চাহিদা নাই এই শিল্পের। আগে প্রচুর কাজ ছিল।এক একদিন খাওয়ার সময় পেতাম না, দিন রাত কাজ করে শেষ করা যেত না। কিন্তু এখন নির্বাচনের সময়টুকুই একটু কাজ পাই। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারেও এখানে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে ডিজিটাল স্টিকার।
আধুনিক ডিজিটাল প্রিন্টিং হয়ত বাঁচাচ্ছে সময়, কিন্তু কেড়ে নিচ্ছে অসীম কংসবণিকদের মত বহু শিল্পীর রুটিরুজি।আর ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এই শিল্প। ফলে বাধ্য হয়ে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বাঁচতে হচ্ছে শিল্পীদের।





